• ঢাকা বুধবার
    ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসরাইলের কাছে রেকর্ড পরিমাণ ধ্বংসাত্মক বোমা বিক্রির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০১:১৪ পিএম

ইসরাইলের কাছে রেকর্ড পরিমাণ ধ্বংসাত্মক বোমা বিক্রির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরাইলকে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ৪০ হাজার শক্তিশালী বোমা বিক্রির পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের এই অস্ত্র প্যাকেজ সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় একক বোমা বিক্রির চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। খবর এনডিটিভির।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্যাকেজে ২০ হাজার এমকে-৮৪ এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা রয়েছে। এছাড়া এতে ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চুক্তির অর্থের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সামরিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে দেওয়া হবে, অর্থাৎ মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করেই ইসরাইল এসব অস্ত্র কিনবে।

এমকে-৮৪ পশ্চিমা সামরিক বাহিনীগুলোর সবচেয়ে বিধ্বংসী প্রচলিত বোমাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। এর বিস্ফোরণে হাজার হাজার ফুট দূর পর্যন্ত ধাতব টুকরা ছড়িয়ে পড়ে এবং এটি পুরু কংক্রিট ও ধাতব কাঠামো ভেদ করতে সক্ষম। শক্তিশালী এই বোমা বিস্ফোরণের পর বড় ধরনের গর্তও সৃষ্টি করতে পারে।

গাজা ও লেবাননে ইসরাইল অতীতে নিয়মিতভাবে এসব ২ হাজার পাউন্ডের বোমা ব্যবহার করেছে। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এসব উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই বছর আগে তৎকালীন বাইডেন প্রশাসন এই বোমা সরবরাহ স্থগিত করেছিল। তবে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কারণে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনাকে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কেও নতুন উষ্ণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সাম্প্রতিক সহযোগিতার পর এমন ধারণা আরও জোরালো হয়েছে।

গত বছরও ট্রাম্প প্রশাসন স্বাভাবিক কংগ্রেসীয় পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়, যার মধ্যে ৩৫ হাজার ৫০০টির বেশি বোমা ছিল। পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরও ৬ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়।

গাজায় ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী খুব কম তথ্য প্রকাশ করলেও হামলার ভিডিও ও বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এসব বোমা সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে। ইসরাইল বলছে, হামাসের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এসব হামলায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বহু বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।    

গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতির পর গাজায় বড় ধরনের লড়াই কমে এলেও ইসরাইল এখনও সেখানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত মাসে ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আলোচক জ্যারেড কুশনার নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যুদ্ধবিরতি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং হামলা কমানোর আহ্বান জানান।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইল এই অভিযানকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করে। তাদের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জনের বেশি মানুষ জিম্মি হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ