• ঢাকা মঙ্গলবার
    ৩০ জুন, ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

আর্সেনিক ঝুঁকি: অর্জন আছে, কিন্তু নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা কতটা?

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম

আর্সেনিক ঝুঁকি: অর্জন আছে, কিন্তু নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা কতটা?

সৈয়দ আতিক

বাংলাদেশে আর্সেনিক দূষণ এখন আর নতুন কোনো সতর্কবার্তা নয়; এটি দীর্ঘদিনের একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট। সংসদে উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ এখনও আর্সেনিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নিরাপদ পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে, তবুও প্রশ্ন থেকে যায়—এই অগ্রগতি কি বাস্তবে ঝুঁকির মানুষের জীবনমানকে যথেষ্টভাবে পরিবর্তন করতে পেরেছে?

আর্সেনিক দূষণ শুধু একটি পানির সমস্যা নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট। দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে ত্বকের রোগ, ক্যান্সার, হৃদরোগসহ নানা জটিল অসুখের ঝুঁকি বাড়ে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই ক্ষতি অনেক সময় ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়, ফলে আক্রান্ত মানুষ অনেক দেরিতে বিষয়টি বুঝতে পারেন।

সরকারের পক্ষ থেকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে গভীর নলকূপ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, পাইপলাইনের পানি সরবরাহ এবং সৌরচালিত ফিল্টারসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। কয়েক লক্ষাধিক পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে বাস্তবতা প্রায়ই ভিন্ন চিত্র দেখায়।

অনেক গ্রামীণ এলাকায় এখনও নিয়মিত পানি পরীক্ষার অভাব রয়েছে। কোথাও কোথাও নিরাপদ নলকূপ থাকলেও মানুষের সচেতনতার ঘাটতির কারণে আর্সেনিকযুক্ত উৎস ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না। আবার কিছু স্থানে প্রকল্প স্থাপনের পর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ছে—যা পুরো উদ্যোগের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ঝুঁকির হার ১১ শতাংশ থেকে ৫–৬ শতাংশে নামিয়ে আনার যে লক্ষ্য, তা বাস্তবায়নের জন্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি মনিটরিং, স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা, এবং পানির গুণগত মান নিয়মিত পরীক্ষা করার কার্যকর ব্যবস্থা।

আর্সেনিক সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সমন্বয় ও ধারাবাহিকতা। একক কোনো প্রকল্প নয়, বরং সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা ছাড়া এই সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ আর্সেনিক মোকাবিলায় অগ্রগতি করেছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এই অগ্রগতি তখনই অর্থবহ হবে, যখন প্রত্যন্ত গ্রামের শেষ মানুষটিও নিশ্চিতভাবে আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানি পাবে। নিরাপদ পানি কোনো সুবিধা নয়—এটি একটি মৌলিক অধিকার।


 

মতামত সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ