প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বারবার কাঁদলেন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি নেতা-কর্মীদের কাছে দোয়া ও ভুল-ভ্রান্তির জন্য ক্ষমা চান।
পাশাপাশি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় ঐক্য অটুট রাখা এবং তৃণমূলের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের দূরত্ব না বাড়ানোর বিষয়েও কড়া সতর্কবার্তা দেন তিনি।
সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, চিফ হুইপের পর বক্তব্য দিতে দাঁড়ান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
কয়েক মিনিটের বক্তব্যে অন্তত চার-পাঁচবার কাঁদেন বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা। এ সময় সভায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
বক্তব্যে ফখরুল পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। একই সঙ্গে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরেন তিনি। ফখরুল বলেন, দীর্ঘ এই পথচলায় দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকলে বা নিজের অজান্তে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।
তিনি বলেন, দল তাঁকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো কোনো আপস করবেন না। বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের ভীষণ মিস করবেন বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপির সংসদীয় দলের এই সভায় আর দেখা যাবে না। তাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে আজ দলের সহকর্মীদের উদ্দেশে শেষ বক্তব্য দিলেন তিনি।