ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাদের প্রার্থী হিসেবে দ্রৌপদী মুর্মুর নাম ঘোষণা করেছে। ৬৫ বছর বয়সী দ্রৌপদী ওড়িশার সাবেক বিজেপি নেত্রী ও সে রাজ্যের সাবেক মন্ত্রীও। তিনি নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল পদেও ছিলেন। মঙ্গলবার (২১ জুন) বিজেপির বৈঠকের পরে দলের সভাপতি জেপি নড্ডা তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের নেত্রী দ্রৌপদীর নাম ঘোষণা করেন।

নড্ডা বলেন, এনডিএ শরিকদের সঙ্গে আলোচনায় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ২০ জনের নাম এসেছিল। শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মত ভাবে দ্রৌপদী মুর্মুর নাম চূড়ান্ত হয়েছে। এ বারের রাষ্ট্রপতি ভোটের অঙ্ক বলছে, দেশের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন আদিবাসী নেত্রী দ্রৌপদী। কারণ, ভোটমূল্যের প্রাথমিক হিসাবে কংগ্রেস, তৃণমূল, বামসহ ১৮টি বিরোধী দলের প্রার্থী যশবন্ত সিনহার তুলনায় বেশ কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন তিনি।

অনেকে বলছেন, রাম-রাজনীতির বিজেপি এটা মহাভারত-স্ট্রোক। কিন্তু উল্টো দিকে ‘দ্রৌপদী’ নামের যোগ নেহাতই কাকতালীয় বলে মনে করছেন বড় অংশ। তবে তারা বলছেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ দ্রৌপদীকে প্রার্থী করা বিজেপির ‘মাস্টারস্ট্রোক’। তাদের মতে, দলিত নেতা রামনাথ কোবিন্দের পরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দ্রৌপদীকে প্রার্থী করে এ বার বিজেপি বিরোধী জোটকে টেক্কা দিল। ওড়িশায় নেত্রী হওয়ায় নবীন পট্টনায়কের দল বিজেডির পক্ষে দ্রৌপদীকে সমর্থন করার সম্ভাবনাও প্রবল হবে।

শরদ পওয়ার, ফারুক আবদুল্লা এবং গোপালকৃষ্ণ গাঁধী বিরোধী জোটের প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখান করার পর যশবন্তকে প্রার্থী করেছে বিরোধী জোট। অন্য দিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়নের জন্য বিজেপির তরফে রাজনাথ সিংহ বার বার বিরোধী নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করলেও তা নিষ্ফল হয়েছিল। রাজনাথের প্রস্তাবে সায় দেয়নি, কংগ্রেস, তৃণমূল, বামেরা।

আরআই