লালমনিরহাটে তিস্তায় চলছে সতর্ক সংকেত। তিস্তা ব্যারাজের সব গেট খুলে দিয়ে পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে। কখনও তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপরে, কখনও পানি বিপদসীমার নিচে। ফলে সকালে পানি বসত বাড়ি থেকে নেমে গেলেও বিকালে আবারও পানিবন্দী হচ্ছে তিস্তা পাড়ের হাজার হাজার পরিবার। সব মিলে তিস্তা পাড়ে এখন চলছে আতংক।

জেলার পানিবন্দী ৩০ হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ চললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে নগন্য। ফলে ত্রাণ নিয়ে তিস্তা পাড়ে লোকজনের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।

সোমবার (২০ জুন) তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে রাত পর্যন্ত ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও মঙ্গলবার (২১ জুন) সকালে পানি কমে বিপদসীমা ছুঁইছুঁই। বেলা ১২টায় পানি বেড়ে আবারও বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপরে এবং ৩টায় বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বুধবার (২২ জুন) সকাল ৯টায় আবারও পানি নেমে গিয়ে বিপদসীমার ১০ সেঃ মিঃ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে নদীর তীরবর্তী প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পরে। পানি কমা ও বাড়ার কারণে ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে তীরবর্তী পরিবারগুলো। পানিবন্দী পরিবারগুলোর অভিযোগ, তারা দুই-এক দিন পর পর পানিবন্দী হচ্ছে। কিন্তু সেভাবে ত্রাণ পাচ্ছে না। ত্রাণের ১০ কেজি চাল দিয়ে তাদের কিছুই হচ্ছে না। তারা আরও ত্রাণ বিতরণের দাবি জানান।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল, পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মজিবুল আলম
সাহাদ এবং ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মশিউর রহমান জানান, তাদের ইউনিয়নে যে পরিমাণ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে সেই তুলনায়
তারা ত্রাণ দিতে পারছে না। প্রতিদিন ত্রাণের জন্য লোকজন ইউনিয়ন পরিষদে ভিড় করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া পয়েন্টের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফা-উদ-দৌল্লা বলেন, ’গত মঙ্গলবার সকালে পানি কমে বিপদসীমা ছুঁইছুঁই হলেও বিকালে বেড়ে ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর আগে গত ১২ জুন থেকে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বৃদ্ধি ও কমার মধ্য দিয়ে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। গত ১৭ জুন সকাল ৬টায় প্রথমবারের মতো বিপদসীমা অতিক্রম করে ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আজ বুধবার সকাল ৯টায় আবারও পানি নেমে গিয়ে বিপদসীমার ১০ সেঃ মিঃ নিচ দিয়ে প্রবাহিতহচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, ত্রাণের কোনো সংকট নেই। ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

জেইউ/এএল