• ঢাকা শুক্রবার
    ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

২০ বছরেও চালু হয়নি বৃত্তাকার নৌপথ

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২১, ১০:৩৪ পিএম

২০ বছরেও চালু হয়নি বৃত্তাকার নৌপথ

তরিকুল ইসলাম সুমন

রাজধানীতে যানবাহনের চাপ কমাতে চারপাশ ঘিরে বৃত্তাকার নৌপথ চালুর উদ্যোগ ২০০০ সালে নেয়া হলেও তা বাস্তাবয়ন করা সম্ভব হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় বৃত্তাকার নৌপথে সদরঘাট থেকে গাবতলী পর্যন্ত ২০০৪, ২০১০, ২০১৩ ২০১৪ সালে চার দফা ওয়াটার বাস নামানো হলেও তা অদৃশ্য কারণে বন্ধ হয়ে যায়।

ফের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বৃত্তাকার নৌপথ চালুর চেষ্টা করছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। নানা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথ নিয়ে কেবিনেটে এবং কেবিনেটের বাইরে আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ে তাদের টঙ্গীটি দুই মিটার উচু করবে বলে জানিয়েছে। ছাড়াও দিয়াবাড়ীর কাছে আরও দুটি ব্রিজ উচু করার জন্য বলা হয়েছে। জন্য প্রয়োজনীয় কাজ চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) মো. আলাউদ্দীনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি ঢাকার চারপাশে নৌপথের ১৫টি সেতুর উচ্চতা স্ট্যান্ডার্ড হাই ওয়াটার লেভেল অনুযায়ী পরিমাপ করেছিল। ২০১০ সালে তাদের দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩টি সেতুর কোনোটিই নৌযান চলাচল করার মতো উচ্চতায় নেই।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সিটি নিউজকে বলেন, ২০০০ সালে উদ্যোগ নেয়া হলেও মূলত কাজ শুরু হয় ২০১১ সাল থেকে। তার পরেই বিভিন্ন পর্যায়ে বৃত্তাকার নৌপথ নিয়ে কাজ করেছি। আমরা ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৯৫ কিলোমিটির নৌপথ খনন করেছি। তবে প্রতিবন্ধক হিসেবে রয়েছে রেলওয়ে এবং সড়কের বেশ কিছু নিচু ব্রিজ। ছাড়াও নদীর পানি দুষণ সমস্যা রয়েছে। এগুলো দূর করতে পারলে চালু হবে ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথ।

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিকভাবে এই বৃত্তাকার নৌরুট চালুর জন্য আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যেই ড্রেজিং কাজ শেষ হয়েছে। পানিদূষণ রোধে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। রুটের নিচু ব্রিজগুলোও উচু করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অচীরেই ঢাকাবাসীকে বৃত্তাকার নৌপথ উপহার দেয়া সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তথ্যানুযায়ী, ঢাকা শহরের চারদিকে বৃত্তাকার নৌপথে ২১টি সড়ক রেলসেতু রয়েছে। এর মধ্যে ১৩ সেতুরই উচ্চতা কম। সেতুগুলো নির্মাণ করেছে সওজ, রেলওয়ে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর।

বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেন, সেতু নির্মাণকারী সংস্থাগুলো নৌযান চলাচলের কথা বিবেচনা করেনি। ছাড়া আগের সরকার বা বিআইডব্লিউটি-এর পক্ষ থেকেও নৌপথ সচল করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, পুরো নৌপথের সুবিধা নিতে উচ্চতা কম থাকা সেতু ভেঙে ফেলতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরোনো সেতু থেকে নতুন রেলসেতুর উচ্চতা বাড়ানো হয়েছে দশমিক ৫৬ ফুট। এই উচ্চতা অন্তত ১৯ ফুট বাড়িয়ে ধরার সুপারিশ করেছিল সরকারের কমিটি। রেলসেতুর উচ্চতা প্রতি ২০০ মিটারে মিটার বাড়ানো যায়। এই সেতুর উচ্চতা বাড়াতে গেলে টঙ্গী স্টেশনের উচ্চতাও বাড়াতে হবে। পুরো রেললাইন ধরেই তখন পরিবর্তন আনতে হবে। তাই স্ট্যান্ডার্ড হাই ওয়াটার লেভেল থেকে সেতুর উচ্চতা ২৫ ফুট বাড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ক্ষেত্রে সেতুটির দুই পাশে ল্যান্ডিং স্টেশন করা যেতে পারে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র আরও জানায়, বৃত্তাকার নৌপথ চালু করতে আমিনবাজার বেইলি সেতু, আশুলিয়া সেতু, প্রত্যাশা সেতু, কামারপাড়া সেতু-, কামারপাড়া সেতু-, টঙ্গী সড়কসেতু-, টঙ্গী সড়কসেতু-, টঙ্গী রেলসেতু-, টঙ্গী রেলসেতু-, তেরমুখ সেতু, পূর্বাচল সেতু, ইছাপুরা সেতু, চনপাড়া সেতু, কাউন্দিয়া সিন্নিরটেক সেতু, রুস্তমপুর সেতু এবং উত্তরা ১৬ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন দেওয়ান বেড়িবাঁধ সেতু ভেঙে ফেলা প্রয়োজন।

তরিকুল/নূর/নির্জন

জাতীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ