প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
দেশের বিচারব্যবস্থায় বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন—এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং বিচারপ্রার্থী মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথে বড় একটি প্রতিবন্ধকতার প্রতিচ্ছবি। এমন বাস্তবতায় মামলা দায়েরের আগেই বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
বিশ্বের অনেক দেশেই দেওয়ানি ও পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এতে আদালতের ওপর চাপ কমে, সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয় এবং বিরোধ নিষ্পত্তি তুলনামূলক দ্রুত সম্ভব হয়। বাংলাদেশেও যদি এই প্রক্রিয়া দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়, তাহলে বিচারব্যবস্থার দীর্ঘদিনের মামলা জট নিরসনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কেবল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। মধ্যস্থতাকারীদের দক্ষতা, জবাবদিহি, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের আস্থা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আইনমন্ত্রীর ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই নির্ধারণ করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এবং শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধকে সেই আওতার বাইরে রাখার ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, অপরাধের প্রকৃতি ও ন্যায়বিচারের স্বার্থই সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাওয়া উচিত।

সরকার জানিয়েছে, নতুন সরকারের প্রথম চার মাসে আদালতে মামলা ৬২ শতাংশ কমেছে। এই তথ্য যদি দীর্ঘমেয়াদে একই ধারায় অব্যাহত থাকে, তবে তা বিচারব্যবস্থার জন্য অবশ্যই আশাব্যঞ্জক হবে। তবে এ ধরনের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি বিচার নিষ্পত্তির গতি, রায়ের মান এবং জনগণের বিচারপ্রাপ্তির সন্তুষ্টিও সমানভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বিচার বিলম্বিত হলে অনেক সময় বিচারই অস্বীকার করা হয়। তাই মামলা জট কমাতে মধ্যস্থতা কার্যক্রমকে একটি কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থায় পরিণত করা এখন সময়ের দাবি। সফল বাস্তবায়নই পারে বিচারব্যবস্থায় জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে।