• ঢাকা বুধবার
    ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শনিবার পর্যন্ত হতে পারে বৃষ্টি, স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ১১:২৯ পিএম

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শনিবার পর্যন্ত হতে পারে বৃষ্টি, স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

সিটি নিউজ ডেস্ক

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং নতুন বৃষ্টি বলয়ের প্রভাবে সারা দেশে আবারও বৃষ্টিপাত বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এর মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

কয়েক দিনের বিরতির পর সোমবার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আবার বৃষ্টি শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীতে ঝুম বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গতকাল সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে। এ ছাড়া নওগাঁর বদলগাছীতে ৭৯, নীলফামারীর ডিমলায় ৭৯, নেত্রকোনায় ৬২, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ৬১, কক্সবাজারে ৫৪, বান্দরবানে ৫০, ফেনীতে ৪৭ এবং ঢাকায় ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে আজ সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে নেত্রকোনায়। এরপর রয়েছে চাঁদপুরে ৭৬ এবং ময়মনসিংহে ৭৫ মিলিমিটার। এদিন দেশের প্রায় সব এলাকাতেই কমবেশি বৃষ্টি হলেও ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে এর প্রবণতা ছিল বেশি। এআবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, আগামী শনিবার পর্যন্ত বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা বলেন, আগামীকাল বুধবার থেকে সারাদেশে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেও বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টির মধ্যেও ভ্যাপসা গরম থেকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি মিলছে না।

এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগামী দুই দিনে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং সংলগ্ন উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে অথবা সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কুশিয়ারা নদী ইতিমধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের আরও কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া আগামী দুদিনের মধ্যে তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ধরলা নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিনে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া এলাকায় সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে সোমেশ্বরী, কংস ও ভুগাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী দুদিনের মধ্যে নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

জাতীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ