• ঢাকা মঙ্গলবার
    ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

মাথায় খুশকি? অবহেলা নয়, সময়মতো যত্ন নিলেই মিলতে পারে সমাধান

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম

মাথায় খুশকি? অবহেলা নয়, সময়মতো যত্ন নিলেই মিলতে পারে সমাধান

লাইফস্টাইল ডেস্ক

মাথার ত্বকে খুশকি (ড্যানড্রাফ) খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব বয়সের মানুষের মধ্যেই এটি দেখা যেতে পারে। তবে অনেকেই খুশকিকে তেমন গুরুত্ব না দেওয়ায় সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খুশকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, খুশকির অন্যতম কারণ হলো মাথার ত্বকে থাকা এক ধরনের ছত্রাকের (ম্যালাসেজিয়া) অতিরিক্ত বৃদ্ধি। এছাড়া অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বক, অপরিষ্কার মাথার ত্বক, মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, শুষ্ক আবহাওয়া কিংবা অনুপযুক্ত চুলের প্রসাধনী ব্যবহারের কারণেও খুশকির সমস্যা বাড়তে পারে।

খুশকির মতো কিন্তু খুশকি নয়, হতে পারে বিশেষ রোগের ইঙ্গিত!

খুশকির সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে মাথার ত্বকে সাদা বা হলদে খোসা জমা, তীব্র চুলকানি, কাঁধে খুশকি পড়ে থাকা এবং মাথার ত্বকে অস্বস্তি অনুভব করা। অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন খুশকি থাকলে মাথার ত্বকে লালচে ভাব, প্রদাহ এবং অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, খুশকি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন কেটোকোনাজল, জিঙ্ক পাইরিথিয়ন, সেলেনিয়াম সালফাইড বা পিরোকটোন ওলামিনযুক্ত অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। শ্যাম্পু ব্যবহারের সময় অন্তত তিন থেকে পাঁচ মিনিট মাথার ত্বকে রেখে পরে ধুয়ে ফেললে ভালো ফল পাওয়া যায়।

এছাড়া মাথার ত্বক সবসময় পরিষ্কার রাখা, অতিরিক্ত তেল ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং মাথা অতিরিক্ত চুলকানো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কারণ বারবার চুলকানোর ফলে মাথার ত্বকে ক্ষত তৈরি হতে পারে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

ছেলেদের চুলের খুশকি দূর করার উপায়

খাদ্যাভ্যাসও খুশকি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন বি, জিঙ্ক ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার মাথার ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানোর অভ্যাসও উপকারী।

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চিরুনি, তোয়ালে, বালিশের কভার নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং অন্যের সঙ্গে এসব ব্যবহার না করাই ভালো। এতে ছত্রাক বা অন্যান্য ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

তবে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ নিয়মিত অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহারের পরও যদি খুশকি না কমে, অথবা মাথার ত্বক লাল হয়ে যায়, পুঁজ, ব্যথা, তীব্র চুলকানি কিংবা অস্বাভাবিক হারে চুল পড়া শুরু হয়, তাহলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেন, মাথার ত্বকে সাদা খোসা উঠলেই সেটিকে খুশকি মনে করা ঠিক নয়। অনেক সময় সোরিয়াসিস, একজিমা, সেবোরেইক ডার্মাটাইটিস বা ছত্রাকজনিত অন্যান্য সংক্রমণের কারণেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে নিজে নিজে ওষুধ ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

লাইফস্টাইল সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ