• ঢাকা বুধবার
    ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

শিবিরের ‘সাথী’ পদ হারিয়েছেন রাকসুর জিএস আম্মার

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

শিবিরের ‘সাথী’ পদ হারিয়েছেন রাকসুর জিএস আম্মার

রাবি প্রতিনিধি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ হারিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, ঘটনাটি ২০২৫ সালের। কিছু অনিয়মের অভিযোগে তার ‘সাথী’ পদ বাতিল করা হয়েছে।

শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত চলতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের একটি চিঠিতে বলা হয়- নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদের তছরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে সালাউদ্দিন আম্মারের সাথী পদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত হয়। উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে তার ‘সাথী’ পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, আম্মারের কর্মকাণ্ড এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হওয়ার কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তার ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড’ ক্যাম্পাসকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ কারণে তার অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের ইতিবাচক বা নেতিবাচক মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া না দেখানোর জন্য সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। শুধু রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের তার সঙ্গে দাপ্তরিক সম্পর্ক রাখার কথা বলা হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শিবিরের তৎকালীন সভাপতি ও বর্তমান রাকসু সহ-সভাপতি (ভিপি) মুস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতেও সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ আম্মারের বিরুদ্ধে ওঠে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের অভিযোগের বিষয়টি শাখার ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আলোচনা করা হয়। সভায় তার বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনের অভিযোগ আমলে নিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ‘সাথী’ পদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আর্কাইভ