• ঢাকা শুক্রবার
    ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

গান শুনিয়ে বিক্ষোভ দমন!

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২, ০২:১২ এএম

গান শুনিয়ে বিক্ষোভ দমন!

হাসিব আবেদীন

বিক্ষোভ দমন করতে সরকার কী না করছে! লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার, এমনকি গ্রেফতার করছে। আবার পরিস্থিতি খুব জটিল হলে তারা সেনাবাহিনী নামিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু গান শুনিয়ে কান ঝালাপালা করে বিক্ষোভ দমন করা গেলে কেমন হয়।

এমন তাজ্জব ঘটনাটি ঘটেছে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে। যেখানে করোনা টিকা ও লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেশটির পার্লামেন্টের সামনে উপস্থিত হয়েছে কয়েকশ বিক্ষোভকারী।

ঘূর্ণিঝড় ডভির প্রভাবে বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে টানা ২য় সপ্তাহের মতো কোভিড টিকা বিরোধী বিক্ষোভে কার্যত অবরুদ্ধ রয়েছে পার্লামেন্ট ভবন।

৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া টিকাবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর সড়গুলোতে লেগে আছে তীব্র যানজট। এর সঙ্গে কিছু সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। তারা কানাডায় চলমান ‘ফ্রিডম কনভয়’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজধানীর সড়কে গাড়ি, ভ্যান ও বাস পার্ক করে হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে।

গান শুনিয়ে সেই বিক্ষোভ দমানোর বুদ্ধি এসেছে পার্লামেন্ট স্পিকার ট্রেভর ম্যালার্ডের মাথায়। তিনি পার্লামেন্টের সামনে সাউন্ড বক্স দিয়ে খুব জোরে করোনার সতর্কবার্তা ও ৯০ দশকের মেনিলোর জনপ্রিয় গান দিয়ে বিক্ষোভকারীদের বিরক্ত করতে ধারণা দিয়েছেন।

সোমবার নিউজিল্যান্ড সরকার পার্লামেন্ট থেকে 'কনভয় ফর ফ্রিডম' বিক্ষোভকারীদের সরাতে ব্যারি মেনিলোর জনপ্রিয় গান ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি ১৯৯০ সালে জনপ্রিয় হওয়া লেল ডি রিও এর 'মার্সেনো' ব্যবহার করে রিতিমত বিরক্ত ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীদের। 

দেশটির জনগণ বিক্ষোভকারীদের ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করেছে। ওয়েলিংটনে মদ কোম্পানি হান্টার এন্ড কালেক্টরসের দোকানে কাজ করা চেরলেট হল আল জাজিরাকে বলেছেন ‘দোকানটির ভবিষ্যত নিয়ে আমি চিন্তিত, এর মধ্যে বিক্ষোভ করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। সংখ্যায় কম কিছু বোকা, স্বার্থান্বেষী মহল এই অযৌক্তিক আন্দোলন উসকে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার সবটুকু দিয়ে আমাদের জীবন সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছে। আমি টিকা নিয়েছি এবং সরকারের টিকা ও করোনা নিয়ন্ত্রণ নীতি নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। কারণ সারা বিশ্বে অনেক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।’

তিনি অভিযোগ করেছেন এই বিক্ষোভকারীরা ওয়েলিংটনে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছে। 

নিউজিল্যান্ড পুলিশ বিক্ষোভের কারণ নিয়ে বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছে যার কোনোটাই যুক্তিযুক্ত নয়। পার্লামেন্ট থেকে লোক অপসারণের জন্য পলিশ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১২২ জনকে গ্রেফতার করেছে। যাদের সর্বোচ্চ ৩ মাস কারাদণ্ড থেকে ১০০০ নিউজিল্যান্ড ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

আর ওয়েলিংটন সিটি কাউন্সিল ১০০টির বেশি অবৈধ গাড়ি পার্ক করার মামলা দিয়েছে। তারা বলেছে, পার্লামেন্টে আশেপাশে এভাবে গাড়ি পার্ক করার ঘটনা বেশ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তিনি টিকা বিরোধীদের এমন আচরণকে ভয়াবহ ও অসভ্য বলেছেন।

বিক্ষোভের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা নিয়ে এক বিক্ষোভকারী নিকি বুথ গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি ক্যামব্রিজ থেকে ছয় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে ওয়েলিংটন এসেছেন 'ফ্রিডম কনভয়' তে অংশ নিতে।

'আমি যে দেশে বড় হয়েছি সে দেশ সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক হোক। শরীর আমার, তাই আমিই সিদ্ধান্ত নিব আমার শরীরে কি দিব। আমি মুক্তভাবে চলাফেরা করতে চাই, সবার সঙ্গে মুক্তভাবে মিশতে চাই, কেউ আমাকে কোনো কিছুতে জোর করুক তা আমি চাই না।'

কিছুদিন আগে পুলিশ এক নারীকে নগ্ন অবস্থায় টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। কিউই পুলিশ গণমাধ্যমে জানিয়েছে সেই নারীকে পুলিশ নগ্ন করেনি। তিনি গ্রেফতার হওয়ার কিছু আগে নগ্ন হয়েছিলেন।

কিউই প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আর্ডেন গণমাধ্যমে বলেছে 'প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে কিন্তু আন্দোলন যদি জনজীবন ব্যাহত করে, ব্যবসা বন্ধ হয়, হাসপাতাল বা অন্য জরুরি সেবা দিতে সমস্যা হয় তাহলে পুলিশ তো পদক্ষেপ নেবেই।' 

নিউজিল্যান্ডে করোনার ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছিল। ফলে সরকার সীমান্ত ও আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। রবিবার দেশটিতে এক দিনে করোনায় ৫৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

আর্কাইভ