• ঢাকা সোমবার
    ১৬ মার্চ, ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে এবার ন্যাটো মিত্রদের সহায়তা চাইলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২৬, ১০:১১ এএম

হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে এবার ন্যাটো মিত্রদের সহায়তা চাইলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে ন্যাটো মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই জলপথ দিয়ে যে দেশগুলো তাদের জ্বালানি পায়, তাদেরই এগিয়ে এসে এটি সুরক্ষিত রাখতে ভূমিকা নেয়া উচিত। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে ন্যাটো মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খোলা রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এসব দেশের কাছে দাবি জানাচ্ছি— তারা যেন এগিয়ে এসে নিজেদের অঞ্চল রক্ষা করে। কারণ এটি তাদেরই এলাকা। এখান থেকেই তারা তাদের জ্বালানি পায়’। তিনি আরও বলেন, ‘আপনি চাইলে বলতে পারেন, হয়তো আমাদের সেখানে থাকারই প্রয়োজন নেই। কারণ আমাদের তো এর দরকার নেই। আমাদের কাছে প্রচুর তেল রয়েছে।’

ট্রাম্প জানান, এ পর্যন্ত সাতটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কথা বলেছে। তার ভাষায়, ‘অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো ন্যাটো দেশ। আমরা সব সময় ন্যাটোর পাশে থাকি; ইউক্রেন ইস্যুতেও আমরা তাদের সহায়তা করছি’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার মতো ‘খুব ছোট একটি উদ্যোগে’ কোন দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করবে না— তা দেখা ‘আগ্রহজনক’ হবে।

কোন কোন দেশ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে— এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, এখনই তা বলার সময় হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র কিছু ‘ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া’ পেয়েছে। তিনি আবারও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে তার ভাষায়, ‘প্রণালিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে দু-একজন মানুষই যথেষ্ট, কয়েকজন সন্ত্রাসীই যথেষ্ট।’

ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের (ইরানের) সামরিক বাহিনী পরাজিত, কিন্তু কয়েকজন মানুষ যদি এখানে–ওখানে মাইন ফেলে দেয়, তাহলেই সমস্যা তৈরি হতে পারে।’

চীন প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। ট্রাম্প জানান, চীন তাদের তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ সরবরাহ এই প্রণালি দিয়েই পায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে তারা অংশ নেবে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হতে পারে তারা অংশ নেবে, আবার নাও নিতে পারে।’

এয়ার ফোর্স ওয়ানে দেয়া বক্তব্যে ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ড্রোন তৈরির স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এসব ড্রোন ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা ও ইসরায়েলের ওপর হামলা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের হাতে এখন খুব কম সামরিক শক্তি অবশিষ্ট রয়েছে। আমরা তাদের উৎপাদন সক্ষমতাকে ধ্বংস করে দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ড্রোনের সংখ্যাও অনেক কমে গেছে, তাদের যা ছিল তার প্রায় ২০ শতাংশের মতো রয়েছে। গতকাল থেকেই আমরা সেই জায়গাগুলোতে হামলা চালাচ্ছি, যেখানে এসব ড্রোন তৈরি করা হয়।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ