প্রত্যেক বাবা যাতে সন্তানকে আরও জড়িয়ে থাকতে পারেন, ভালবাসতে পারেন, তার শখ, আহ্লাদ পূরণ করতে পারেন, সেই আশা নিয়ে এবারও পার হবে আরও এক বাবা দিবস। সারাদিন কাজের পর যে মানুষটি হাসি মুখে বাড়ি ফেরেন, তিনিই তো বাবা। যাঁর কাছে সন্তানের সমস্ত বায়না, আবদার এক নিমেষে পাখা মেলে উড়তে পারে, তিনি তো বাবা।

মাতৃ দিবসের মত গোটা বিশ্ব জুড়ে বর্তমানে পালন করা হয় পিতৃ দিবসও। বাবা দিবসের প্রচলন বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে। ১৯১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পিতৃদিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণার বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

শিশুর অন্তরে যে পিতা ঘুমিয়ে আছে আজ তাকে নতুন করে আরও একবার ভালোবেসে ফেলার দিন। বছরের এই একটি দিনকে প্রিয় সন্তানরা হৃদয়ে ধারণ করে আলাদা করে নিয়েছে। ভাষা বা স্থানভেদে ‘বাবা’ শব্দটির উচ্চারণ বদলায়। তবে বদলায় না রক্তের টান। জার্মানিতে যিনি ‘ফ্যাটা’, আমেরিকার ‘ফাদার’, ভারতের ‘পিতাজি’, দক্ষিণ আফ্রিকার ‘পা’, মালয়ের ‘আবাম্বু’ বাংলায় হয়ে যায় ‘বাবা-আব্বা’।

গত বছর অগ্নিকাণ্ডে বাবাকে হারান নারায়ণগঞ্জের কিশোর মিনহাজ চৌধুরী। বলছিলেন, বাবা নেই-জীবনটা যেন শূন্য। টাকা পয়সা আছে, বাবার ব্যবসাও রয়ে গেছে। নতুন বাড়ি হয়েছে। কিন্তু, কেমন যেন শূন্য শূন্য লাগে। যে শূন্যস্থান কোনো কিছু দিয়ে পূরণ হচ্ছে না। আমার কোনো কিছু না থাকলেও, বাবা যদি সামনে থাকত, আর কিছুই দরকার ছিল না। বার্ন ইউনিটে তার সামনে বাবা চিরতরে চলে গেছেন। বাবার কবরে গিয়ে কান্না করি, কিন্তু বাবার মুখের শব্দ শুনি না। মাথায় হাত রেখে বলে না, মিনহাজ কাঁদিস না। কথাগুলো বলতে গিয়ে শিশুর মতো কাঁদছিলেন কিশোর মিনহাজ।

ঢাকা থেকে প্রায় সময় মধ্যরাত, কখনোবা ভোররাতে গ্রামের বাড়ি আখাউড়া পৌঁছতেন গুনগুন নামের এক যুবক। তার বাবা ভোররাত পর্যন্ত দরজা খোলা রেখে অপেক্ষা করতেন কখন সন্তান আসবে। একদিন নয়, মাস নয়, বছরের পর বছর এমন করে সন্তানের অপেক্ষায় থাকতেন গুনগুনের বাবা। গ্রামের বাড়িতে সন্তান পৌঁছতেই শতবর্ষী বাবা মুহূর্তেই যেন যুবক হয়ে উঠতেন। সন্তানকে বুকে জড়িয়ে কাঁদতেন। যত্ন করে রাখা লুঙ্গি বের করে দিতেন, গরম করে রাখা পানি দিয়ে গোসল করতে বলতেন। ভোর হতেই বাড়ির মহিলাদের বলতেন, গুনগুনের জন্য রান্না করো, পিঠা বানাও। সন্তান যখন নাস্তা করত, বাবা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতেন। অশ্রু গড়িয়ে পড়ত। গুনগুন বলছিল, যার বাবা নেই-কেবল সেই জানে কী হারিয়েছে। বাবাবিহীন পৃথিবী সন্তানের কাছে শূন্য থেকে যায়।

বাবা দিবসটি ঘিরে ফ্রান্সের প্রথা হলো, বাবা জীবিত থাকলে সন্তানরা তাকে লাল গোলাপ দেয়। বাবা না থাকলে, বাবার সমাধিতে সাদা গোলাপ রেখে আসে। বাংলাদেশে নির্দিষ্ট কোনো প্রথা নেই। বাবা বেঁচে থাকুক বা না থাকুক। ভাবুন, বিশেষ দিনটিতে আপনার বাবাকে কেমন করে ভালোবাসতে চান।

আরআই