
প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৫, ১১:২২ পিএম
পটুয়াখালী জেলার স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মিরাজুল ইসলাম মিরাজের বদলি আটকাতে ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক ও কর্মচারীদের সাজানো মানববন্ধন কর্মসূচী পালনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ওই মানববন্ধনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বাউফল উপজেলা শাখার (একাংশ) মো. মেহেদীর বক্তব্য প্রদানের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাউফল পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব সাদিকুজ্জামান রাকিব। তিনি বলেন, ফ্যাসীবাদের দোসররা এখনো সক্রিয়, তারই অংশ এই মানববন্ধনের নামে সাজানো নাটকে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতার বক্তব্য। এটা কোনোভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এঘটনা নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা।
সাবেক শ্রমিকদল নেতা মো. হানিফ বলেন, সরকারি চাকুরী বদলি হবে এটা স্বাভাবিক বিষয়, এখন ক্লিনিকের স্বার্থ নষ্ট হবে তাই লোকজন দিয়ে মানববন্ধনের নামে নাটক করছে। আমরা এধরনের মানববন্ধনের নামে নাটকের নিন্দা জানাই।
একই ধরনের বক্তব্য দেন বাউফল উপজেলা শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, আপনারা দেখেন কারা কারা ছিলো মানববন্ধন কর্মসূচীতে, যে সকল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডা. মিরাজ চেম্বার করতো সেই ডায়াগনাস্টিক সেন্টারের মালিক, লোকজন ও কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ওই মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। ওই মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বাউফল উপজেলার শাখার (একাংশ) সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেহেদী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, ছাত্রলীগের দাশপাড়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. আরিফুর রহমানের ভগ্নিপতি হাসপাতাল সড়কে চা ও স্টেশনারী মালামাল বিক্রেতা মো. আনোয়ার হোসেন।
মানববন্ধন কর্মসূচীতে বাউফল পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক আবদুল্লাহ আল ফাহাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে একটি সূত্র জানায় ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল ফাহাদ ও স্বাচিপ নেতা ডা. মিরাজুল ইসলাম মিরাজ ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এবিষয়ে আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, মিরাজ স্বাচিপ নেতা এটা আমার জানা নেই।
স্বাচিপ নেতার বদলি আটকাতে ছাত্রদল নেতার সম্পৃক্ততার বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী দোসরদের পূর্নবাসন করা বা তাদের পাশে দাঁড়ানোর কোন সুযোগ নেই। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করলে দল অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচীতে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাউফল নিরাময় ক্লিনিকের পরিচালক এবিএম মিজানুর রহমান, পরিচালক মুশফিকুর রহমান, ডা. মিরাজের আত্মীয় স্বজন।এছাড়াও ওই মানববন্ধন কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বাউফল নিরাময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবদুর রউফ বলেন, বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া আর সাজানো মানববন্ধনের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।