• ঢাকা সোমবার
    ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যা: বয়ান নয়, প্রয়োজন প্রমাণভিত্তিক পুনঃতদন্ত

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যা: বয়ান নয়, প্রয়োজন প্রমাণভিত্তিক পুনঃতদন্ত

তানভীর হাসান জোহা

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, আলোচিত এবং একই সঙ্গে অমীমাংসিত অধ্যায়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একজন রাষ্ট্রপতি নিহত হন। এরপর বিদ্রোহ, গ্রেপ্তার, পাল্টা অভিযান, সামরিক বিচার এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে ঘটনাটির একটি প্রচলিত বিবরণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু চার দশকের বেশি সময় পরও কিছু মৌলিক প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া যায়নি।

এই হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত হওয়া উচিত। তবে এর উদ্দেশ্য নতুন কোনো রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠা করা নয়। উদ্দেশ্য পুরোনো সব বয়ানকে প্রমাণের সামনে দাঁড় করানো। কারণ রাষ্ট্রের ইতিহাস অনুমান, আনুগত্য কিংবা প্রচারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। ইতিহাসকে দাঁড়াতে হয় যাচাইযোগ্য নথি, সাক্ষ্য, ফরেনসিক আলামত এবং ঘটনার নির্ভুল সময়রেখার ওপর।

জিয়াউর রহমানকে গুলি করেন মতিউর, এর আগে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে যান এরশাদ

এই অনুসন্ধানে তিনটি প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, বিদ্যমান নথি কী বলছে। দ্বিতীয়ত, নথি কোন প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়নি। তৃতীয়ত, একটি কার্যকর পুনঃতদন্তে এখন কোন প্রমাণ সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

নথি কী বলছে

হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৮১ সালের ৬ জুন কমিশন অব ইনকোয়ারি গঠন করা হয়। কমিশনের মূল কার্যপরিধিতে ছিল হত্যাকাণ্ড কোনো ষড়যন্ত্রের ফল কি না, ষড়যন্ত্রকারী কারা, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, পরিকল্পনা কীভাবে সংগঠিত হয়েছিল এবং কারা সেই ষড়যন্ত্রে সহায়তা করেছিল তা অনুসন্ধান করা।

কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ১৩ জুন আরেকটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র অনুসন্ধানসংক্রান্ত এই কার্যপরিধি বাদ দেওয়া হয়। অর্থাৎ কমিশন গঠনের মাত্র সাত দিনের মাথায় হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি তার আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের পরিধি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

তারপরও কমিশনের প্রতিবেদনে মেজর জেনারেল মঞ্জুরের নেতৃত্বে একদল সামরিক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। সার্কিট হাউসের অভিযানে ১৪ থেকে ১৬ জন কর্মকর্তা অংশ নিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু কমিশনের কার্যপরিধি থেকে যখন ষড়যন্ত্র শনাক্ত করার ক্ষমতাই বাদ দেওয়া হয়েছিল, তখন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে তার সিদ্ধান্ত কতটা বিস্তৃত অনুসন্ধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, সেটি নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

সামনে এলো জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সেই রক্তাক্ত ভোরের অজানা অধ্যায়

কমিশন ৬৭ জন সাক্ষীর বক্তব্য গ্রহণ করেছিল। প্রতিবেদনে গোয়েন্দা ব্যর্থতা, নিরাপত্তার দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে মেজর জেনারেল মঞ্জুরের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে ধারণা ছিল। রাষ্ট্রপতিকেও সতর্ক করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ২৯ মে রাত থেকে ৩০ মে ভোর পর্যন্ত কী ঘটতে যাচ্ছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কোনো কার্যকর আগাম তথ্য দিতে পারেনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সার্কিট হাউসে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত সদস্য এবং অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। রাষ্ট্রপতির কক্ষের সামনে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে রাত ১০টার দিকে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও সাক্ষ্যে এসেছে। পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট এবং রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের মধ্যে কার্যকর সমন্বিত কমান্ড ছিল না।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে কমিশন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা তাঁর ব্যক্তিগত স্টাফের ভেতর থেকে এক বা একাধিক ব্যক্তি দুর্বল করে থাকতে পারেন। কমিশন কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। তবে কক্ষ বণ্টনের টাইপ করা তালিকা সংগ্রহ, নিরাপত্তারক্ষী সরানোর অভিযোগ, ওয়্যারলেস থাকা সত্ত্বেও যথাযথ সহায়তা না চাওয়া এবং একটি কক্ষের গুলির চিহ্ন পরবর্তী সময়ে তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। এসব পর্যবেক্ষণ কোনো সাধারণ মন্তব্য নয়। এগুলো নতুন তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শহীদ রাষ্ট্রপতির শরীরে প্রায় ২০টি পৃথক বুলেটের ক্ষতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবহৃত অস্ত্রের সংখ্যা, বুলেটের ক্যালিবার, গুলির দিক, দূরত্ব এবং নির্দিষ্ট অস্ত্রের সঙ্গে ক্ষতগুলোর সম্পর্ক সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ব্যালিস্টিক সিদ্ধান্ত প্রতিবেদনে পাওয়া যায় না।

আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হলো মেজর জেনারেল মঞ্জুরের মৃত্যু। নথি অনুযায়ী তিনি জীবিত অবস্থায় পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন। ঢাকার নির্দেশ পাওয়ার পর লিখিত রসিদের মাধ্যমে তাঁকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর হাত-পা বেঁধে এবং চোখ ঢেকে সেনানিবাসের দিকে নেওয়া হয়। সেনানিবাসে প্রবেশের পর তাঁকে বহনকারী গাড়ির পথ পরিবর্তন করা হয়। পরে তাঁকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়।

জিয়া হত্যাকাণ্ডের কথিত প্রধান পরিকল্পনাকারী যদি জীবিত অবস্থায় আটক হওয়ার পর হেফাজতে নিহত হয়ে থাকেন, তবে সেই মৃত্যু মূল হত্যাকাণ্ডের সত্য অনুসন্ধানের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত।

নথি কোন প্রশ্নের উত্তর দেয়নি

প্রথম প্রশ্ন, ষড়যন্ত্র অনুসন্ধানের বিষয়টি কমিশনের কার্যপরিধি থেকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল? কে সেই সিদ্ধান্ত প্রস্তাব করেছিলেন, কে অনুমোদন দিয়েছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ফাইলে কী যুক্তি লেখা ছিল?

দ্বিতীয় প্রশ্ন, রাষ্ট্রপতির পূর্বনির্ধারিত রাজশাহী সফরের পরিবর্তে চট্টগ্রাম সফরের সিদ্ধান্ত কখন এবং কীভাবে নেওয়া হয়েছিল? সফর স্থগিত করার কোনো গোয়েন্দা পরামর্শ ছিল কি? থাকলে সেটি কেন কার্যকর হয়নি?

তৃতীয় প্রশ্ন, মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করার পরও নিরাপত্তা কেন বিশেষভাবে জোরদার করা হয়নি? সতর্কতাগুলো মৌখিক ছিল, নাকি লিখিত? কোন কর্মকর্তা কখন সেই তথ্য পেয়েছিলেন?

চতুর্থ প্রশ্ন, রাষ্ট্রপতির কক্ষের সামনের নিরাপত্তারক্ষীদের সরানোর নির্দেশ আসলেই দেওয়া হয়েছিল কি না। হয়ে থাকলে কে দিয়েছিলেন এবং কেন দিয়েছিলেন?

পঞ্চম প্রশ্ন, রাষ্ট্রপতির অবস্থানসহ সার্কিট হাউসের কক্ষ বণ্টনের টাইপ করা তালিকা কেন সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সেই তালিকা কার কাছে পৌঁছেছিল?

ষষ্ঠ প্রশ্ন, রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত স্টাফের কাছে কার্যকর ওয়্যারলেস ব্যবস্থা থাকার পরও যথাসময়ে আর্মি হেডকোয়ার্টার বা অন্য বাহিনীর কাছে সহায়তা চাওয়া হয়নি কেন?

সপ্তম প্রশ্ন, প্রায় ২০টি বুলেটের ক্ষত কোন অস্ত্র বা অস্ত্রগুলো থেকে সৃষ্টি হয়েছিল? ঘটনাস্থলে পাওয়া খোসা, বুলেট এবং অস্ত্রের মধ্যে বৈজ্ঞানিক মিল স্থাপন করা হয়েছিল কি?

অষ্টম প্রশ্ন, তথাকথিত Army Revolutionary Council এর সদস্য কারা ছিলেন? হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া ১৪ থেকে ১৬ জনের বাইরে পরিকল্পনাকারী, সহায়তাকারী কিংবা রাজনৈতিক যোগাযোগকারী কেউ ছিলেন কি না।

নবম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, পুলিশ হেফাজত থেকে মঞ্জুরকে সেনা হেফাজতে দেওয়ার নির্দেশ ঢাকা থেকে কে দিয়েছিলেন? হস্তান্তরের লিখিত রসিদ কোথায়? তাঁকে বহনকারী গাড়ির পথ কেন পরিবর্তন করা হয়েছিল? একজন বাঁধা ও চোখ ঢাকা বন্দি কীভাবে সশস্ত্র ব্যক্তিদের সামনে অরক্ষিত অবস্থায় পৌঁছালেন?

এসব প্রশ্নের উত্তর অনুমান দিয়ে দেওয়া যাবে না। আবার প্রশ্নগুলো এড়িয়ে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসও লেখা যাবে না।

পুনঃতদন্তে কোন প্রমাণ প্রয়োজন

পুনঃতদন্তের প্রথম কাজ হওয়া উচিত কমিশনের সম্পূর্ণ আর্কাইভ উদ্ধার করা। শুধু প্রকাশিত প্রতিবেদন যথেষ্ট নয়। ৬৭ জন সাক্ষীর মূল জবানবন্দি, লিখিত বক্তব্য, কমিশনের কার্যবিবরণী, সদস্যদের নোট, ঘটনাস্থলের ছবি, স্কেচ, অস্ত্রের তালিকা এবং সংযুক্ত নথিগুলো সংগ্রহ করতে হবে।

৬ ও ১৩ জুনের সরকারি প্রজ্ঞাপনের মূল প্রশাসনিক ফাইল উদ্ধার করা জরুরি। বিশেষ করে ষড়যন্ত্র অনুসন্ধানের অংশ বাদ দেওয়ার পেছনের নোটশিট, মতামত এবং অনুমোদনের ধাপ পরীক্ষা করতে হবে।

রাষ্ট্রপতির সফরসূচি, সফর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা মূল্যায়ন, গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগাযোগের নথি খুঁজে বের করতে হবে। ঘটনার রাতের সেনা যানবাহনের লগবুক, নাইট ট্রেনিংয়ের আদেশ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ ইস্যু রেজিস্টার এবং সদস্যদের উপস্থিতির তালিকা মিলিয়ে একটি নির্ভুল সময়রেখা তৈরি করা প্রয়োজন।

মঞ্জুরকে পুলিশের কাছ থেকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের রসিদ, ঢাকার ওয়্যারলেস নির্দেশ, তাঁকে বহনকারী গাড়ির তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও এসকর্ট সদস্যদের বক্তব্য সংগ্রহ করতে হবে। জীবিত সাক্ষীদের নতুন করে অডিও-ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। পুরোনো বক্তব্যের সঙ্গে নতুন বক্তব্য মিলিয়ে একটি contradiction matrix তৈরি করা যেতে পারে।

ময়নাতদন্তের মূল প্রতিবেদন, ছবি, নেগেটিভ, এক্সরে, অস্ত্র, গুলি, খোসা এবং ঘটনাস্থলের আলোকচিত্র পাওয়া গেলে আধুনিক প্রযুক্তিতে পুনরায় বিশ্লেষণ করা সম্ভব। সার্কিট হাউসের কক্ষ, দরজা, সিঁড়ি এবং গুলির চিহ্ন ব্যবহার করে থ্রিডি ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশনও করা যেতে পারে। এতে আক্রমণকারীদের অবস্থান, গুলির সম্ভাব্য দিক এবং নিরাপত্তা সদস্যদের প্রতিরোধের বাস্তব সুযোগ সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

দেশি নথির পাশাপাশি তৎকালীন বিদেশি দূতাবাসের বার্তা, কূটনৈতিক প্রতিবেদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার আর্কাইভ এবং পরবর্তীকালে প্রকাশিত ডিক্লাসিফায়েড দলিলও সংগ্রহ করা দরকার। তবে কোনো বিদেশি প্রতিবেদনের বক্তব্যকেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সত্য ধরে নেওয়া যাবে না। সেটিকেও অন্য প্রমাণের সঙ্গে যাচাই করতে হবে।

সত্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সম্পত্তি নয়

পুনঃতদন্ত মানেই আগে প্রতিষ্ঠিত সব সিদ্ধান্ত ভুল, এমন নয়। আবার পুরোনো তদন্ত হয়েছে বলেই সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে, এটিও ধরে নেওয়া যায় না। পুনঃতদন্তের কাজ হবে দোষী নির্ধারণের আগে প্রমাণ পুনরুদ্ধার, বক্তব্য যাচাই, ঘটনাক্রম পুনর্গঠন এবং দায়িত্বের স্তরগুলো পরিষ্কার করা।

নথি যেখানে কথা বলেছে, সেখানে আমাদের নথির ভাষায় কথা বলতে হবে। নথি যেখানে নীরব, সেখানে প্রশ্ন তুলতে হবে। আর যে প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি, তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ অনুসন্ধান করতে হবে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তি হত্যার ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের একটি निर्णায়ক অধ্যায়। সেই ইতিহাসকে অসম্পূর্ণ নথি, রাজনৈতিক সুবিধা কিংবা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলতে থাকা বয়ানের মধ্যে বন্দি রাখা উচিত নয়।

সঠিক ইতিহাস জানার অধিকার রাষ্ট্রের, জনগণের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। তাই এই পুনঃতদন্ত প্রতিশোধের জন্য নয়, কোনো পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠার জন্যও নয়। এটি প্রয়োজন সত্যের অসমাপ্ত অনুসন্ধান সম্পন্ন করার জন্য।

কারণ ইতিহাস শেষ পর্যন্ত কারও দাবি মনে রাখে না। ইতিহাস টিকে থাকে সেই প্রমাণে, যা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েও সত্য থাকে।

তানভীর হাসান জোহা 
প্রসিকিউটর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল

মতামত সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ