
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১, ০৮:৪৪ এএম
প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চান্দামারী মসজিদ। কালের সাক্ষী হয়ে এখনও দাঁড়িয়ে আছে। রাজারহাট সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চান্দামারী গ্রামের মন্ডল পাড়ায় গেলে দেখা মিলবে এই মসজিদটির। প্রাচীন মোঘল আমলের তৈরি অনান্য স্থাপত্যের সঙ্গে কিছু কারুকার্যের মিল থাকায় ধারণা করা হয়, ১৫৮৪-১৬৮০ সালের কোনও একসময় মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
পুরোনো ও দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যে তৈরি এ মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের পদচারণায় মুখরিত হয় মসজিদ প্রাঙ্গণ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট প্রস্থের এই মসজিদে ছোট-বড় মিলে ১৯টি গম্বুজ ও ৪টি মিনার রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি বড় গম্বুজ (ব্যাসার্ধে ৫.৫০ ফুট)। ইতিহাসের ধারক ও বাহক এই প্রাচীন মসজিদটিতে ভিসকাস নামে এক ধরনে আঁঠালো পদার্থের ব্যবহার করা হয়েছে। যাতে করে বৃষ্টির পানি ও শ্যাওলা থেকে মসজিদটি সুরক্ষিত থাকে। সামনের দিকে ৫ ফুট উঁচু ৩টি দরজা, ভেতরে ৩টি মেহরাব ও দৃষ্টিনন্দিত কারুকার্যে তৈরি অনেকগুলো খিলান রয়েছে। এ ছাড়া মসজিদের ভেতরে বাতাস চলাচলের জন্য উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ছোট-ছোট ২টি জানালা রয়েছে। মসজিদের একাংশে রয়েছে কবরস্থান। যা এ অঞ্চলের মানুষেরা কেন্দ্রীয় কবরস্থান হিসেবে ব্যবহার করছে।
৪ শ বছরের পুরোনো এই মসজিদটি সংস্কারে কোনও সরকারি উদ্যোগ কিংবা ঐতিহ্যের প্রতিক হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে আজও পর্যন্ত নিবন্ধন হয়নি বলে জানিয়েছেন এখানকার স্থানীয়রা।
রংপুর থেকে আসা দর্শনার্থী মো. কামরুল ইসলাম সিটি নিউজ ঢাকাকে বলেন, আমি লোকমুখে পুরোনো এই চান্দামারী মসজিদের নাম শুনেছি। কখনও দেখতে আসা হয়নি। আত্মীয়র বাসায় বেড়াতে এসে জানতে পারলাম নিকটে একটি পুরোনো মসজিদ আছে। তাই দেখতে এলাম।
তিনি আরও বলেন, মসজিদটির ভেতরে ঢুকে নামাজ পড়লাম। সত্যি-ই মসজিদটির কারুকাজ ও নকশা দেখে মন ভরে গেল। সরকার যদি এটি সংস্কার করে তাহলে আরও ভালো হবে। দর্শনার্থীরা বেড়াতে এসে অনেক আনন্দ পাবে।
স্থানীয় মুসল্লি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, মসজিদটি কবে নাগাদ তৈরি হয়েছে আমার দাদার দাদারাও বলতে পারেনি। তবে এটি যে প্রাচীনকালের তৈরি, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। প্রতিদিন বহুদূর থেকে লোকজন মসজিদটি দেখতে আসে। আমরা চাই সরকার মসজিদটি সংস্কার করুক।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজহার মন্ডল বলেন, ‘প্রতি জুমার নামাজে মসজিদে পর্যাপ্ত মুসল্লির আগমন ঘটে। মসজিদটি সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত আবেদন করেও কোনও প্রকার সহায়তা পাইনি।’
রাজাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরে তাসনিম বলেন, চান্দামারী মসজিদটি সংস্কারে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কোনও পদক্ষেপ নেই। তবে মুসল্লিগণের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে মসজিদটির সামনের অংশ বর্ধিত করা হয়েছে।
টিআর/এএমকে