প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার প্রথমবারের মতো ৫০০ বিলিয়ন ডলার বা অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। চলতি মূল্যে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা প্রায় ৫০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জিডিপির এ বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন সক্ষমতার উন্নয়নের ইঙ্গিত দেয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে জিডিপির আকার ছিল ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে তা ৫০১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
সাময়িক হিসাবে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। যদিও প্রবৃদ্ধির এই হার অতীতের তুলনায় এখনও কম, তবে অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে কৃষি খাত ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা আগের বছরের ২ দশমিক ৪২ শতাংশের তুলনায় বেশি। খাদ্যশস্য উৎপাদন, গ্রামীণ অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ এ খাতের প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
তবে শিল্প খাতের চিত্র তুলনামূলকভাবে উদ্বেগজনক। সাময়িক হিসাবে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার দুর্বলতা শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, জিডিপির আকার বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে শিল্প খাতকে আরও শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় অর্থনীতির আকার বড় হলেও তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পুরোপুরি পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।