প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে। তিনি সেই সময়ের সব কার্যক্রম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, দুর্নীতির বিষয়ে সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো সরকারের কর্মকাণ্ড প্রশ্নের ঊর্ধ্বে হতে পারে না। নির্বাচিত হোক বা অন্তর্বর্তী—যে কোনো সরকারের সিদ্ধান্ত, ব্যয়, ঋণ গ্রহণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কিংবা প্রশাসনিক কার্যক্রম জনস্বার্থে পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে। তবে সেই তদন্ত হতে হবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামুক্ত, প্রমাণভিত্তিক এবং সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। কারণ তদন্তের উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা নয়; বরং সত্য উদ্ঘাটন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করা।
বাংলাদেশে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ফলে যদি সত্যিই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে তা তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া উচিত। একইভাবে অতীত ও বর্তমান—সব সরকারের ক্ষেত্রেই একই মানদণ্ড প্রয়োগ করতে হবে। ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তিই হলো সবার জন্য সমান আইন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক বার্তা, কারণ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐকমত্য গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। তবে রাজনৈতিক ঐক্যের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
বাজেটকে জনবান্ধব উল্লেখ করে তিনি নিত্যপণ্যের দাম না বাড়ার কথাও বলেছেন। বাস্তবে বাজেটের সফলতা নির্ভর করবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, কৃষি উৎপাদন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। জনগণ শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব ফলাফলই মূল্যায়ন করে।
সবশেষে বলা যায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এটি হতে হবে রাষ্ট্র পরিচালনার একটি স্থায়ী নীতি। অতীত, বর্তমান কিংবা ভবিষ্যৎ—যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই একটি গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।