• ঢাকা মঙ্গলবার
    ১১ আগস্ট, ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ নিয়ে কী বার্তা দিলেন দিনেশ ত্রিবেদী?

প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ নিয়ে কী বার্তা দিলেন দিনেশ ত্রিবেদী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।  

দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে মোদির এই বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এর ঠিক আগের দিনই ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার। একই সময়ে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে গঠনমূলক পথে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।  

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায় দিল্লি: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বেশ কিছু টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য, প্রত্যর্পণের দাবি এবং সীমান্ত ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

এর মধ্যেই ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বারবার দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে দেখার কারণ নেই এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি বৈঠকে বসলে অনেক সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। 

তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা ইস্যু: সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে। ঢাকা আশা প্রকাশ করেছে, ভারত বাংলাদেশের অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশি পক্ষ থেকে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।  

ভারত অবশ্য জানিয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ তারা আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহের কথাও জানিয়েছে।  

বাণিজ্য, সীমান্ত ও পানি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি বণ্টন, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও ভিসাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ইস্যু রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ৪০টিরও বেশি দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হয়।

সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় এসব দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা আবার সক্রিয় করার ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে ‘মানুষকে কেন্দ্রে রেখে’ সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বার্তা—সম্পর্ক হবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে: ঢাকার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে আগ্রহী। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা, আস্থা, বোঝাপড়া ও দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে।

বাংলাদেশ সরকারের ‘Bangladesh First’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নয়াদিল্লির সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে ঢাকা।  

মোদির সঙ্গে বৈঠকের তাৎপর্য: এই প্রেক্ষাপটে দিনেশ ত্রিবেদীর মোদির সঙ্গে বৈঠককে কেবল নিয়মিত কূটনৈতিক সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। ঢাকায় একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরার ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি, নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোতে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।

সব মিলিয়ে, দিল্লির বর্তমান বার্তায় বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আবার কার্যকর ও স্থিতিশীল পর্যায়ে নেওয়ার আগ্রহ স্পষ্ট হচ্ছে। আর ঢাকার অবস্থান হলো—সম্পর্ক অবশ্যই থাকবে, তবে তা হতে হবে সমতা, পারস্পরিক সম্মান এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ