প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
এলপিজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এলপিজি গ্যাস অপারেটরদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এমনটা জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলপিজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পণ্যের সঙ্গে দেশের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বার্থ জড়িত। তাই সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দেশে ‘এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ বলবৎ রয়েছে। এই আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়— এমন কোনো কর্মকাণ্ড সরকার বরদাশত করবে না।
ব্যবসায়িক বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে লাভ-লোকসান, কমিশন কিংবা অন্যান্য বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়া স্বাভাবিক। তবে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে শুনে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে আন্তরিক।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসায়িক বিরোধ কিংবা স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে বাজারকে ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে এলপিজির মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করে কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ী, অপারেটর ও সরবরাহকারীদের জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখার পাশাপাশি যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।
মতবিনিময় সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ছাড়াও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সচিব, প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলওএবি) মহাসচিবসহ এলপি গ্যাস লিমিটেড, বসুন্ধরা এলপি গ্যাস, বেক্সিমকো, ওমেরা ও যমুনাসহ শীর্ষস্থানীয় এলপিজি কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।