গত ৩০ বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় রেল ধর্মঘট শুরু হয়েছে। চাকরি ও মজুরি নিয়ে বিরোধে মঙ্গলবার (২১ জুন) থেকে ধর্মঘট শুরু করেছেন হাজার হাজার কর্মী। এতে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক স্টেশন। মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনিবার ধর্মঘট করবেন ৪০ হাজারের বেশি রেলকর্মী। মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের আগে থেকে কর্মীদের ধর্মঘটে রেল চলাচল এবং বড় স্টেশনগুলো অলস হয়ে পড়ে। আলাদা ধর্মঘটের কারণে বন্ধ রয়েছে লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোর বড় অংশও।

কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন ব্রিটিশ পরিবারগুলোকে সাহায্য করার জন্য আরও কিছু করার চাপে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেছেন, মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারের সময় এই পদক্ষেপ ব্যবসার ক্ষতি করবে। ইউনিয়নগুলো বলেছে, শিক্ষক, চিকিৎসক বর্জ্য অপসারণ কর্মী, এমনকি ব্যারিস্টারদের ‘অসন্তোষের গ্রীষ্ম’-এর সূচনা করতে পারে এই রেল ধর্মঘট। এর কারণ হিসেবে তারা বলছে, খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে মুদ্রাস্ফীতি ১০ শতাংশের দিকে ঠেলে শিল্প পদক্ষেপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

রেল, সমুদ্র ও পরিবহনকর্মী (আরএমটি) ইউনিয়নের মহাসচিব মিক লিঞ্চ বলেন, ব্রিটিশ কর্মীদের মজুরি বাড়ানো প্রয়োজন। তাদের চাকরির নিরাপত্তা, শালীন শর্ত এবং সাধারণভাবে একটি সমান চুক্তির প্রয়োজন। যদি আমরা এগুলো পাই, তাহলে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে আমাদের এখন ব্যাঘাত ঘটাতে হবে না এবং এটি গ্রীষ্মজুড়ে আরও বাড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ইউনিয়নগুলো সেই মানুষগুলোর ক্ষতি করছে, যাদের তারা সাহায্যের দাবি করছে। তিনি বলেন, এই রেল ধর্মঘট এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তারা এমন যাত্রীদের তাড়িয়ে দিচ্ছে, যারা শেষ পর্যন্ত রেলকর্মীদের চাকরিকে সমর্থন করে, এর ফলে সারা দেশের ব্যবসা এবং জনগোষ্ঠীগুলোও আক্রান্ত হবে।

বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আলোচনায় যুক্ত হতে অস্বীকার করার জন্য বিরোধী আইন প্রণেতাদের সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছে সরকার। মন্ত্রীরা বলছেন, এটি নিয়োগকারীদের সঙ্গে ইউনিয়নগুলোর সরাসরি কাজ করার বিষয়।

আরআই/এএল