• ঢাকা শনিবার
    ১৬ মে, ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

যৌথ অভিযানে আইএসের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ নিহত: ট্রাম্প

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

যৌথ অভিযানে আইএসের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ নিহত: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীর যৌথ এক অভিযানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দ্বিতীয় শীর্ষ কমান্ডার আবু-বিলাল আল-মিনুকি নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৫ মে) পরিচালিত এই অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এই তথ্য নিশ্চিত করে দাবি করেছেন, এর ফলে গোষ্ঠীটির বৈশ্বিক শক্তি অনেকটাই খর্ব হলো।

এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তার নির্দেশনায় মার্কিন বাহিনী এবং নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত নিখুঁত ও জটিল একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এই ব্যক্তিকে চিরতরে নির্মূল করেছে।

আল-মিনুকি বিশ্বজুড়ে আইএসের দ্বিতীয় শীর্ষ কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি আর কখনো আফ্রিকার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে পারবেন না কিংবা আমেরিকানদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের অফিশিয়াল নথিসূত্রে জানা গেছে, ১৯৮২ সালে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন আল-মিনুকি। ট্রাম্প অভিযানের সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ না করলেও বলেন, আল-মিনুকি ভেবেছিলেন তিনি আফ্রিকায় লুকিয়ে থাকতে পারবেন, কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দারা তার প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছিলেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই অভিযানের বিষয়ে বলেন, নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত আইএসের এই শীর্ষ নেতাকে মাসের পর মাস ধরে ট্র্যাক করা হচ্ছিল। অবশেষে তার পুরো দলসহ তাকে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। এই অভিযান মার্কিন বাহিনীর ধৈর্য, দক্ষতা এবং নাইজেরিয়ার মতো সক্ষম অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ কাজের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ‘স্টেট হাউস’ এক বিবৃতিতে এই যৌথ অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। নাইজেরীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, লেক চাদ অববাহিকায় আল-মিনুকির একটি আস্তানায় বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে তাকে এবং তার বেশ কয়েকজন সহযোগীকে হত্যা করা হয়েছে।

আল-মিনুকি স্থানীয়ভাবে ‘আবু-মাইনোক’ নামেও পরিচিত ছিলেন। এই সফল অভিযানের পর নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু শনিবার (১৬ মে) সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অভিন্ন নিরাপত্তা লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের এই অংশীদারিত্বকে নাইজেরিয়া গভীরভাবে মূল্যায়ন করে।

উল্লেখ্য, নাইজেরিয়ায় তথাকথিত আইএস জঙ্গিদের ওপর ট্রাম্পের নির্দেশিত এটিই প্রথম মারাত্মক হামলা নয়। এর আগেও তিনি পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এনে গত ডিসেম্বরে এবং তার আগের মাসেও জঙ্গি আস্তানায় শক্তিশালী সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

নাইজেরিয়ার প্রায় ২৩ কোটি ৭৫ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় ধর্মের মানুষই প্রধান। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল, যেখানে উগ্রবাদী ইসলামপন্থীদের হামলায় শুধু খ্রিস্টানরাই নয়, বিপুল সংখ্যক মুসলিম নাগরিকও নিয়মিত প্রাণ হারাচ্ছেন। এর বাইরেও জমি, পানি ও জাতিগত বিরোধের জেরে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ সহিংসতা চলে আসছে।

সূত্র: সিএনএন।

আর্কাইভ