• ঢাকা শুক্রবার
    ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

লকডাউনে রিমঝিম বৃষ্টি

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২১, ১১:৫৩ এএম

লকডাউনে রিমঝিম বৃষ্টি

তৌহিদুর রহমান

দেশে চলমান সর্বাত্মক লকডাউনের আজ দ্বিতীয় দিন। শুক্রবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনও বটে। লকডাউন শুরুর দিন থেকেই বৃষ্টি ঝড়ছে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে। এ যেন লকডাউনের সঙ্গে রিমঝিম বৃষ্টির সন্ধি।

দ্বিতীয় দিনও ভোর থেকে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। ভাব দেখে মনে হয় যেন লকডাউন বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন বৃষ্টির কাঁধে। বিরতিহীনভাবে অঝোর ধারায় ঝড়তে থাকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। এর মাঝে দু-এক মিনিটের বিরতি নিলেও বর্ষণ অব্যাহত থাকে।

বৃষ্টি এবং বিধিনিষেধ সব মিলিয়ে রাজধানীর সড়কে মানুষের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ-ই। বৃহস্পতিবারের মতো শুক্রবার সকাল থেকেও ব্যক্তিগত যানবাহন তেমন একটা দেখা যায়নি। তবে বিভিন্ন সড়কে অল্প কিছু রিকশা, মাইক্রোবাস, ট্রাক, কার্ভাড ভ্যান ও পিকআপ চলাচল করতে দেখা গেছে। 

এ ছাড়া প্রয়োজনে বৃষ্টিতে ভিজে, কেউবা ছাতা হাতে পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। রাজধানীর গুলশান এলাকায় কথা হয় পথচারী মাহফুজের সঙ্গে।  

তিনি সিটি নিউজকে বলেন, বৃষ্টির কারণে সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউন অনেকটা কার্যকর বলেই মনে হচ্ছে। রাস্তায় মানুষ নেই বললেই চলে। আগের লকডাউনে রাস্তাঘাট এতটা নিরব ছিল না। এবার মাঠে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী থাকায় সত্যি সত্যি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ। আবার দুই দিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে, এর মধ্যে মানুষ বের হয়ে করবে কি।

বাড্ডা লিংক রোড এলাকায় কথা হয় এক রিকশা যাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, সড়কে যানবাহন না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে রিকশায় চলাচল করতে হচ্ছে। তবে ভাড়া বেশি চাচ্ছে। ৩০০ টাকা রিকশা ভাড়ায় কুড়িল বিশ্বরোড যাচ্ছি। যেহেতু গণপরিবহন নেই, তাই বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিকশায় যাচ্ছি। এ পর্যন্ত সড়কে  মানুষের খুব বেশি উপস্থিতি দেখতে পাইনি। গতকালের তুলনায় আজ যানবাহনও কম। 

রিকশা চালক আবুল হোসেন বলেন, লকডাউনে রিকশা চালালেও আগের মতো যাত্রী নাই। তার ওপর বৃষ্টিতে ভিজে যাত্রী টানতে হচ্ছে। তাই একটু ভাড়া বেশি নিচ্ছি।

দেশে বাড়ছে করোনাভাইরাসের তাণ্ডব। ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধকল্পে সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে এর কার্যক্রম। জনগণকে বিধিনিষেধ মানাতে মাঠে নেমেছে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী এমনকি নৌবাহিনীও। দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে নৌবাহিনী। 

প্রজ্ঞাপন অনুসারে, কঠোর লকডাউনে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহনসহ সব ধরনের যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচলও বন্ধ।   

গতকাল সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথমদিনের মতো আজও বিভিন্ন সড়কে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। 

বৃহস্পতিবার বিধিনিষেধ অমান্য করায় রাজধানীতে ৪৯৭ জনকে আটকও করা হয়। যার মধ্যে ২৫৮ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়েছে ৮ জনকে। বাকিদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। 

টিআর/সবুজ/এএমকে

জাতীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ