প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যেই জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ফলে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন এখন—রোববারই কি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শেষ কর্মদিবস হতে যাচ্ছে?
যদিও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে স্পিকারের হঠাৎ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তকে অনেকেই সম্ভাব্য সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।
সংসদ সচিবালয়ের সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তাঁর আগামী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুরোধে সফর সংক্ষিপ্ত করে তিনি শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় ফিরছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সময়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি চাইলে যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন, তবে সেই পদত্যাগপত্র স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষর করে জমা দিতে হয়। স্পিকার দেশের বাইরে থাকলে বাস্তবে সেই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। ফলে স্পিকারের দেশে ফেরা ছাড়া রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই।
এ কারণেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছেন, স্পিকারের সফর সংক্ষিপ্ত হওয়ার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের আলোচনা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাও হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।
এদিকে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি নিজেও এমন গুঞ্জন শুনেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে বলা হয়নি বলেও তিনি জানান। স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সেটি তাঁর সাংবিধানিক অধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবিধান কী বলছে: সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে হবে। পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হবে; আলাদা করে গ্রহণ বা অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
নজর এখন রোববারে: সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনের দৃষ্টি এখন স্পিকারের দেশে ফেরা এবং তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের দিকে। স্পিকার শুক্রবার দেশে ফিরছেন। এরপর যদি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র তাঁর কাছে জমা দেওয়া হয়, তাহলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হতে পারে।
তবে এ মুহূর্তে এটিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ যে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে রোববারই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শেষ কর্মদিবস হবে—এমন দাবি নিশ্চিতভাবে করার সুযোগ নেই। তবে স্পিকারের আকস্মিক সফর সংক্ষিপ্ত হওয়া এবং চলমান রাজনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে সেই সম্ভাবনা নিয়েই এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।