প্রকাশিত: মার্চ ২৩, ২০২৬, ১২:২৮ এএম
ঈদে এবার সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন। আহত হয়েছে আরও অনেকে। ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) রাত থেকে রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যা পর্যন্ত কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, ফেনী, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর ও কক্সবাজারে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দেওয়া এসব দুর্ঘটনা শুধু সংখ্যা নয়, প্রতিটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সচেতনতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
দুর্ঘটনা কবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে কুমিল্লায় ১২ জন, হবিগঞ্জে চারজন, ফেনীতে তিনজন, কিশোরগঞ্জে দুজন, সুনামগঞ্জে দুজন এবং নওগাঁ, নাটোর ও কক্সবাজারে একজন করে নিহত হয়েছেন।আমাদের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকা থেকে এ সংক্রান্ত খবর জানিয়েছেন।
কুমিল্লা
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। রোববার (২২ মার্চ) ভোরে উপজেলার জাঙ্গালিয়া কচুয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামগামী একটি মেইল ট্রেন রেললাইন পার হওয়ার সময় মামুন পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাসকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই ১২ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী ও দুইজন শিশু রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের ডিজিএম সুবক্তগীন বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ইপিজেড ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান খাদে পড়ে নারী ও শিশুসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। উপজেলার আন্দিউড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (২১ মার্চ) রাতে একটি পিকআপ ভ্যান সুনামগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পিকআপটিতে চালকসহ একটি পরিবারের তিনজন সদস্য ছিলেন। পথে আন্দিউড়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে গাড়িটি রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে পানিতে ডুবে যায়।
রোববার সকালে স্থানীয় লোকজন খাদে একটি ডুবন্ত পিকআপ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পানির নিচ থেকে পিকআপটি উদ্ধার করে এবং ভেতর থেকে চারজনের লাশ বের করে আনে।
নিহতদের মধ্যে ইব্রাহীম (৪০), যার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলায়; সজিব মিয়া (১২) ও আছমা আক্তার (৪০), তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। অপর এক পুরুষের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
ফেনী
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। হতাহতদের ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ ) ভোর ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মহিপাল হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট কাজল কান্তি নাথ জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনের কাজ চলছিল। সেখানে গতি কমাতে নতুন করে স্পিড ব্রেকার দেওয়া হয়েছিল। ভোর রাতে চট্টগ্রামমুখী একটি অ্যাম্বুলেন্স স্পীড ব্রেকারে ধীর গতিতে পার হচ্ছিল। এসময় শ্যামলী পরিবহণের একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় বাস ও অ্যাম্বুলেন্স চালকের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তখন পেছনে থাকা দুই মোটরসাইকেলের আরোহী দাড়িয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেন। এ সময় আরও দুটি বাস পেছনে দাঁড়ায়।
তখন পেছন থেকে আসা দোয়েল পরিবহণের দ্রুত গতির স্লিপার বাস সামনে বাস ও মোটরসাইকেল চালকদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে একজন মোটরসাইকেলের আরোহী এবং দোয়েল পরিবহণের সুপারভাইজার নিহত হন। অপর আহত চারজনকে ফেনী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় চারটি বাস ও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
নাটোর
নাটোরের বড়াইগ্রামে বিয়ের আগের দিন প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে রাখা ট্রাকের পিছনে ধাক্কা লেগে জুলফিকার আলী (২৯) নামে এক প্রকৌশলী নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে উপজেলার গড়মাটি এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জুলফিকার আলী জিল্লু পাবনার ঈশ্বরদী থানার নওদাপাড়া গ্রামের আনসারুল হক প্রামাণিকের ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ের আগের দিন বরের এমন নির্মম মৃত্যুতে পুরো এলাকা জুড়ে আনন্দের পরিবর্তে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, রোববার জুলফিকার আলীর আলীর গায়ে হলুদ ও সোমবার বিয়ের দিন ধার্য ছিল। রোববার সকালে তিনি বাড়ি থেকে নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে আসা বোন ও ভগিনীপতিকে নেওয়ার জন্য বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় আসছিলেন। পথে উপজেলার গড়মাটি এলাকায় প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মহাসড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা ট্রাকের পিছনে ঢুকে পড়ে। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ ও প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। নিহতের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পিকআপভ্যানের চাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও একজন। রোববার (২২ মার্চ) বিকালে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কের কুলিয়ারচর উপজেলার দাড়িয়াকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- দরিয়াকান্দি এলাকার বিজয় (১৮) ও তার বন্ধু জাবির হোসেন (১৮)।
পুলিশ জানায়, কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের দারিয়াকান্দি এলাকায় একই মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন তিন যুবক। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মুরগিবোঝাই করা একটি পিকআপভ্যান মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন বিজয় ও জাবির।
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জে ঈদের আনন্দে ঘুরতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুই বন্ধু নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কের শান্তিগঞ্জ উপজেলার গাগলী এলাকায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়নের মুক্তাখাই গ্রামের মৃত উকিল আলীর ছেলে সাফিকুল ইসলাম (২৮) ও তার বন্ধু সাইদুল ইসলাম।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাফিকুল ইসলাম নামের তরুণ দুই বন্ধুকে নিয়ে শান্তিগঞ্জের নিজ গ্রাম থেকে মোটরসাইকেল করে তাহিরপুরের পর্যটন কেন্দ্র শিমুল বাগানে ঘুরতে যাওয়ার জন্য রওনা দেন। পথে সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কের গাগলী এলাকায় এসে তাদের মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলের সামনের অংশ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। সফিকুলের শরীরের হাড় ভেঙে গাছের ভেতরে ঢুকে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার সঙ্গে থাকা দুই বন্ধুর মধ্যে সাইদুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হলে পথে তার মৃত্যু হয় এবং অপর আহত গুলজার আহমদকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আমজাদ হোসেন বললেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনজনের মধ্যে হাসপাতালে আসার আগেই একজনের মৃত্যু হয়েছে। একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথে তিনি মারা গেছে বলে জানা গেছে। অন্য আরেকজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. অলি উল্যাহ বলেন, গাগলী এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও একজন আহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজার
কক্সবাজারের টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপ সড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোটরসাইকেল আরোহী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকালে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ হারিয়াখালী সড়কে পর্যটকবাহী একটি গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মো. আনিস (৩০) টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালী এলাকার বকসুর ছেলে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
নওগাঁ
নওগাঁর রাণীনগরে ঈদের দিন বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে ভটভটি উল্টে পুকুরে পড়ে এক কিশোর মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ভাটকৈ-দেউলা রাস্তার ভাটকৈ খগেনের পুকুরপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রাণীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বাবলু পাল জানান, নিহত মো. হৃদয় (১২) রানীনগর উপজেলার আমিরপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার
ঈদের সময় সড়কে অতিরিক্ত চাপ, তাড়াহুড়া এবং অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালনা, যা ফেনী, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ঘটনায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা—যেমন স্পিড ব্রেকার সঠিকভাবে চিহ্নিত না থাকা বা চলমান সড়ককাজে পর্যাপ্ত সতর্কতার অভাব—দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। কুমিল্লার ট্রেন-বাস সংঘর্ষ অনিরাপদ রেলক্রসিং ব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতিকে সামনে এনেছে, যেখানে গেট, সিগন্যাল বা স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা নিশ্চিত ছিল না। এছাড়া যানবাহনের ফিটনেস সমস্যা, অদক্ষ চালক, দীর্ঘ সময় ড্রাইভিংয়ের কারণে ক্লান্তি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতাও এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং হাইওয়ে পুলিশি নজরদারি বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, সব রেলক্রসিংয়ে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যেখানে কাজ চলমান, সেখানে স্পষ্ট সাইনবোর্ড ও সতর্ক সংকেত স্থাপন বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা ও চালকদের লাইসেন্স যাচাই জোরদার করা জরুরি। দীর্ঘপথের চালকদের জন্য নির্ধারিত বিশ্রাম ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সর্বোপরি, চালক ও যাত্রীদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো প্রয়োজন বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।