ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার জোরখালী দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী (১৩) কে একই এলাকার দুই যুবকের বিরু‌দ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ মরিচবুনিয়া গ্রামের মাদ্রাসার ছাত্রীর মা রাহিমা বেগম বাদী হয়ে শুক্রবার (১৩ মে) ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছে। আসামীরা হচ্ছে একই গ্রামের পান্না জমাদ্দারের ছেলে শফিক জমাদ্দার (১৮) ও মান্নান খানের ছেলে জহির খান (১৯) ।

ভিকটিম সাংবাদিকদের জানায়, গত ৯ মে সোমবার রাত দশটার দিকে হাসান নামে এক ছেলে তাকে ফোন দিয়ে জরুরী কথা আছে জানিয়ে ঘরের বাইরে একটু সামনে নামতে বলে। সে বাইরে বের হয়ে একটু সামনে আসলেও হাসানকে কোথাও না দেখে ঘরে ফিরে আসতে শুরু করেন। তখন পেছন থেকে দুটি লোক তার মুখ চেপে পার্শবর্তী খালের ওপারে বাগানের মধ্যে টেনে নিয়ে যায়।

প্রথমে তাদের না চিনলেও পরে সে দেখে তাদের গ্রামে জহির ও শফিক। এসময় তারা জোরপূর্বক তাকে ধর্ষনের চেষ্টা করলে ধস্থাধস্তির এক পর্যায়ে তাদের ধাক্কা দিয়ে সে চলে আসতে সক্ষত হয়। তবে জোর-জবরধস্তির এক পর্যায়ে তারা গায়ের জামা টেনে ছিড়ে ফেলে ও পড়নের ওড়না টেনে রেখে দেয়।

বাদী রহিমা বেগম বলেন, রাত দশটার দিকে আমার মেয়ে বাইরে থেকে হঠাৎ কাঁপতে কাঁপতে ঘরে আসলে তার জামাকাপড় ছেড়া, ওড়না গায়ে নেই ও সারা শরী‌রে কাদামাটি মাখা দেখে কারন জানতে চাই। উত্তরে সে কান্নায় ভেঙ্গে পরে পুরো ঘটনা আমাকে বললে পরিবারের সকলের সাথে আলাপ আ‌লোচনা করে ১৩ মে শুক্রবার কাঠালিয়া থানায় শফিক ও জহিরের বিরুদ্ধে ধর্ষন চেষ্টার মামলা দায়ের করেছি ।

ঘটনার পর শফিক ও জহির পলাতক থাকায় তাদের এ বিষয়ে কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলেও শফিকের বাবা পান্না জমাদ্দার বলেন, আমার ছেলে আমুয়া শহীদ রাজা ডিগ্রী কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়ে। আসলে এই মেয়ে তার প্রেমিকের সাথে দেখা করার জন্য এতো রাতে বাইরে রাস্তায় বেড় হয়।

এ সময় রাস্তা থেকে যাওয়ার পথে আমার ছেলে শফিক ও তার বন্ধু জহির ওদের দেখতে পে‌য়ে ধমক দেয়ায় ওরা দৌড়ে বাড়িতে চলে যায়। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে ও ধমক দেওয়ার ক্ষোভে মেয়েটির মা তাদের নামে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা করেছে ।

কাঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মুরাদ আলী জানান, ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগটি থানায় এজাহার হিসাবে নথিভূক্ত করা হয়েছে। 


সাজেদ/