তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর ‘বেগমগঞ্জ কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ শিক্ষার্থীদের সাথে বহিরাগত একদল যুবকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিভিন্ন পর্বের (ব্যাচ) ৬শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৮জন আহত হয়েছে।

এ ঘটনায় রোববার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ বলছে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, মারধর ও জখমের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিবেন তারা। আহতরা হচ্ছেন, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থী নাহিদ আলম, নাজিম উদ্দিন, আশরাফুল ও রিয়াদসহ উভয় পক্ষের ৮জন। এদের মধ্যে ৫ম পর্বের শিক্ষার্থী নাহিদ ছাড়া বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এর ভিতর দিয়ে দু’দিকের লোকজন বাড়িতে আসা-যাওয়া করে। যার ফলে ইনস্টিটিউটটির ভিতরে তেমন একটা নিরাপত্তা নেই। অনায়াসে আবাসিকের শিক্ষার্থীরা বাইরে ও বাইরের লোকজন ভিতরে আসা-যাওয়া করতে পারে। এসব নিয়ে প্রায় সময় শিক্ষার্থীদের সাথে বহিরাগতদের বাকবির্তক, হাতাতির ঘটনা ঘটে। এছাড়াও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে ও চৌমুহনী চৌরাস্তার পাশাপাশি এলাকায় একটি হেলিপ্যাড রয়েছে। যেখানে বিকেলে স্থানীয় যুবক ও প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করে। গত শুক্রবার ওই হেলিপ্যাডে খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু যুবকের সাথে ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাকবির্তকের ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি স্থানীয়রা সমাধান করে দেন। এ ঘটনার জেরে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন চৌরাস্তার একটি দোকানে চা খেতে আসলে বাকবির্তক হওয়া ওই যুবকরা তাদের সাথে ধাক্কা ধাক্কিতে জড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮জন আহত হয়।



একাধিক সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটির ভিতর দিয়ে স্থানীয়দের অবাধ আসা-যাওয়া এবং শিক্ষার্থীরা যখন তখন প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে আসার কারনে অনেক স্থানীয় যুবকদের সাথে তাদের বন্ধুর্ত্ব সম্পর্ক গড়ে উঠে। যার ফলে ওই সম্পর্কের কারনে তারা অনাইয়াসে ভিতরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আড্ডা দিতে পারে বহিরাগত যুবকরা। তাদের এ সম্পর্কের কারণে নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং এর সৃষ্টি ও প্রায় সময় মারামারির মত ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষকে সর্তক থেকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বেগমগঞ্জ কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এর মূখ্য প্রশিক্ষক ড. মীরা রানী দাস বলেন, খেলার মাঠে বির্তকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে শিক্ষার্থীরা চা খাওয়ার জন্য চৌরাস্তার একটি দোকানে গিয়ে বসলে সেখানে হামলা চালায় বহিরাগত যুবকরা। এসময় তারা আমার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বের ৬জন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করে। আহতদের মধ্যে নাহিদ আলম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও জনবল নেই। প্রতিষ্ঠানের ভিতর দিয়ে গ্রামবাসীর আসা-যাওয়ার কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও ঢিলেঢালা হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিবো।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে আমরা কোন লিখিত অভিযোগ পায়নি। ঘটনার সাথে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।



সাজেদ/