• ঢাকা বৃহস্পতিবার
    ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

আমি একজন শিক্ষক, এর বাইরে আর কিছু না: সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

আমি একজন শিক্ষক, এর বাইরে আর কিছু না: সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কাফরুল থানায় করা তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুনানিকালে তিনি বলেন, ‘আমি ভিসি থাকাকালীন সময় জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যা নিয়ে প্রতিবাদ করেছি এবং কথা বলেছি। আমি একজন শিক্ষক, এর বাইরে আর কিছু না।’

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর এই মামলায় কলিমউল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জহুরুল ইসলাম। ওই দিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

মামলার আবেদনে বলা হয়, কারাগারে থাকা নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর এই মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। কলিমউল্লাহর নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।

নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মহসিন রেজা বলেন, ‘আসামির রাজনৈতিক কোনো পদ পদবি নেই। তিনি একজন প্রফেসর, আওয়ামী লীগের আমলেও তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। তিনি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদ বহন করতেন। এটা থেকেই তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো আবেদন করা হয়েছে।’

অন্যদিকে গ্রেফতার দেখানোর পক্ষে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, ‘আসামি আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত ছিল। এই হত্যার সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে। আসামিকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর প্রার্থনা করছি।’

শুনানিকালে আদালতের অনুমতি নিয়ে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন এবং আমার শিক্ষকতার জীবনে কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত ছিলাম না। এখনই নেই। আমি ভিসি থাকাকালীন সময় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছি। এতে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কোটা সংস্কার ও তৎকালীন সরকারের পতনের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছিল। ওই আন্দোলন দমনে বিভিন্ন পর্যায়ের আসামিরা পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেন। ওই বছরের ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কাফরুল থানাধীন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হামলা চালানো হয়। এ সময় ভিকটিম মো. তরিকুল ইসলাম রুবেলসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও আহত হন। রুবেল মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ওই ঘটনায় নিহতের নিকটাত্মীয় আতিউর রহমান কাফরুল থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫৭ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমউল্লাহকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই দিনই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

আর্কাইভ