
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৫, ০৭:৫৬ পিএম
রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় এক নারীর ব্যাগ ছিনতাই ও তাকে গাড়ির সঙ্গে টেনেহিঁচড়ে আহত করার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।
মঙ্গলবার পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখে ফৌজদারী কার্যবিধি এর ১৯০(১) (সি) ধারায় আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার পারভীন। আগামী ২০ জুলাই এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আপেল মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
আদেশে বলা হয়েছে, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে প্রতীয়মান হয় যে, দণ্ডবিধির ৩৯২ (ডাকাতি), ৩৭৯ (চুরি), ৩২৫ (গুরুতর আঘাত প্রদান) এবং ৩৪ (একাধিক ব্যক্তির সমবেত অপরাধ) ধারার আওতায় একটি গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিষয়টি তদন্ত করা অপরিহার্য। এ প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরের পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপারকে আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ভুক্তভোগী নারীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং ভিডিওসহ প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে ১৭৩ ধারার অধীনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়- সিদ্ধেশ্বরীর গ্রিনল্যান্ড টাওয়ারের সামনে এক নারী রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। চলন্ত একটি সাদা প্রাইভেটকার থেকে এক ছিনতাইকারী হঠাৎ জানালা দিয়ে তার ভ্যানিটি ব্যাগ টেনে নেয়। সঙ্গে সঙ্গে ওই নারী রাস্তায় পড়ে যান এবং ছিনতাইকারীরা তাকে গাড়ির সঙ্গে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকে। পুরো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিভাবে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে এমন একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটে এবং আশপাশের লোকজন পরে তাকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন। ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা ও পুলিশ রেগুলেশন বুক, ১৯৪৩-এর বিধি ২৪৩/২৪৪ অনুযায়ী, এমন আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে থানা কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক মামলা দায়ের করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু পুলিশের নির্লিপ্ততা ও ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে আদালত নিজ উদ্যোগে মামলা গ্রহণ করেন।