প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
কাউকে বন্ধ কিংবা থামিয়ে রাখার কোনো মানসিকতা বর্তমান সরকারের নেই বলে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৭ বছর পর যে দায়িত্ব পেয়েছি, এই সময়ে বাংলাদেশ তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। একটি দেশকে শূন্য থেকে শুরু করাও কঠিন, কিন্তু এখানে সমস্যা আরও গভীর। বিগত সময়ে দেশের পুরো ব্যবস্থাটাই দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভেঙে পড়েছে। তাই দেশকে ঠিকভাবে এগিয়ে নিতে আপনাদেরও আমাদের সহযোগিতা করতে হবে।
শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের সরকার শেখ হাসিনার বিষয়ে হয়তো রাজনৈতিকভাবে দায়ভার নিতে চাচ্ছে না বলে জুডিশিয়ারির ওপর দিয়ে দিচ্ছে। এটি তার জন্য খুব একটা সুখকর নয়। বাংলাদেশ সব পলাতক আসামিকে ফেরত চায় বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। এই সরকার যেকোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে। এই দুই এলাকায় পুরো বিষয় জেনে আইনগত ব্যবস্থা নেবে সরকার।
এদিকে, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, যে স্বাধীনতাটা এখন আছে, অতীতের চেয়ে সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা এখন আমরা গণমাধ্যমে দেখছি। গত ছয় মাসে গোয়েন্দা সংস্থার কোনো ব্যক্তি গণমাধ্যমে ফোন করে কোনো ধরনের চাপ দেননি। এ সময় কোনো গুম বা সরকারের মদদে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেনি। তাই সাংবাদিকেরা সরকারের ভালো কাজগুলো ইতিবাচকভাবে তুলে ধরলে আমরাও উৎসাহিত হবো, আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রেরণা পাবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও থাকবে। তবে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো বক্তব্য, সংবাদ বা তথ্য প্রচার করা ঠিক নয়। সরকার আর রাষ্ট্র এক জিনিস নয়—সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রের পার্থক্য আছে। এই বিষয়টি আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, গ্যাসের সরবরাহ এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গ্যাসের কার্গো সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, তবে দ্রুতই তা ঠিক হয়ে যাবে। জনগণের এই সংকটের বিষয়ে সরকারও উদ্বিগ্ন। তবে এটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকট।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দুই বছরে স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের তেমন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সৌভাগ্যবশত, ওই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে এমন সংকটও ছিল না। বর্তমান সরকার জ্বালানি সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। জ্বালানি খাতে ভালো অবস্থায় যেতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে, এই সময় পর্যন্ত পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ থাকবে। বরং আগের চেয়ে খারাপ অবস্থায় আমরা থাকব না।
সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা বাড়ানো এবং তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতো আগ্রহী ও মনোযোগী প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আগে পেয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এখন পর্যন্ত যতটুকু ঘাটতি রয়েছে, আশা করি তা দ্রুতই পূরণ করা সম্ভব হবে।