প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘গণঅভ্যুত্থান কোনো নিউটনের আপেল ছিল না। এটাকে আমাদের পাকাতে হয়েছে, এটা কখনো অটোমেটিক ছিঁড়ে পড়েনি। দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল হিসেবে এই আপেলকে এই আন্দোলনকে, এই গণঅভ্যুত্থানকে আমাদের পেরে নিতে হয়েছে।’
শনিবার (৮ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খা ও দ্বিতীয়বর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাদা দল’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রাজনীতির নতুন বন্ধুরা নতুন বন্দোবস্তের নতুন রাজনীতির কথা বলে পুরাতন বন্দোবস্তের ধারায়। তাদেরকে সংশোধন হতে বলব। রাজনীতিতে বাল্যশিক্ষা শ্রেণির ছাত্র হয়ে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরের মতো আচরণ করে, সেটা ঠিক নয়। শিখতে হবে, অনেক দূর যেতে হবে। রাজনীতির মাঠ অনেক কঠিন, বন্ধুর এবং কণ্টকাকীর্ণ পথ। এতো সহজ নয়।’
তিনি বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে, মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের ভেতরে ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের কিছুই নেই, তাহলে এটাও রাজনৈতিক অপরিপক্কতা। সেজন্য বলি, রাজনীতির মাঠের প্রাইমারি স্কুলের বাল্যশ্রেণির ছাত্র হিসেবে যদি সবকিছু বুঝে নিয়েছি বলা হয়, আমি তাদেরকে বলবো, নতুন দলের নতুন বন্ধুদের, পুরাতন বন্দোবস্তের রাজনীতি বাংলাদেশে আর হবে না। চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে আর হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বন্ধুরা যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দীর্ঘদিনের সঙ্গী ছিল, কখনো কখনো তারা লুকিয়ে বা অন্যভাবে আন্দোলনে শরিক ছিল। প্রকাশ্যে তারা খুব বেশি মাঠে-ময়দানে আন্দোলন করেনি। আমরা জাতীয় সংসদে বিতর্ক করবো, মাঠে-ময়দানে রাজনীতি করবো, সেটা হবে গণতান্ত্রিক চর্চা। কিন্তু আমরা এমন চর্চা করবো না, যাতে ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন সহজ হয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই কৃতিত্বকে ছিনতাই করতে চায়, যার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজনীতি করতে চায়, তাদের কাছে আমরা অনেকবার বলেছি যে, চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে ফেইল করেছে (ব্যর্থ হয়েছে)। একাত্তরের চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে মারাত্মকভাবে ফেইল করেছে।’
শেখ হাসিনা একাত্তরের চেতনা বিক্রি করতে করতে দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে বলেও উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন হয়েছে দিল্লিতে এটা একটা প্রবাদ হয়ে গিয়েছে। প্রবক্তা আমি হলেও, প্রবাদ হতে তো অসুবিধা নেই। কেন হয়েছে? এই চেতনার রাজনীতি করতে করতে।’
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষকদের ভূমিকা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন।