প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে দণ্ডিত পাঁচ আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তার ৫০ শতাংশ জুলাই শহীদ পরিবারের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
যাদের সম্পত্তির ৫০ শতাংশ যাবে জুলাই শহীদ পরিবারের কাছে
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিচের পাঁচ আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং তার অর্ধেক জুলাই শহীদ পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে—
ওবায়দুল কাদের (আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক)
আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)
মোহাম্মদ আলী আরাফাত (সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী)
শেখ ফজলে শামস পরশ (যুবলীগের সভাপতি)
মাইনুল হোসেন খান নিখিল (যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক)
যাদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে
রায়ে আরও দুই আসামি—নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান—এরও মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।
বেলা ১২টা ১০ মিনিটে রায় ঘোষণা শুরু হয়। ৫৫৭ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ প্রায় ৩০ মিনিট ধরে পাঠ করেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে ছিলেন এম হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আবেদন জানায়। অন্যদিকে আসামিপক্ষ খালাস প্রার্থনা করে। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল ১৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।