প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চলে ৬.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আবারও মনে করিয়ে দিল—প্রকৃতির শক্তির সামনে মানুষের প্রযুক্তি ও উন্নয়ন কতটা ভঙ্গুর। ভূমিকম্পটির কম্পন শুধু আফগানিস্তানেই সীমাবদ্ধ ছিল না; পাকিস্তান ও ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায়, এমনকি দিল্লিতেও তা অনুভূত হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানি বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও এই ঘটনা গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
হিন্দুকুশ অঞ্চল পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের অব্যাহত সংঘর্ষের ফলে এখানে নিয়মিত শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রায় ২১৫ কিলোমিটার গভীরে। গভীর উৎস হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলক কম হলেও এর কম্পন বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে, ভূমিকম্পের ঝুঁকি কোনো একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি আঞ্চলিক বাস্তবতা।
দিল্লিতে আতঙ্কিত মানুষদের ভবন ছেড়ে খোলা জায়গায় নেমে আসা দেখিয়েছে, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা ও প্রস্তুতি। নিয়মিত মহড়া, নিরাপদ ভবন নির্মাণ, কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতাই প্রাণহানি কমাতে পারে।
বাংলাদেশের জন্যও এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের দেশও ভূমিকম্পের ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ ঘনবসতিপূর্ণ নগরীগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল ভবন নির্মাণ এবং বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নের ঘাটতি ভবিষ্যতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। একটি মাঝারি বা বড় মাত্রার ভূমিকম্প আমাদের জন্য ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
তাই এখনই সময় কেবল দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার। স্কুল, হাসপাতাল, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক এলাকায় নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া পরিচালনা, পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মূল্যায়ন এবং বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
হিন্দুকুশের এই ভূমিকম্প হয়তো বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটায়নি। কিন্তু এটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে—প্রকৃতি আগাম কোনো ঘোষণা দিয়ে আসে না। প্রস্তুতিই হতে পারে জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সচেতন নাগরিক, দায়িত্বশীল প্রশাসন এবং বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার সমন্বয়েই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।