প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি সই করতে যাচ্ছে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি সই করতে যাচ্ছে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও বিমান চলাচল খাতের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কায়জার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করবেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে।
বিমান সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি সই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত থাকবেন।
ওই চুক্তি জাতীয় বিমান সংস্থাটির আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিমানবহর সম্প্রসারণ পদক্ষেপ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে (৩৭ হাজার কোটি টাকা) ১৪টি নতুন বিমান কেনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা মেটাতে বহর আধুনিকায়ন ও দীর্ঘ রুটে সক্ষমতা বাড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ড্রিমলাইনারগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার রুটে এবং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো আঞ্চলিক ও স্বল্প দূরত্বের রুটে ব্যবহার করা হবে।
বিমানের এই বড় আকারের ক্রয় আদেশ নিয়ে গত ৩ বছর ধরে বোয়িং ও এয়ারবাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। এই চুক্তির মাধ্যমে বিমানের বহর সম্প্রসারণ নিয়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা বোয়িং ও ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের প্রতিযোগিতারও অবসান ঘটছে।
২০২৩ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখোর সফরসহ বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের পর এয়ারবাস কিছুটা এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত বোয়িংই অর্ডার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ইউরোপীয় পক্ষ থেকে বিমানের বহরে বৈচিত্র্য আনতে এয়ারবাস উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।