প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁয় জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। বুধবার (০৭ জানুয়ারি) জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার বদলগাছী উপজেলায় রেকর্ড করা এ তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
জেলায় শীতের তীব্রতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল এবং নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে হাড়কাঁপানো এই ঠাণ্ডায় তাদের দৈনন্দিন কাজ ও জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ভোরে কাজে বের হওয়া কৃষি শ্রমিক ও রিকশাচালকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁর বদলগাছীতে, ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি চলতি মৌসুমেরও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
বদলগাছী কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য মতে, সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে প্রায় সাড়ে ৪ ডিগ্রি। তাপমাত্রা কমার সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাস শীতকে বাড়িয়ে তুলেছে কয়েকগুণ। দিনে ঠিকমতো দেখা মিলছে না সূর্যের। ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে চারপাশ। যানবাহনগুলো চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।
বদলগাছী কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক মোহাম্মদ হামিদুল হক বলেন, জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই মৌসুমের সর্বনিম্ন। আকাশে মেঘ এবং বাতাস থাকায় শীতের তীব্রতা বেশি।
উল্লেখ্য, যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৬.১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪.১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।