প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারি শনাক্ত হওয়ার ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, সৌন্দর্যের নামে দেশের বাজারে কতটা ভয়ংকর প্রতারণা চলছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) পরীক্ষায় আটটি ব্র্যান্ডের ফর্সাকারী ক্রিমে বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী অনুমোদিত মাত্রার বহু গুণ বেশি মার্কারি পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পণ্যে এই মাত্রা ১২০ পিপিএম ছাড়িয়েছে, যেখানে অনুমোদিত সর্বোচ্চ সীমা মাত্র ১ পিপিএম। এই তথ্য নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব পণ্যের অধিকাংশই বৈধ পথে দেশে আসেনি। চোরাচালান, লাগেজ বা অনিয়ন্ত্রিত উপায়ে দেশে ঢুকে সহজেই বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। দোকানের পাশাপাশি অনলাইনেও এসব পণ্য অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এটি শুধু আইন প্রয়োগের দুর্বলতা নয়, বরং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের অভাবও তুলে ধরে।

মার্কারি একটি অত্যন্ত বিষাক্ত ভারী ধাতু। দীর্ঘদিন এসব ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কিডনির জটিলতা, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে অনাগত শিশুর বিকাশ ব্যাহত হওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অথচ দ্রুত ফর্সা হওয়ার লোভ দেখিয়ে এসব পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছে, যা অনৈতিকই নয়, অপরাধও বটে।
বিএসটিআই ক্ষতিকর প্রসাধনীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু শুধু বিবৃতি বা অভিযান দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সীমান্তে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর হতে হবে। বাজারে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ক্ষতিকর প্রসাধনী জব্দ, অনলাইন বিক্রেতাদের নজরদারিতে আনা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।
এর পাশাপাশি সমাজে প্রচলিত ‘ফর্সা মানেই সুন্দর’—এই ভ্রান্ত ধারণা বদলাতেও কাজ করতে হবে। ত্বকের রঙ নয়, সুস্থ ও নিরাপদ ত্বকই প্রকৃত সৌন্দর্য। বিজ্ঞাপনের প্রলোভন বা সামাজিক চাপে পড়ে অজানা উৎসের প্রসাধনী ব্যবহার করা নিজের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ঝুঁকি নেওয়ার শামিল।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিরাপদ বাজার নিশ্চিত করা, ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব নিরাপদ পণ্য সরবরাহ করা এবং ভোক্তার দায়িত্ব সচেতনভাবে পণ্য নির্বাচন করা। জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। সৌন্দর্যের নামে বিষের ব্যবসা বন্ধে এখনই কঠোর, সমন্বিত ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।