আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে উদ্ধারকারী দল পাঠিয়ে সহযোগিতা করতে চায় তুরস্ক। এদিকে প্রতিবেশী দেশের এমন বিপর্যয়ে জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠাতে চাচ্ছে চীন। খবর আল জাজিরার।

গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পের কবলে পড়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান। বুধবারের (২২ জুন) ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পাকটিকা ও খোস্ত প্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শত শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে ১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত দেড় হাজার।

ভূমিকম্প সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা ক্ষমতাসীন তালেবানের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দেখা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছরের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতার দখল নেয় সাবেক বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রে রিজার্ভের অর্থ আটকে থাকা ও নিয়মিত বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তালেবান সরকার চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে রয়েছে।



এমন পরিস্থিতিতে ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছে তালেবান কর্তৃপক্ষ। সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা আনাস হাক্কানি বলেছেন, সরকার তার নিজস্ব সক্ষমতায় যতটুকু সম্ভব ততটুকু নিয়েই কাজ করছে। সেই সঙ্গে আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ত্রাণ সহায়তা সংস্থাগুলো আমাদের জনগণের এ বিপদের সময়ে সহযোগিতার হাত নিয়ে এগিয়ে আসবে।  

ইতোমধ্যে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জাতিসংঘ বলেছে, আফগানিস্তানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করার মতো সক্ষমতা তাদের নেই। তবে চাইলে এক্ষেত্রে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে তুরস্ক। দেশটি আফগান সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। 

আফগানিস্তানে জাতিসংঘের দূত রমিজ আলাকবারোভ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তুর্কি দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আনুষ্ঠানিক অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছেন।

এদিকে আফগানিস্তানের চরম এ বিপদে মানবিক সহায়তা পাঠাতে চেয়েছে প্রতিবেশী দেশ চীন। বুধবার নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েবিন আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে হতাহতে সমবেদনা প্রকাশ করেন।