• ঢাকা বুধবার
    ১২ আগস্ট, ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
১৫ আগস্ট থেকে কর্মসূচি

গ্রামীণ স্কুল উন্নয়নে ভারতজুড়ে ‘সরপঞ্চ চ্যালেঞ্জ’ ককরোচ জনতা পার্টির

প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৯:২৭ এএম

গ্রামীণ স্কুল উন্নয়নে ভারতজুড়ে ‘সরপঞ্চ চ্যালেঞ্জ’ ককরোচ জনতা পার্টির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়নে দেশব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আগামী ১৫ আগস্ট ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন গ্রামের সরকারি স্কুলে মৌলিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি চিহ্নিত করে তা উন্নয়নে স্থানীয় জনগণ ও গ্রামপ্রধানদের সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

‘সরপঞ্চ চ্যালেঞ্জ’ নামের এই কর্মসূচির আওতায় দেশের সরপঞ্চদের নিজ নিজ এলাকার সরকারি স্কুলের উন্নয়নে সরাসরি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যেসব সরপঞ্চ স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন, তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সিজেপি। উন্নয়নের আগে ও পরের ছবি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সরপঞ্চদের কৃতিত্ব তুলে ধরা হবে। 

দীপকে জানিয়েছেন, মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি থেকে এ কর্মসূচির সূচনা করবেন তিনি। সেখানে স্থানীয় সরপঞ্চের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারি স্কুলগুলোর উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাবেন। তাঁর অভিযোগ, স্বাধীনতার ৮০ বছর পরও ভারতের অনেক গ্রামের সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি। অনেক শিশুকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। কোথাও নিরাপদ পানীয় জল, বিদ্যুৎ কিংবা ব্যবহারযোগ্য শৌচাগারের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য পৃথক ও কার্যকর শৌচাগারের সংকটও তিনি তুলে ধরেছেন। 

শুধু সরপঞ্চদের নয়, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এ কর্মসূচিতে যুক্ত করতে চাইছে সিজেপি। সংগঠনটির আহ্বান, সরকারি স্কুলে গিয়ে বিদ্যুৎ, নিরাপদ পানীয় জল, শৌচাগার ও মধ্যাহ্নভোজের মতো মৌলিক সুবিধা রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। কোনো ঘাটতি থাকলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা নথিভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য একটি মুদ্রণযোগ্য সামাজিক নিরীক্ষা ফরমও দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সংগঠনটি। 

দীপকের বক্তব্য, কৃষক ও দিনমজুর পরিবারের সন্তানদের জন্য গ্রামের স্কুলগুলোকে শহরের স্কুলগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রাখা উচিত নয়। তাঁর প্রশ্ন—দেশের নতুন সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো বড় অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হলে গ্রামের শিশুদের জন্য ভালো স্কুল তৈরি করা সম্ভব হবে না কেন? এ প্রশ্নকে সামনে রেখেই স্বাধীনতা দিবসে নতুন কর্মসূচি শুরু করতে চাইছে সিজেপি। 

তবে গ্রামীণ স্কুল নিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মধ্যেই সিজেপিকে ঘিরে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আরেক দফা আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি পরবর্তী সময়ে পরীক্ষায় অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও বেকারত্বের মতো বিষয় নিয়ে রাস্তায় আন্দোলনে নামে। দিল্লির যন্তরমন্তরে পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে তাদের ৩৬ দিনের আন্দোলনও ব্যাপক আলোচনায় আসে। সংগঠনটি এখন নির্বাচনী রাজনীতিতে সরাসরি প্রবেশের পরিবর্তে একটি যুব আন্দোলন ও জনচাপ সৃষ্টিকারী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি ‘ক্যা বলতি পাবলিক?’ নামে দেশব্যাপী জনসম্পৃক্ততার আরেকটি কর্মসূচির পরিকল্পনাও করেছে। 

এর মধ্যেই মঙ্গলবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে সিজেপি-সংশ্লিষ্ট একটি আবেদনে নতুন মোড় এসেছে। ভুয়া আইনজীবী, ভুয়া আইন ডিগ্রি এবং সিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে সিবিআই তদন্ত চেয়ে করা আবেদনে কেন্দ্রীয় সরকার, বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া ও সিবিআইয়ের কাছে জবাব চেয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। আবেদনে আদালতের মৌখিক মন্তব্যের বাণিজ্যিক ব্যবহার, ট্রেডমার্কের অপব্যবহার এবং অনলাইনে তা থেকে অর্থ উপার্জনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। 

এই আবেদনের সঙ্গে সিজেপির উত্থানের পটভূমিও জড়িয়ে আছে। চলতি বছরের ১৫ মে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বেকারত্ব ও তরুণদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শুনানির সময় করা একটি ‘ককরোচ’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অনলাইনে ব্যাপক ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ শুরু হয়। পরবর্তীতে অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে ককরোচ জনতা পার্টি নামে প্ল্যাটফর্মটি সামনে আসে। এরপর সংগঠনটি শিক্ষা, পরীক্ষায় অনিয়ম, বেকারত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার মতো বিষয়কে তাদের আন্দোলনের কেন্দ্রে নিয়ে আসে। 

ফলে গ্রামীণ স্কুল উন্নয়নের নতুন কর্মসূচিকে সিজেপির কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। অনলাইন ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদ থেকে এবার সরাসরি স্থানীয় পর্যায়ের নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে সরপঞ্চ ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি।

১৫ আগস্টের ‘সরপঞ্চ চ্যালেঞ্জ’ বাস্তবে কতটা সাড়া ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে অভিভাবকদের সামাজিক নিরীক্ষা, স্কুলের আগে-পরে অবস্থার নথি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রকাশ্যে জবাবদিহিতার আওতায় আনার পরিকল্পনা সফল হলে ভারতের গ্রামীণ সরকারি স্কুলের অবকাঠামো নিয়ে নতুন ধরনের জনচাপ তৈরি হতে পারে। 


 

আন্তর্জাতিক সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ