• ঢাকা মঙ্গলবার
    ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

‘বিএনপির জন-কর্মসূচি বাধাগ্রস্তকারীদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে’

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

‘বিএনপির জন-কর্মসূচি বাধাগ্রস্তকারীদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে’

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

বিএনপি জুলাই সনদ অবশ্যই বাস্তবায়ন করবে, তবে সরকারের নেওয়া জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে তা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‍‍`বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার জন্য। জুলাই সনদ যেদিন বিএনপি সই করে এসেছে, যেই সনদে অন্যরাও সই করেছে। আমরা দেখেছি এখন যারা বিরোধী দলে আছে, প্রথমবার তারা সই করবে কি করবে না—একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব। আর তাদের সঙ্গে আরেকটা দল আছে, তারা তো তখন সই-ই করেনি। তাদের দেখলাম নির্বাচনের পরে গিয়ে হঠাৎ করে তড়িঘড়ি করে সই করল।‍‍`

‍‍`প্রথমে সই করেছে বিএনপি। যারা নির্বাচনের পরে জুলাই সনদের জন্য গলা ফাটিয়ে ফেলল, তাদেরকে তো আমরা প্রশ্ন করতে পারি—এতই যদি তোমাদের দরদ হয়, তোমরা প্রথমেই কেন সই করলা না?‍‍` প্রশ্ন রাখেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‍‍`আগেও বলেছি, আবার পরিষ্কার করছি। বিএনপি যে জুলাই সনদে সই করেছে, সেই জুলাই সনদ বিএনপি বাস্তবায়ন করবে। এর কোনো নড়চড় হবে না। কিন্তু যারা বিএনপির খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, পেশাদার খেলোয়াড় তৈরিসহ জনকর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে।‍‍`

‍‍`আমাদের সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে, কারা স্বৈরাচারের ভূত, কাদের ওপর আবার ধীরে ধীরে আছর করছে, কারা আবার দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চাচ্ছে,‍‍` যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‍‍`বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যখন সংস্কারের কথা বলছে, তখন আমাদের মনে রাখতে হবে—সংস্কারের প্রস্তাব প্রথম কারা দিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের কথা বলছে, কিন্তু বিএনপি অনেক আগেই এই প্রস্তাবগুলো দিয়েছিল। ২০১৬ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি প্রথম সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালে আন্দোলনে থাকা সব দলকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি একদফা আন্দোলন ও সংস্কারের ৩১ দফা ঘোষণা করে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার যখন সংস্কার কমিশন গঠন করে বিভিন্ন দলকে আমন্ত্রণ জানাল, তখন দেখা গেছে সেই সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ৮৫ শতাংশই বিএনপির দেওয়া প্রস্তাবের সাথে মিলে যাচ্ছে।‍‍`

‍‍`গণতন্ত্রের নিয়মই হচ্ছে মতামতের ভিন্নতা। আমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকতে পারে, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু সেই দ্বিমত নিরসন হতে হবে আলোচনার মাধ্যমে। আপনি আপনার পয়েন্ট বলবেন, আমি আমার যুক্তি দেব। যদি আপনার যুক্তি সঠিক হয়, আমি অবশ্যই তা মেনে নেব,‍‍` যোগ করেন তিনি।

‍‍`এই বাংলাদেশই আমাদের একমাত্র ঠিকানা‍‍` উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‍‍`এই দেশকে আমরা আমাদের হৃদয়ে ধারণ করেছি। এ দেশ ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প ঠিকানা নেই। যেহেতু এই বাংলাদেশই আমাদের পরিচয় এবং শেষ আশ্রয়, তাই এই দেশটিকে আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সকলকে সাথে নিয়ে, কাধে কাধ মিলিয়ে ইনশাআল্লাহ আমরা এই দেশকে একটি সমৃদ্ধ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশে রূপান্তর করব।‍‍`

রাজনীতি সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ