
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২৫, ০৭:০৩ পিএম
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে অস্ত্রধারী ডাকাতদের ধরতে গিয়ে পুলিশের সাথে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ডাকাত সদস্যদের ছোড়া গুলিতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই নারীসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে তিনটায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জেলা পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। বিষয়টি জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আসাদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- ডাকাত দলের সদস্য মোঃ মাজের আলী ওরফে খোকা (৪৮), আব্দুল মাজেদ (২৬) ও প্রশান্ত রবিদাস (২৭)। এছাড়া পুলিশের কাজে বাঁধার অভিযোগে মোমেনা খাতুন (২৩) স্মৃতি আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে কোদাল, নগদ ৪১ হাজার টাকা, দুটি বটি, দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর গ্রামের আবু হায়াতের বাড়িতে ১৫ থেকে ১৬ জনের ডাকাতদল অবস্থান করছে। খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের ওসি মোঃ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, ক্ষেতলাল ও কালাই থানা পুলিশ রাত ৯টার পর ঘটনাস্থলে যায়। ডাকাতদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ সদস্যরা আবু হায়াতের বাড়ির চার পাশে ঘেরাও করে রাখেন। পুলিশ সদস্যরা ডাকাত দলের সদস্যদের আত্নসমর্পনের আহ্বান জানান। ডাকাত দলের সদস্যরা পুলিশেে উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে।
একপর্যায়ে পুলিশ পিছনে হটিয়ে গিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের ওসি উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে আরও অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স চায়। এরপর জয়পুরহাট সদর থানা, পাঁচবিবি থানার জয়পুরহাট পুলিশ লাইনসের ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশদের লক্ষ্য করে ডাকাতেরা আবারও এলোপাতাড়ি গুলি করে ৮-১০ জন ডাকাত পালিয়ে যান। এসময় ডাকাত দলের গুলিতে কনস্টেবল মিজানুর রহমান আহত হন। আত্নরক্ষার্থে ১২ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে পুলিশ। পুলিশের পাল্টা গুলিতে ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা বাড়ির ভেতরে লুকিয়ে পড়েন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
ডিবি পুলিশের ওসি মো: আসাদুজ্জামান বলেন, বৃহস্পতিবার সারারাত অভিযান চালানো হয়। ডাকাতদের আত্নসমর্পন করতে বলা হয়েছিল। ডাকাতরা আত্নসমর্পন না করে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে। এতে মিজানুর রহমান নামে এক কনস্টেবল গুলিতে আহত হয়েছেন। এঘটনায় ক্ষেতলাল থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।