প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে টহল দেওয়ার জন্য চালকবিহীন ‘ড্রোন স্পিডবোট’ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এ প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন কোনো সক্রিয় যুদ্ধে এ ধরনের নৌযান ব্যবহারের কথা স্বীকার করল। এর আগে এসব নৌযান মোতায়েনের খবর কোথাও প্রকাশিত হয়নি।
এ ড্রোন বোটগুলো নজরদারি করার পাশাপাশি আত্মঘাতী হামলার কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
গত বছর রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চালকবিহীন নৌবহর তৈরির ক্ষেত্রে মার্কিন নৌবাহিনী বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। তবে সে প্রতিকূলতা কাটিয়েই এগুলো এখন যুদ্ধক্ষেত্রে নামানো হলো।
ইউক্রেন যুদ্ধে বিস্ফোরকবাহী স্পিডবোট দিয়ে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের ব্যাপক ক্ষতি করার পর থেকে চালকবিহীন এ নৌযানগুলো আলোচনায় আসে। প্রায় এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর থেকে ইরানও অন্তত দুইবার পারস্য উপসাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার জন্য ‘সি ড্রোন’ বা সমুদ্র-ড্রোন ব্যবহার করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এসব চালকবিহীন নৌযান দিয়ে কোনো আক্রমণাত্মক হামলা চালিয়েছে কি না, তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্স জানিয়েছেন, মেরিল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ব্ল্যাক-সি’র তৈরি এসব চালকবিহীন নৌযান ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে টহল দিচ্ছে। এ বিশেষ নৌযানগুলো ‘গ্লোবাল অটোনোমাস রিকনেসান্স ক্রাফট’ বা ‘জিএআরসি’ নামে পরিচিত।
এক বিবৃতিতে হকিন্স বলেন, মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে জিএআরসির মতো ড্রোন নৌযান ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। এ বিশেষ প্ল্যাটফর্মটি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমর্থনে টহল দেওয়ার সময় সফলভাবে ৪৫০ ঘণ্টারও বেশি পানিতে ভেসে থেকে ২ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করেছে।
তবে বর্তমানে মোতায়েন থাকা অন্য কোনো ড্রোন ব্যবস্থার নাম বলতে রাজি হননি হকিন্স। এ বিষয়ে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ব্ল্যাক-সি’ও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স