প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
বাবার উত্তরসূরি হিসেবে রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন অধ্যাপক ডা. জাহানারা লাইজু।
বরিশাল-৩ (মুলাদী–বাবুগঞ্জ) আসনের সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো এবং নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেন অধ্যাপক লাইজু।

তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় মুলাদি, হিজলা ও বাবুগঞ্জ অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং সামাজিক অগ্রগতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। সহজ-সরল জীবনযাপন, মানবিকতা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, তার চাচা মরহুম সিরাজুল হক মন্টু ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ঘনিষ্ঠ সহচর। তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা, ত্যাগ ও নেতৃত্বে আলোকিত হয়েছিল পুরো অঞ্চল এবং গড়ে উঠেছিল এক শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তি।
ছাত্রজীবন, দলীয় খাটা ও রাজনৈতিক পথচলা
বাবা ছিলেন বিএনপির একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তার আদর্শ, নীতি ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ছোটবেলা থেকেই গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল অধ্যাপক ডা. জাহানারা লাইজুর জীবনে। সেই পারিবারিক প্রেরণাকে ধারণ করেই তিনি শৈশব থেকেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
ছাত্রজীবনেই জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএনপির ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি। তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন এবং প্রতিকূল সময়েও দলের প্রতি অটল থেকেছেন।

দীর্ঘদিনের এই ‘দলীয় খাটা’—অর্থাৎ সংগঠনের জন্য সময়, শ্রম ও ত্যাগের নিরলস বিনিয়োগ—তাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট, বঞ্চনা ও প্রত্যাশা খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছেন, যা তার রাজনৈতিক দর্শনকে আরও বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক করে তুলেছে।
পেশাগত ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব
অধ্যাপক ডা. জাহানারা লাইজু বর্তমানে Uttara Adhunik Medical College & Hospital-এর ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি Doctors Association of Bangladesh (DAB)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা এবং উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি।
এছাড়াও তিনি মুলাদী উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং Ziaur Rahman Foundation-এর নির্বাহী সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
.jpeg)
আন্দোলন-সংগ্রাম ও মানবিক অঙ্গীকার
সাম্প্রতিক চব্বিশের জুলাই আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখে তিনি নিজেকে একজন সাহসী ও সংগ্রামী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি কখনো পিছু হটেননি, বরং দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থানে অবিচল থেকেছেন।
অসহায়, অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার প্রতিশ্রুতি ও ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
সেই গৌরবময় পারিবারিক ঐতিহ্য, ছাত্রজীবনের সংগ্রাম, দীর্ঘদিনের দলীয় খাটা এবং পেশাগত সাফল্যের সমন্বয়ে অধ্যাপক ডা. জাহানারা লাইজু আজ একজন পরিপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
মুলাদী-বাবুগঞ্জসহ বৃহত্তর এলাকার সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা—তিনি জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করে এলাকার উন্নয়ন, জনগণের অধিকার এবং একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।