প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
রোববার (২৮ জুন) রাত ৯টা ২৮ মিনিটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী। মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই কম্পন আবারও মনে করিয়ে দিল—ভূমিকম্প কোনো পূর্বাভাস মেনে আসে না, আর প্রস্তুতির অভাব থাকলে মৃদু কম্পনও বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
বাংলাদেশ এমন একটি ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক প্রভাব বিদ্যমান। ফলে দেশের উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঘনবসতিপূর্ণ শহর ঢাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, আমাদের নগরায়ণ এখনও অনেকাংশে অপরিকল্পিত। বহু বহুতল ভবন যথাযথ ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা ছাড়াই নির্মিত হয়েছে। পুরোনো ভবনের ঝুঁকি মূল্যায়ন, বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন, অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই এখনও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।
সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিক—সবাইকে সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। নিয়মিত মহড়া, স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক শিক্ষা, জরুরি সেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি পরিবারে একটি জরুরি পরিকল্পনা থাকা এখন সময়ের দাবি।
ভূমিকম্প থামানো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, কিন্তু এর ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সর্বোপরি জনসচেতনতা।
নরসিংদীকেন্দ্রিক এই মৃদু ভূমিকম্প হয়তো বড় কোনো ক্ষতি করেনি। তবে এটিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। প্রকৃতি যেন আবারও আমাদের সতর্ক করে দিল—দুর্যোগ আসার আগেই প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ ভূমিকম্পের পরে নয়, তার আগের প্রস্তুতিই হাজারো প্রাণ বাঁচাতে পারে।