প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ১০:১০ পিএম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
‘হয় ফাঁসিতে ঝুলবো, না হয় আইন হাতে তুলে নিয়ে গুপ্ত শিবিরকে হত্যা করবো’- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য ওমর ফারুকের এমন হুমকি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
তার এ হুমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ছাত্রদল নেতার এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় বিবৃতি দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল শুক্রবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।
ওই সমাবেশে সাবেক ছাত্রদল নেতা ওমর ফারুক হুমকি দিয়ে বলেন, ‘জিয়া পরিবারকে নিয়ে যদি কোনো নোংরামি করা হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্লীল স্ট্যাটাস দেওয়া হয় তাহলে আমরা হয় মারব, না হয় মরব। আপস চলবে না, আপস চলবে না, আপস চলবে না। হয় ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলব, না হয় নিজেরা ওই গুপ্ত শিবির সন্ত্রাসীদেরকে আইন হাতে তুলে নিয়ে হত্যা করব। এখানে কোনো আপস নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘গুপ্ত শিবির ভাইদেরকে বলতে চাই- আপনারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসুন, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করুন, আমরা আপনাদের সহযোগিতায় আছি। কিন্তু সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে, নারীদের নিয়ে, তারেক রহমানের পরিবারকে নিয়ে যদি নোংরামি করেন তাহলে ইবি ক্যাম্পাসে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না।
এ সময় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ওমর ফারুকের এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ইবি ক্যাম্পাসসহ দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরে আজ দুপুরে হত্যা শব্দটি ‘স্লিপ অব টাং’ দাবি করে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ক্ষমা চান সাবেক এই ছাত্রদল নেতা।
অন্যদিকে ওমর ফারুকের এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সন্ধ্যায় বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও হত্যার হুমকি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে হত্যার হুমকি দেওয়া সাবেক ছাত্রদল নেতা ওমর ফারুককে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিবির সভাপতি ও সেক্রেটারি বলেন, ইবি ছাত্রদল নেতা প্রকাশ্য সমাবেশে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের হত্যার যে হুমকি দিয়েছেন তা মূলত ফ্যাসিবাদেরই এক নতুন ও বীভৎস সংস্করণ। এ বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত নয় বরং সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ। এ হত্যার হুমকিদাতা ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে, অন্যথায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারকেই বহন করতে হবে।