প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ১০:১২ পিএম
কর্ণফুলী টানেলের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে মাসিক ব্যয়, টোল থেকে প্রাপ্ত আয়ের প্রায় দ্বিগুণ বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, গড়ে প্রতি মাসে টানেলে টোল থেকে আয় হয় ৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয় ৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
মন্ত্রী জানান, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, আলোকসজ্জা, বায়ু চলাচল ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, সিসিটিভি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনার কারণে টানেলে ব্যয়ের পরিমাণ এত বেশি।
তিনি আরও বলেন, ‘টানেল উদ্বোধনের পর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ দৈনিক ব্যয় ছিল প্রায় ৩৭ লাখ টাকা। সরকারের মিতব্যয়ী নীতি ও সেতু কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে তা এখন দৈনিক ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে টানেলকে লাভজনক করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, যানজট নিরসনে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার করিডরে দেশের প্রথম বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি কীভাবে আরও উন্নত করে জনগণের সর্বোচ্চ উপকার নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।
বেপরোয়া গাড়ি চালানো, বিশৃঙ্খলা রোধ এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। এর ফলে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রমকারী যানবাহনের চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। নির্বাচিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে রবিউল আলম বলেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতুর জন্য তিনটি সম্ভাব্য রুট বিবেচনায় রয়েছে। এগুলো হলো—বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ, গাইবান্ধার বালাসী থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ অথবা আরেকটি বিকল্প করিডর।
এছাড়া, বুয়েটের সহায়তায় ঢাকার রেলের তিনটি লেভেল ক্রসিংয়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যারিয়ার স্থাপনের জন্য একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান রেলপথমন্ত্রী।