প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়তে থাকা একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। চিকিৎসকরা বলছেন, শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে গেলে শুধু ওজনই বাড়ে না, এর সঙ্গে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার, কিডনি রোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল, শ্বাসকষ্ট এবং জয়েন্টের ব্যথাসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থূলতা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত ওজনের কারণে অনেকের ফ্যাটি লিভার, ঘুমের সময় শ্বাসকষ্ট (স্লিপ অ্যাপনিয়া) এবং হাঁটু বা কোমরের জয়েন্টে ব্যথার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। এছাড়া কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিও স্থূলতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
শুধু শারীরিক নয়, অতিরিক্ত ওজন মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মতো সমস্যায়ও অনেকেই ভোগেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই স্থূলতা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটা বা নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত ও সুষম খাদ্য গ্রহণ, শাকসবজি, ফল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া এবং কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম এবং নিয়মিত ওজন ও রক্তচাপ পরীক্ষা করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত ওজন কমানোর পরিবর্তে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোই নিরাপদ। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা অনুসরণ করা উচিত।