প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপে ভিএআরের সিদ্ধান্ত কতটা নির্ভুল হবে, তা নিয়ে ছিল নানা প্রশ্ন। উদ্বোধনী ম্যাচেই তিনটি লাল কার্ড দেখিয়ে সেই আলোচনা আরও উসকে দিয়েছেন রেফারি উইল্টন পেরেইরা সাম্পাইও। ক্লাব ফুটবল থেকে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ—ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নিয়ে বিতর্ক যেন থামছে না।
মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার র উদ্বোধনী ম্যাচে দেওয়া তিনটি লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক এলিট রেফারি অ্যান্ডি ডেভিস। প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নশিপে প্রায় ১২ বছর দায়িত্ব পালন করা ডেভিস ইএসপিএনের এক অনুষ্ঠানে নিজের মতামত তুলে ধরেন।
সিথোলের বিদায় নিয়ে বিতর্ক নেই
ম্যাচের ৪৯তম মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার স্ফেফেলো সিথোল লাল কার্ড দেখেন। তখন ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল তার দল।
ঘটনার সূত্রপাত মেক্সিকোর মিডফিল্ডার ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে বক্সের ভেতরে ফাউল করার মাধ্যমে। গুতিয়েরেজ গোলমুখে এগিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তার সামনে ছিল পরিষ্কার গোলের সুযোগ। ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।
অ্যান্ডি ডেভিসের মতে, এটি ছিল ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত। তার ভাষায়, গুতিয়েরেজের সামনে স্পষ্ট গোলের সুযোগ ছিল এবং সিথোলের ফাউল সেই সুযোগ নষ্ট করেছে। ফলে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো সম্পূর্ণ সঠিক সিদ্ধান্ত।
দ্বিতীয় লাল কার্ড: জোয়ানের বিদায়
ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বা জোয়ানকে লাল কার্ড দেখানো হয়।
মেক্সিকোর রবার্তো আলভারাডোকে পাশ কাটানোর সময় জোয়ানের হাত প্রতিপক্ষের মুখে লাগে। প্রথমে রেফারি কোনো লাল কার্ড দেননি। তবে ভিএআরের পরামর্শে রিপ্লে দেখার পর সিদ্ধান্ত বদলে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন ডেভিস। তার মতে, ঘটনাটি ‘হিংসাত্মক আচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে কি না, তা বিতর্কের বিষয়। মুখে আঘাত লাগার ঘটনায় অনেক সময় লাল কার্ড দেওয়া হলেও এখানে সিদ্ধান্তটি কিছুটা কঠোর মনে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রিপ্লে দেখার সময় রেফারির মধ্যেও দ্বিধা ছিল বলে মনে হয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত ভিএআরের তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তৃতীয় লাল কার্ড: বেশি বিতর্ক
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেক্সিকোর ডিফেন্ডার চেজার মন্টেস লাল কার্ড দেখেন।
দ্রুত পাল্টা আক্রমণে দক্ষিণ আফ্রিকার চার খেলোয়াড় তিন ডিফেন্ডারের বিপক্ষে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কুলিশো মুদাউকে বক্সের বাইরে ফাউল করেন মন্টেস। রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান এবং ভিএআরও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
তবে এই সিদ্ধান্তেই সবচেয়ে বেশি আপত্তি জানিয়েছেন ডেভিস। তার মতে, ঘটনাটি নিশ্চিতভাবে ‘গোলের সুস্পষ্ট সুযোগ’ নষ্ট করার পর্যায়ে পড়ে না। কারণ মুদাউয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্ভবত শট নেওয়া নয়, বরং ক্রস দেওয়ার ছিল। ফলে এটি নিশ্চিত গোলের সুযোগের বদলে সম্ভাব্য আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারত।
তবে তিনি স্বীকার করেন, এমন সিদ্ধান্ত অনেকটাই রেফারির ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল। আর ‘স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল’ না হওয়ায় ভিএআরের হস্তক্ষেপ করার সুযোগও সীমিত ছিল।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই তিনটি লাল কার্ড এবং ভিএআর নিয়ে আলোচনা প্রমাণ করে, প্রযুক্তির সহায়তা থাকা সত্ত্বেও রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক এখনও ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে।