• ঢাকা বুধবার
    ০৩ জুন, ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মোজতবা খামেনি জীবিত ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়: মার্কো রুবিও

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ১০:২৯ এএম

মোজতবা খামেনি জীবিত ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়: মার্কো রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে ক্রমশ আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে রুবিও বলেন, মোজতবা খামেনি জীবিত রয়েছেন এবং ইরানের রাজনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থায় তার সম্পৃক্ততা বাড়ছে।

তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবরের পর ইরানের নেতৃত্ব কাঠামোয় যে পরিবর্তন এসেছে, এটি তারই প্রতিফলন।

আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তবে তার নামে প্রচারিত বিভিন্ন লিখিত বার্তা ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা তার বর্তমান ভূমিকা ও ক্ষমতার পরিধি নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মার্কো রুবিওর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলে আলোচনা চলছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, তার সীমিত জনসম্মুখ উপস্থিতি ইরানের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও জল্পনা তৈরি করেছে।

একই শুনানিতে রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে না।

তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়নি। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে শর্তসাপেক্ষ হবে এবং তা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি ও অন্যান্য পারমাণবিক কার্যক্রম পরিত্যাগের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়ে রুবিও দাবি করেন, সামরিক অভিযানটি ‘অত্যন্ত সফল’ ছিল এবং এর ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা-শিল্প সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইরানের কোনো নৌবাহিনী আর অবশিষ্ট নেই। সেটি এখন সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে।’

রুবিওর এই মন্তব্য সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

পারমাণবিক আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রথমবারের মতো ইরান হয়তো তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী, যেগুলো আগে আলোচনার বাইরে ছিল।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা শুরু হলেও তা ওয়াশিংটনের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক বাজেট শুনানির অংশ হিসেবে রুবিও মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের বিভিন্ন কমিটির সামনে হাজির হন। তবে শুনানির মূল আলোচ্য দ্রুতই ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে চলে যায়।

ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতারা যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় এবং কৌশলগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ