প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ১১:০৯ পিএম
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের ঘোষণা—দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে বদলি নয়, চাকরিচ্যুতি—নিঃসন্দেহে একটি শক্ত বার্তা। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দপ্তরগুলোতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে কেবল অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। ফলে শাস্তির পরিবর্তে বদলি যেন এক ধরনের অলিখিত রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল।
মন্ত্রী যখন বলেন, “যেখানে অবহেলা ও দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুতি; ট্রান্সফার বা বদলিতে আমি বিশ্বাস করি না,” তখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। কারণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান শুধু বক্তব্যে নয়, বাস্তব পদক্ষেপেই প্রমাণিত হয়।
স্বাস্থ্য খাত দেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর খাতগুলোর একটি। এখানে দুর্নীতির মূল্য শুধু অর্থের অপচয় নয়, অনেক সময় মানুষের জীবন। ওষুধ ক্রয়, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নিয়োগ, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কিংবা রোগীসেবার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উৎসাহিত হবেন।
একই সঙ্গে সরকার যে প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার, কমিউনিটি ক্লিনিকের সংস্কার, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে—এসব উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। তবে উন্নয়ন প্রকল্পের সফলতা নির্ভর করবে সুশাসন, জবাবদিহি ও দুর্নীতিমুক্ত বাস্তবায়নের ওপর।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ কেবল একটি স্লোগান হয়ে থাকলে জনগণের আস্থা ফিরবে না। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং প্রমাণিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণই পারে রাষ্ট্রের বার্তাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে।
আজ দেশের মানুষ নতুন হাসপাতাল যেমন চায়, তেমনি চায় সৎ প্রশাসন। নতুন প্রকল্প যেমন চায়, তেমনি চায় দুর্নীতিমুক্ত বাস্তবায়ন। বদলির সংস্কৃতি ভেঙে প্রকৃত অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা গেলে সেটিই হবে স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের প্রথম ধাপ।
এখন দেখার বিষয়, ঘোষণাটি প্রশাসনিক বাস্তবতায় কতটা প্রতিফলিত হয়। কারণ ইতিহাস বলে—দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য নতুন নয়; নতুন হবে তখনই, যখন প্রতিটি দুর্নীতিবাজ জানবে, তার শেষ ঠিকানা আর বদলির আদেশ নয়, চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত।