• ঢাকা শনিবার
    ১১ জুলাই, ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

অবকাঠামো নয়, প্রয়োজন জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

অবকাঠামো নয়, প্রয়োজন জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা

সম্পাদকীয়

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক নয়, এটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দীর্ঘ পথচলার প্রতীক। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতি এবং নতুন ছাত্রী হোস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যশিক্ষার উন্নয়নে ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তবে এ ধরনের অনুষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষণাগুলো কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পায় এবং সাধারণ মানুষ তার সুফল কতটা পায়, তার ওপর।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দেশের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসার আশায় এখানে আসেন। কিন্তু শয্যার সংকট, দীর্ঘ অপেক্ষা, জনবল ঘাটতি, আধুনিক যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা এবং রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের স্বল্পতা—এসব সমস্যা বহু বছর ধরেই রয়ে গেছে। শুধু নতুন ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণ করলেই এসব সংকট দূর হবে না; প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহি এবং সেবার মানোন্নয়ন।

ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণ চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। নিরাপদ আবাসন, উন্নত শিক্ষার পরিবেশ এবং গবেষণার সুযোগ বাড়ানো ভবিষ্যতের দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে একই সঙ্গে শিক্ষক সংকট, গবেষণায় বিনিয়োগ, আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি।

স্বাস্থ্যখাত এমন একটি খাত, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তবায়ন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ চায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দ্রুত চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধের সহজলভ্যতা, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং দালালমুক্ত পরিবেশ। স্বাস্থ্যসেবাকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে কেন্দ্রীয় হাসপাতালের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় রাজধানীকেন্দ্রিক চাপ আরও বাড়বে।

সরকার যদি সত্যিই একটি আধুনিক, মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, তাহলে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, দক্ষ জনবল তৈরি এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০ বছরের ইতিহাস আমাদের গর্বের। এখন প্রয়োজন এমন একটি ভবিষ্যৎ, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিশ্চিত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অঙ্গীকার কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা ঘটাক—এটাই সময়ের দাবি।

সম্পাদকীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ