প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান কর্মকর্তার এই অনুপস্থিতির কারণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে গণপূর্ত ভবনে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের দপ্তরে গিয়ে তাঁর কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। কক্ষের সামনে দায়িত্বরত এক কর্মচারী জানান, "স্যার এখনো অফিসে আসেননি।" পরবর্তীতে কার্যালয়ের ভেতরের অন্যান্য ডেস্কে দু-একজন কর্মচারী উপস্থিত থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলীর অবস্থান সম্পর্কে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কার্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই তিনি এভাবে নিজের ইচ্ছামতো অফিস পরিচালনা করছেন। তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কোনো জরুরি সভা থাকলে কেবল সেদিনই তাঁকে যথাসময়ে উপস্থিত হতে দেখা যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার জানান, নির্বাহী প্রকৌশলীর অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে কাজের তদারকি থেকে শুরু করে বিল পাস হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তারা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। নাম প্রকাশ করলে পরবর্তীতে কাজের বিল আটকে দেওয়া বা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কার কথাও জানান তারা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এক ঠিকাদার বলেন, "যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে সকাল ৯টায় অফিসে উপস্থিত হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন, সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলার প্রধান কর্মকর্তা কীভাবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেন? তাঁর এই খুঁটির জোর কোথায়?"
এই বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের কয়েকজন অধস্তন কর্মচারীর সাথে কথা বললে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, "তিনি আমাদের বড় স্যার। তিনি কখন আসবেন বা যাবেন, সে বিষয়ে জানতে চাওয়ার বা জবাবদিহি চাওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই।"