• ঢাকা শুক্রবার
    ২৪ জুলাই, ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

উচ্ছেদের নির্দেশের পর গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ২

প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

উচ্ছেদের নির্দেশের পর গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজার কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর সেখানে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবারের (২৩ জুলাই) এ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বছর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও চলমান সহিংসতার নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গাজার চারটি এলাকায় আগে থেকেই সরিয়ে নেওয়ার সতর্কবার্তা জারি করে ইসরাইলি বাহিনী। পরে ওই এলাকাগুলোতেই ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়। গাজা সিটিতে একটি হামলার পর বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দমকলকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান।

গাজায় একদিনে নিহত ৮৯, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯৬৭০

হামলায় বুরেইজ ও জাবালিয়া শরণার্থী শিবির, গাজা সিটির জেইতুন ও তাল আল-হাওয়া এলাকার একাধিক বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। জেইতুন এলাকায় একটি ভবনে পৃথক আরেকটি হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে আল-আহলি হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উচ্ছেদের নির্দেশ মানে শুধু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া নয়; বরং রাতের আঁধারে আতঙ্কের মধ্যে আশ্রয়স্থল ছেড়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়ানো। অনেক পরিবার নতুন করে আশ্রয় পাওয়ার কোনো জায়গাও খুঁজে পাচ্ছে না।

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৩১১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও নিহত হয়েছেন এক হাজার ১৮৫ জনের বেশি।

যুদ্ধবিরতি ভাঙার পর গাজায় ৫০০ শিশু হত্যা করেছে ইসরায়েল | | বাংলাদেশ  প্রতিদিন

এদিকে গাজায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গাজার প্রশাসন পরিচালনার জন্য প্রস্তাবিত কমিটির কাজ দ্রুত শুরু করার ওপরও জোর দেন তিনি।

অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় মানবিক সংকট কাটেনি। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ এখনো তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছে।

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৩৮, লেবাননে ৩৩ নিহত

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) জরুরি প্রস্তুতি ও সাড়া কার্যক্রমের পরিচালক রস স্মিথ বলেন, গাজার পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। মানবিক সহায়তা পৌঁছানো, ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরও গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

তাদের মতে, সহায়তায় বাধা দেওয়ায় খাদ্যসংকট, রোগব্যাধি, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

আর্কাইভ