• ঢাকা বুধবার
    ০১ জুলাই, ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
টাকা ধার না পেয়ে খুন

১৬ ঘণ্টায় ধরা পড়লেন মুয়াজ্জিন, হত্যার দায় স্বীকার

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ১১:৪০ পিএম

১৬ ঘণ্টায় ধরা পড়লেন মুয়াজ্জিন, হত্যার দায় স্বীকার

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাকা ধার চেয়ে না পেয়ে ক্ষোভে এক গৃহবধূকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যা করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল শহরের একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. মোশারফ হোসেনের (৪২) বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর আলামত নষ্ট করে তিনি ঘটনাস্থলে ফিরে এসে প্রতিবেশীদের সঙ্গে শোক প্রকাশ করেন, এমনকি গণমাধ্যমের সামনে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিও জানান। তবে পুলিশের নিবিড় তদন্তে মাত্র ১৬ ঘণ্টার মধ্যেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এই হত্যার রহস্য।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) টাঙ্গাইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাহবুব খানের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মোশারফ হোসেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

নিহত নাজমা আলম (৫১) টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসিন্দা এবং ভেটেরিনারি চিকিৎসক শফিউল আলম ওরফে শাহীনের স্ত্রী।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সকালে পেশাগত কাজে বাসা থেকে বের হয়ে যান শফিউল আলম। বাসায় একা ছিলেন তাঁর স্ত্রী নাজমা আলম। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গৃহকর্মী এসে দরজা খোলা পেয়ে ঘরে প্রবেশ করলে সোফার ওপর রক্তাক্ত ও হাত বাঁধা অবস্থায় নাজমা আলমকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্বজনরা এসে দেখতে পান, তাঁর স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা খোয়া গেছে। এছাড়া বাসার সিসিটিভির ডিভিআর খুলে নেওয়া হয়েছে এবং মনিটর ভেঙে ফেলা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেনও। তিনি গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, স্থানীয় সূত্র এবং তদন্তের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশের সন্দেহের তালিকায় উঠে আসে মোশারফের নাম। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে মোশারফ জানান, তিনি নাজমা আলমের কাছে টাকা ধার চাইতে গিয়েছিলেন। টাকা না পেয়ে তাঁর হাতে ও গলায় থাকা স্বর্ণালংকার দেখে লোভ জাগে। একপর্যায়ে হাত ধোয়ার অজুহাতে গিয়ে একটি হাতুড়ি এনে নাজমা আলমের মাথায় আঘাত করেন। পরে তাঁর দুই হাতের স্বর্ণের বালা, গলার চেইন এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নেন। নাজমা আলম তখনও জীবিত থাকায় গামছা দিয়ে হাত বেঁধে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন।

হত্যার পর আলামত নষ্ট করতে বাসার সিসিটিভির ডিভিআর খুলে নিয়ে যান এবং মনিটর ভেঙে ফেলেন। পরে ডিভিআরটি একটি নালায় ফেলে দেন। নিজের রক্তমাখা পোশাক ধুয়ে ফেলেন এবং এরপর আবার ঘটনাস্থলে ফিরে এসে প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিশে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এমনকি সাংবাদিকদের সামনেও বক্তব্য দেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী শফিউল আলম টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


 

দেশজুড়ে সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ