মোবাইলে সম্পর্কের সূত্রধরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনকে বাসায় ডেকে নিয়ে মারধর করে আটকে রেখে অর্ধউলঙ্গ নারীর সাথে জোরপূর্বক অন্তঃরঙ্গ ছবি ও ভিডিও ধারণ করা প্রতারণা চক্রের এক নারীসহ দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় তাদের কাছ থেকে ৫টি লিভিক স্ট্যাম্প, ব্যাংকের ৭টি চেক, ২৪টি মোবাইল ফোন, ১টি আংটি ও নগদ ৩০হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্যগুলো নিশ্চিত করেন, জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন, জেলার চাটখিল পৌরসভার গোবিন্দপুর এলাকার আবদুল লতিফ চৌধুরীর ছেলে টিপু সুলতান চৌধুরী (৪৪) ও সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের পশ্চিম রাজারামপুর গ্রামের সোহেল রানার স্ত্রী তাজ নাহার আক্তার রত্না (৩৪)।

পুলিশ সুপার বলেন, কিছুদিন যাবত মাইজদী বাজারের একজন মহিলা জনৈক এক ব্যক্তির মোবাইলে ফোন করে চাকরি দিয়ে উপকার করার কথা বলে। গত ১২ মে বৃহস্পতিবার জেলা শহরের খন্দকার পাড়ার একটি ভাড়া বাসায় ওই ব্যক্তিকে মোবাইলে ডেকে নেন তাজ নাহার আক্তার রত্না। পরে বাসায় যাওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে আটকে রেখে মারধর এক নারীর সাথে অর্ধউলঙ্গ ছবি, ভিডিও ধারণ করেন রত্না ও তার সহযোগিরা। কিছুক্ষণ পর ২লাখ ৫০হাজার টাকা তাদের প্রদান করবে এ মর্মে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে। এসময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ও একটি স্বর্ণের আংটি রেখে দেয়। ভুক্তভোগি গত ১৩ মে শুক্রবার গোয়েন্দা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন। শুক্রবার  রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের দাবিকৃত টাকাগুলোর মধ্যে ৩০হাজার টাকা নগদ নিয়ে শহরের আমানিয়া হোটেল আসেন ভুক্তভোগী ব্যক্তি। তার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় হোটেলে সাদা পোশাকে থাকা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা টিপু সুলতানকে গ্রেফতার করে।

পরে তাকে সাথে নিয়ে গভীররাতে ডিবি ওসি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে শহরের খন্দকার পাড়ার নুরুল ইসলামের ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ৫টি লিভিক স্ট্যাম্প, ব্যাংকের ৭টি চেক, ২৪টি মোবাইল ফোন, ১টি আংটি ও নগদ ৩০হাজার টাকা জব্দ করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাশ্চিম রাজারামপুর গ্রাম থেকে প্রতারক চক্রের নারী সদস্য তাজ নাহার আক্তার রত্নাকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আসামী টিপু সুলতান চৌধুরীর ব্যবহৃত মোবাইলে গ্রেফতারকৃত রত্নার সাথে জোরপূর্বক অভিযোগকারীর আপত্তিকর ছবি, ভিডিও এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে লিখিত নেওয়ার ভিডিও পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে। তাদের চক্রটি অনেক বড় বলে ধারণা করা হচ্ছে। চক্রটির অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলবে। এসব প্রতারক চক্র থেকে সাধারণ মানুষকে সাবধানে থাকার অনুরোধ করেন পুলিশ সুপার।



সাজেদ/