
প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২১, ০৯:১৭ পিএম
মো. আমিরুজ্জামান, নীলফামারী প্রতিনিধি
ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে আহত শিশু আজমীরের চোখের আলো নিভে গেছে। ফলোআপ চিকিৎসা করতে গিয়ে চিকিৎসকরা এমনটি জানিয়েছেন। আজমীরের চোখ অকালেই অন্ধ হয়ে গেছে, তা মেনে নিতে পারছেন না তার স্বজনরা। অপরদিকে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় করা মামলার কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ আজমীরের পরিবারের।
শিশুটির পরিবার জানান, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার আমবাড়ি গ্রামের নিজস্ব মাছের হ্যাচারি ব্যবসায়ী মারুফ ইসলামের ছোট ছেলে আজমীর। চলতি বছরের কোরবানির ঈদে ডোমরের গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানসহ ঈদ উদযাপন করেন তিনি। গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে ডোমার থেকে সৈয়দপুর ফিরছিলেন। স্টেশনে পৌঁছাতে আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি ছিল। ট্রেনে জানালার পাশে বসে ছিল আজমীর। সৈয়দপুর রেলস্টেশনের হোম সিগন্যালের কাছে হঠাৎ বাইরে থেকে আসা পাথর তার ডান চোখে আঘাত করে। ছেলের চোখ ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে।
এ অবস্থায় সৈয়দপুর স্টেশনে নেমে রেলওয়ে পুলিশের এএসআই প্রভাষ কুমারের সহায়তায় দ্রুত সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. রবিউল ইসলাম দ্রুত শিশুটিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ওই হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রাশেদুল ইসলাম মাওলার শরণাপন্ন হলে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। পরের দিন ১৬ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেটের ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আজমীরকে। সেখানে ১৭ আগস্ট আজমীরের চোখের (কর্নিয়া) অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এর পরেও ছেলের দৃষ্টিশক্তি আস্তে আস্তে কমতে থাকে।
ঢাকায় অবস্থানরত আজমীরের বাবা মারুফ ইসলাম বুধবার (২০ অক্টোবর) মুঠোফোনে জানান, রাজধানীর ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ফলোআপ চিকিৎসার জন্য আজমীরকে নেওয়া হয়। সেখানে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ ছেলের চোখের আলট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করান। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা ঘোষণা দিলেন, তা শোনার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না তিনি। ঘটনার পর ছেলেকে নিয়ে কত সংবাদ প্রচার হলো, অথচ রেলের কেউ আমার বাড়িতে গিয়ে একবার খোঁজও নিল না, আমার ছেলের চোখটা কেমন আছে।
তিনি আরও জানান, আজমীরের কর্ণিয়া অপারেশনসহ এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে এক লাখ টাকার বেশি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ছেলেকে দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করাতে চাইলে করাতে পারেন, তবে এতে চোখ ভালো হয়ে যাবে সে ধরনের নিশ্চয়তা দিচ্ছেন না তারা। তারপরেও বাবা হিসাবে দেশের বাইরে নিয়ে ছেলের চোখ পরীক্ষা করানোর চেষ্টা করব মনের সান্ত্বনার জন্য।
এদিকে ঘটনার পরদিন ১৬ আগস্ট সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার ময়নুল হোসেন বাদী হয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় (মামলা নম্বর-১) ১৮৬০ সালের পেনাল কোডের ৪২৭ ও ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ১২৭ ধারায় একটি মামলা করেন। পাথর নিক্ষেপ করে যাত্রীকে গুরুতর জখম এবং ট্রেনের জানালার গ্লাসের ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলাটি রুজু করা হয়। ওই মামলায় ট্রেনের বগির একটি জানালার গ্লাসের ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে আনুমানিক পাঁচ হাজার টাকা।
সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুর রহমান বিশ্বাস জানান, আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেশ কিছু তরুণ-যুবককে আটক করেছিলাম। তারা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল না বলে তদন্তে বেরিয়ে আসায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মূল হোতাদের গ্রেফতারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে ট্রেনে পাথর ছোড়া বন্ধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
টিআর/ডাকুয়া