• ঢাকা শুক্রবার
    ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

পশ্চিমারা রাশিয়ার কথা শুনছে না দাবি ক্রেমলিনের

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২২, ০৩:২৭ এএম

পশ্চিমারা রাশিয়ার কথা শুনছে না দাবি ক্রেমলিনের

হাসিব আবেদীন

ক্রেমলিন দাবি করেছে, পশ্চিমা শক্তিগুলো চলমান ইউক্রেন সংকট সমাধানের দায়িত্ব তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোর প্রতি মস্কোর দাবি জানানোর কয়েক সপ্তাহ পর তারা বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) এমন প্রতিক্রিয়া জানায়।


ডিসেম্বরে, ইউক্রেন সীমান্তে সৈন্য সমাবেশের পর রাশিয়া পূর্ব ইউরোপ থেকে ন্যাটোর বাহিনী ও অস্ত্র প্রত্যাহার করতে বলে। সেই সঙ্গে সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র ইউক্রেনকে স্থায়ীভাবে সদস্য না করার জন্য ন্যাটোকে আহ্বান জানায়।


কিন্তু বুধবার মস্কোতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে দেয়া সেই দাবিগুলোর লিখিত প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ওয়াশিংটন তার প্রতিশ্রুত ন্যাটোর ‘উন্মুক্ত দ্বার’ নীতি বজায় রাখবে।


এর কিছুক্ষণ পর, মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জানায় তারা ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমান্তরালভাবে’ এগিয়ে যাবে। 


আপাতদৃষ্টে মনে হয়েছে ট্রান্স-আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটকে সীমার মধ্যে রাখতে রুশ পদক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা মস্কোর হুমকি মোকাবেলা করতে এবং ক্রেমলিনের সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং আস্থা-নির্মাণের পদক্ষেপের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করতে চায়।


সব দেখে মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক এখন কোন পথে হাঁটছে! সাম্প্রতিক মার্কিন ও ক্রেমলিনের বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়া কেউ ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেনি। তবে এটুকু স্পষ্ট যে ন্যাটোর ভবিষ্যতের সম্প্রসারণ সীমিত করার জন্য ক্রেমলিনের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।


মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, মার্কিন প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিনের উদ্বেগের প্রতি একটি ‘নীতিগত এবং বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন’ করা হয়েছে। তা সমাধানের জন্য একটি কূটনৈতিক পথ নির্ধারণ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।


মস্কো বলেছে, মার্কিন প্রতিক্রিয়াটি তাদের প্রধান দাবি বিবেচনায় নিতে ব্যর্থ হয়েছে, তবে এটি ওয়াশিংটন এবং ন্যাটোর জমা দেয়া নথিগুলো সাবধানতার সঙ্গে দেখবে।


ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, নথিগুলো এখন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে রয়েছে এবং বিশ্লেষণ করতে সময় লাগবে।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ সংলাপের আশা জাগিয়ে তুলছে।


এদিকে ইউক্রেন ফেব্রুয়ারির শুরুতে রাশিয়ার কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাকে ‘সুসংবাদ’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। 


ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা কোপেনহেগেনে ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সুসংবাদটি হলো, উপদেষ্টারা দুই সপ্তাহের মধ্যে বার্লিনে দেখা করতে সম্মত হয়েছেন। যার অর্থ দাঁড়ায় রাশিয়া অন্তত আগামী দুই সপ্তাহের জন্য কূটনৈতিক পথে থাকতে পারে।’


বুধবার প্যারিসে ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাশিয়ান ও ইউক্রেনের জেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর কুলেবা বলেছেন আলোচনার ফলে কোনো বড় পরিবর্তন না হলেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি ভালো।


ক্রেমলিন বলেছে, এটা স্পষ্ট যে মস্কোর নিরাপত্তা প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন রাশিয়ার প্রধান দাবিগুলো বিবেচনায় নেয়নি।


পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বলা যাবে না যে আমাদের মতামতকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।’


ক্রেমলিনের মুখপাত্র অবশ্য বলেছিলেন, সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি মস্কো এবং ওয়াশিংটন উভয়ের বিবেচনায় রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার প্রধান দাবিগুলো অগ্রহণযোগ্য বলে ওয়াশিংটন এবং ন্যাটো যে বিবৃতি দিয়েছে তা সম্পর্ক উন্নয়নে খুব একটা আশার বাণী দিচ্ছে না। তিনি বর্তমান উত্তেজনাকে স্নায়ুযুদ্ধের যুগের সমান বলেও বর্ণনা করেন।


রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই অচলাবস্থা সমাধানের জন্য কূটনীতির আশ্রয় নিতে হবে। সাবেক রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, তিনি রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন।


আরআইএ নভোস্তি সংবাদ সংস্থার মতে, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেদভেদেভ বলেছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজনৈতিক-কূটনৈতিক উপায়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া।


পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র, মেদভেদেভ বলেছিলেন, ইউক্রেন নিয়ে মস্কো এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপড়েন একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতি হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো এই সমস্যা আরও প্রকট করে তুলবে।


হাসিব/এম. জামান


আর্কাইভ