পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলায় কমপক্ষে ১৩২ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার এক বিবৃতিতে দেশটির সরকার জানিয়েছে, শনিবার (১৮ জুন) ও রবিবার (১৯ জুন) রাতে মালির মোপ্তি অঞ্চলের ব্যাঙ্কাসের অন্তত তিনটি গ্রামে হামলা চালিয়ে এ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। কাতিবা মাকিনা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা এ হামলা চালিয়েছে বলে সন্দেহ করছে মালি সরকার।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাতিবা মাকিনা গোষ্ঠীটি আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এরা ঠান্ডা মাথায় দিয়াল্লাসাগউ, দিয়াওয়েলি ও ডেসাগৌ গ্রামের নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

ব্যাঙ্কাসের মেয়র মোলায়ে গুইন্দো বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, ‘কীভাবে হামলাটি সংঘটিত হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।’ মালিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, পৃথক আরেকটি হামলায় রোববার একজন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীর মৃত্যু হয়েছে। মালিতে জাতিসংঘের মিশনের প্রধান এল ঘাসিম ওয়ানে বলেছেন, ‘এ বছরের শুরু থেকে বেশ কয়েকটি হামলায় জাতিসংঘের বেশ কয়েকজন শান্তিরক্ষীর মৃত্যু হয়েছে।’ 

এ সব হামলার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মালিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন। তারা এক টুইটার পোস্টে বলেছে, মালির মধ্যাঞ্চলে চরমপন্থীদের হামলায় অনেক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এ হামলায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। 

মালি এবং মধ্য সাহেল অঞ্চল কয়েক মাস ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি একের পর এক হামলা চালিয়ে বেসামরিক মানুষদের মেরে ফেলছে। ২০১২ সাল থেকে দেশটিতে নিরাপত্তাহীনতা চরমে উঠেছে। সেখানে আল-কায়েদা ও আইএসআইএসে সঙ্গে সম্পৃক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নির্বিচারে বেসামরিক মানুষদের হত্যা করছে। মালির উত্তরে শুরু হওয়া এ সব সহিংসতা এখন প্রতিবেশী দেশ বুরকিনা ফাসো ও নাইজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। 

আরআই/এএল