
প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৫, ১১:০১ এএম
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। আর এ খুশিকে সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরেন সবাই। তবে টিকিট না পাওয়ায় কারও কারও স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। ঈদের আগে ফেরা হয় না প্রিয়জনের কাছে। সে কারণে ঈদ পরবর্তী দিনগুলোকে বাড়ির পথে যাত্রার দিন হিসেবে বেছে নেন তারা। সে অনুযায়ী, আজ তৃতীয় দিনেও অনেকেই রাজধানী ছাড়ছেন। আবার ফিরছেন অনেকেই।
বুধবার (২ এপ্রিল) ভোর থেকে রাজধানীর সদরঘাট, বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে অনেকে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে যাচ্ছেন রাজধানীর বাইরে।
এ সময় কুষ্টিয়াগামী যাত্রী মিলন মাহমুদের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।
তিনি বলেন, ঈদে অফিস ডিউটি করেছি। আগামী তিন-চারদিন ছুটি কাটাবো। সেজন্য মায়ের কাছে যাচ্ছি। সব ঠিক থাকলে ছুটি কাটিয়ে আবারও কোলাহলের নগরীতে ফিরবো।
পরিবার-পরিজন নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে যাচ্ছেন ব্যবসায়ী সুমন মাহমুদ। সেখান থেকে যাবেন সুন্দরবনে।
তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে ব্যবসা ভালো চলে না, তাই ভাবলাম পরিবার নিয়ে একটু ঘুরে আসি। সে কারণে সুন্দরবনে যাচ্ছি।
গাবতলী বাস টার্মিনালের মতো সদরঘাটের চিত্রও একই।
লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বছর ছুটি বেশি হওয়াতে সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে এখনও ঢাকা ছাড়ছে। আবার কেউ কেউ জরুরি কাজে ঢাকায় ফিরছেন।
গাবতলী বাস টার্মিনাল ও সদরঘাটের পর রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়েও দেখা গেল, কেউ ফিরছেন আবার কেউ পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকার বাইরে যাচ্ছেন।
এদিকে জরুরি কাজে ও ভোগান্তি এড়াতে ছুটির আগেভাগে অনেকেই ঢাকায় ফিরছেন।
যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ঢাকায় আসা দূরপাল্লার গাড়িগুলো যাত্রাবাড়ী হয়ে সায়েদাবাদে এসে যাত্রী নামাচ্ছে।
সপরিবারে সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে বাস থেকে নেমেছেন শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রামে বাবা-মায়ের সঙ্গে সপরিবারে ঈদ করতে গিয়েছিলাম। আমি একটি ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে কাজ করি। কাল থেকে আমার অফিস খুলছে। তাই আজকেই চলে আসতে হলো।
বাস মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন ঈদ করতে গ্রামে যাওয়া নগরবাসী। আগামী কয়েক দিন এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
তারা আরও জানান, রাজধানীতে ফেরার পাশাপাশি কিছু মানুষ এখনও গ্রামে যাচ্ছেন। এরপর তারা ছুটিয়ে কাটিয়ে ফিরবেন।