বার্সেলোনায় নিজের ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় পার করেছেন সুয়ারেজ। এরপর দলবদল করে পাড়ি জমান লা লিগার আরেক ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে। সেখানে মাত্র দুই মৌসুম কাটিয়েছেন লুইস সুয়ারেজ। তবে অল্প সময়ে ক্লাব এবং সমর্থকদের সঙ্গে এক আবেগের বন্ধন তৈরি হয়েছে তার। ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানোতে নিজের শেষ ম্যাচ খেলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন এই উরুগুইয়ান। সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সুয়ারেজের ক্লাব ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।

শনিবার (১৪ মে) রাতে ঘরের মাঠে সেভিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে অ্যাটলেটিকো। ম্যাচের প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটে হোসে হিমেনেজের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে শেষ বাঁশি বাজার ঠিক মিনিট পাঁচেক আগে সেভিয়ার ইউসুফ আন নাসিরি সেই গোল শোধ দিলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় ডিয়েগো সিমিওনের দলকে।

এদিন শুরু একাদশে ছিলেন সুয়ারেজ। দল যখন ১-০ গোলে এগিয়ে তখন ৬৫ মিনিটে তাকে তুলে নেন সিমিওনে। এরপর টিভির পর্দায় ভেসে ওঠে উরুগুয়ে সুপারস্টার সুয়ারেজের অশ্রুসজল চোখ। বেঞ্চে বসা সুয়ারেজ তোয়ালে দিয়ে মুখ ঢেকে রাখলেও তার চোখের আর্দ্রতা ক্যামেরায় ঠিক ধরা পড়েছে।

লা লিগা ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সমর্থকরাও। সুয়ারেজকে বিদায় জানাতে ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানোতে বিশাল এক ব্যানার টানান তারা, যাতে লেখা ছিল, ‘আমাদের চ্যাম্পিয়ন বানানোর জন্য ধন্যবাদ লুচো।’

২০২০-২১ মৌসুমে বার্সেলোনা থেকে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিলেন সুয়ারেজ। সেবার ৩৮ ম্যাচে ২১ গোল করে অ্যাটলেটিকোর লিগ শিরোপা জয়ে অবদান রেখেছিলেন। তবে এই মৌসুমটা অবশ্য তার একেবারে ভালো যায়নি। ৪৩ ম্যাচ খেলে মোটে ১৩ বার বল জালে জড়াতে পেরেছেন তিনি।

সুয়ারেজের পরবর্তী গন্তব্য কোথায় সেটা অবশ্য এখনও জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্যারিয়ারে শেষ সময়টা নিজ দেশ উরুগুয়ের কোনো ক্লাবে কাটাতে পারেন ৩৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার।

আরআই/এএল