• ঢাকা শুক্রবার
    ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২
আসিফ নজরুল

বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে খালেদা জিয়াকে আত্মস্থ করতে হবে

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম

বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে খালেদা জিয়াকে আত্মস্থ করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে বেগম জিয়াকে আত্মস্থ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় তিনি বলেন, বেগম জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, আমি একটা কথা প্রায় বলতাম, বেগম জিয়া ভালো থাকলে ভালো থাকবে বাংলাদেশ। বিশ্বাস করি, উনি অবশ্যই এখন ভালো আছেন।

গোটা বাংলাদেশ কি ভালো আছে? ভালো থাকবে? যদি বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হয়, তাহলে বেগম জিয়াকে ইন্টারনালাইজ (আত্মস্থ) করতে হবে। উনি উনার অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। উনি সৎ ছিলেন, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন, আত্মত্যাগী ছিলেন, দেশপ্রেমী ছিলেন। উনার মধ্যে রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল।

পরমতসহিষ্ণু ছিলেন। বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে বেগম জিয়াকে ইন্টারনালাইজ (আত্মস্থ) করতে হবে।

আসিফ নজরুল আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। উনার পক্ষে কথা বলার মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না।

মনে আছে উনার একটি অদ্ভুত বিচার হয়েছিল। সেই বিচারে উনি এত শকড হয়েছিলেন! অন্যপক্ষের আইনজীবীর কথা শুনে তিনি অবাক হয়ে বলেছিলেন, আমি মেরে খেয়েছি এতিমের টাকা! বিস্মিত হয়ে তিনি বলেছিলেন। এ বাক্যটাকে বিচারক লিখেছিলেন- বেগম জিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি কাজটা করেছেন। আমি আইনের ছাত্র হয়ে বলি, এত জঘন্য একটা বিচার হয়েছে।
এটার বিপক্ষে বিবৃতি লিখে তিনি বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন জানিয়ে আসিফ নজরুল আরও বলেন, বিভিন্ন মানুষকে ফোন করেছি।

চারজনের বেশি রাজি হননি যে হাইকোর্টে কী করবে না করবে। চারজনের তো আর বিবৃতি হয় না, তাই পত্রিকায় দিতে পারিনি। তিনি যখন বিমর্ষ অবস্থায়, উনার যেন বিদেশে উন্নত চিকিৎসা হয়, কত মানুষকে অনুনয়-বিনয় করেছি, অনেকের ইচ্ছে ছিল, সাহস করেননি।
এক নেত্রীর ঠাঁয় হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আরেকজনের ঠাঁয় হয়েছে বিতাড়িত ভূমিতে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে আমার ভালো লাগছে, সবাই আমরা মুক্তভাবে বেগম জিয়ার প্রতি ভালোবাসার কথা বলতে পারছি। আল্লাহর কাছে হাজার কৃতজ্ঞতা, বাংলাদেশের মানুষ আজকে স্বাধীনভাবে ঘৃণাও প্রকাশ করতে পারছে, স্বাধীনভাবে ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারছে।

শোকসভায় আরও বক্তব্য দেন দৈনিক যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ, আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এস এম ফয়েজ, ডেইলিস্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, গবেষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. রাশেদ আল তিতুমীর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিমিন রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়।

বক্তব্য না দিলেও শোকসভায় সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং শীর্ষস্থানীয় নেতারা। সভার আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্ল্যাহ এবং সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন।

জাতীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ