
প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২২, ০৯:৫০ এএম
দিনাজপুর ঘোড়াঘাট উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার পিতা বীরমুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ হত্যা চেষ্টা মামলা ৩৩ কার্যদিবসে স্বাক্ষ্য পর্ব ও আসামী পরীক্ষা শেষে আগামী ১০ আগস্ট উভয় পক্ষে যুক্তিতর্কে শুনানির জন্য বিচারক দিন ধার্য্য করেছেন।
দিনাজপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মনিরুজ্জামান মঙ্গলবার (২ অগাস্ট) দুপুর ২টায় তার কার্যালয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আজ মঙ্গলবার এই চাঞ্চল্যকর মামলার নির্ধারিত তারিখে জামিনে মুক্ত একমাত্র আসামী ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের বরখাস্তকৃত মালি রবিউল ইসলাম উচ্চতর আদালত থেকে জামিনে মুক্ত থেকে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির ছিলেন। আজ এই চাঞ্চল্যকর মামলার ৩৪২ ধারায় আসামী পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত দিন ধার্য্য ছিল।
বিচারক দিনাজপুরের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাইনুদ্দিন সিদ্দিকী আসামী রবিউল ইসলামকে মামলার ৬৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য শ্রবণের বিষয় জিজ্ঞাসাবাদ করে তিনি আসামীকে বলেন, এই পর্যায় রবিউল ইসলাম দোষী কিনা? তার প্রশ্নের উত্তরে রবিউল বলেন, আমি নিরাপরাধ আপনার নিকট বিচার প্রার্থনা করছি। বিচারক তাকে বলেন, কোনো সাফাই সাক্ষী রবিউল দেবেন কিনা না? এ উত্তরে সে কোনো সাফাই সাক্ষী দেবেনা বলে জানান।
সূত্রটি জানায়, এই চাঞ্চল্যকর মামলার সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় বিচারক আগামী ১০ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তি তর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য্য করেন। পুলিশের সূত্রটি জানায়, যুক্তি তর্ক শুনানিতে প্রথমে বাদী পক্ষে নিয়োজিত সরকারি কৌশলী মামলার সার্বিক বিষয় যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করবেন। এরপর আসামী রবিউলের পক্ষে যুক্তি তর্ক উপস্থাপন হবে। যুক্তি তর্ক শুনানি শেষ হলে রায় ঘোষনার জন্য নির্ধারিত তারিখ নির্ধারণ হবে।
এই মামলার দায়িত্বে নিয়োজিত স্পেশাল পিপি. শামসুর রহমান পারভেজ জানান, চলতি মাসেই শেষের দিকে মামলাটির রায় ঘোষণা পারে। সেভাবেই রাষ্ট্র পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর মধ্য রাতে জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে তার সরকারি বাসভবনে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আঘাত করে আসামী পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বড় ভাই পুলিশ পরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন শেখ বাদী হয়ে পর দিন ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দিনাজপুর ডিবি পুলিশ এর তৎকালিন পরিদর্শক আবু ইমাম জাফর তদন্ত করে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর আদালতে আসামী রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। রবিউল ইসলাম ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের বরখাস্তকৃত মালি। সে জেলার বিরল উপজেলার ভীমপুর গ্রামের খাতির উদ্দীন মাহমুদের পুত্র।
এইচএ