প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা করেছে ইরান।
শনিবার (৬ জুন) ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, রাত ১টা ৩০ মিনিটে চারটি তেলবাহী ট্যাংকার, যেগুলোকে আক্রমণাত্মক মার্কিন সেনাবাহিনী উসকানি ও নির্দেশনা দিয়েছিল, আইআরজিসি নৌবাহিনীর বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এবং কোনো সমন্বয় ছাড়াই অবৈধভাবে হরমুজ প্রণালি ত্যাগের চেষ্টা করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সতর্কবার্তার পর একটি ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করে থামিয়ে দেওয়া হয় এবং অন্য লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলো ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
এরপর রাত ২টা ৩০ মিনিটে মার্কিন ড্রোন কেশম দ্বীপের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং সিরিক এলাকার আরেকটি টাওয়ারে দুটি প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করে বলে দাবি করা হয়।
আইআরজিসি জানায়, মার্কিন সেনাবাহিনীর এই আগ্রাসনের জবাবে তাদের মহাকাশ বাহিনী দ্রুত কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটির দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে একটি ছিল আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি। পাশাপাশি বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের গুরুত্বপূর্ণ অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোতেও হামলা করা হয়।
আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলে, “এই আগ্রাসী ও শিশুহত্যাতকারী শত্রু যদি এ ধরনের নিকৃষ্ট কর্মকাণ্ড পুনরাবৃত্তি করে, তবে আমাদের প্রতিক্রিয়া সীমাবদ্ধ থাকবে না।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেলে এবং আপনার তেল ও গ্যাস রপ্তানি ব্যাহত হলে তার পরিণতির দায় আপনাদেরই নিতে হবে।”
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে দাবি করে, “কিছুক্ষণ আগে সেন্টকম বাহিনী হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া চারটি ইরানি একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে।”
পোস্টে বলা হয়, এসব ড্রোন আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করেছিল। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানের উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।
তারা আরও দাবি করে, “আত্মরক্ষার স্বার্থে” তথাকথিত “অযৌক্তিক ইরানি আগ্রাসনের” জবাব দিতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবির এক প্রতিবেদক জানান, শনিবার রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে সিরিক শহরে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন শুরু করে, যা তাদের পূর্ববর্তী হামলার প্রায় আট মাস পর সংঘটিত হয়।
এর জবাবে ইরান দ্রুত ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চল এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো শুরু করে।
যুদ্ধ শুরুর ৪০ দিন পর, ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
এদিকে, আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে যে তারা হরমুজ প্রণালীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং সতর্ক করেছে যে বিদেশি সামরিক বাহিনীর যেকোনো হস্তক্ষেপের জবাব তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হবে।
সূত্র: প্রেস টিভি