হঠাৎ করে সারাদেশের বাজারে ভোজ্যতেলের সংকটের মুখে অভিযানে নেমে রাজধানীসহ বিভিন্নস্থানে বাড়তি এবং অবৈধ মজুদের খোঁজ পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

একদিন আগেই সারাদেশে অভিযানের পর অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ধারণা দিয়েছিলেন যে, ঈদের আগে-পরে ১০ দিনে ৪০ হাজার টনের মতো সয়াবিন তেল মজুদ হয়েছে।

আর সয়াবিন তেল উধাও হয়ে যাবার পেছনে সোমবার এক বৈঠকে খুচরা ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুদকে দায়ী করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

এদিনও রাজধানীর তিনটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ২৯ হাজার ৫৮০ লিটার খোলা পাম অয়েল এবং সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

আগের দামে কেনা তেল মজুদ করে এখন নতুন দামে বিক্রি করছিলো যাত্রাবাড়ীর মেসার্স অদিতি ট্রেডার্স, মিন্টু ট্রেডার্স ও সিফাত ট্রেডার্স।

তিন দোকানকেই ৫০ হাজার টাকা করে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাথে উদ্ধার হওয়া তেল পুরনো দামে বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়।

ভোক্তা অধিকারের কাছে খবর ছিলো, যাত্রাবাড়ীতে ভোজ্যতেলের অবৈধ মজুদ গড়ে তুলেছে কয়েকজন ডিলার। সোমবার সকালে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় র‌্যাবকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে নামে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

এ সময় অদিতি ট্রেডার্সে গিয়ে পাওয়া যায় ৫২ ড্রাম পাম্প তেল ও ৩২ ড্রাম সয়াবিন তেল। ঈদের বেশ আগেই এই তেল মজুদ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

কারণ তারা জানতো ঈদের পরই বাড়ছে তেলের দাম। কবে কি দামে এই তেল কিনে মজুদ করা হয়েছে, এ বিষয়ে কোন রশিদও দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। তাই জরিমানা ৫০ হাজার টাকা।
একই এলাকার সিফাত ট্রেডার্স ও মিন্টু স্টোরের গোডাউনেও মেলে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন তেলের ড্রাম। প্রতি ড্রামে ছিল ২৩২ লিটার তেল।

একই অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। তবে তাদের দাবি মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ীরা পাকা রশিদ ছাড়াই তেল সরবরাহ করছে।
ভোক্তা অধিকার বলছে, ঈদের আগে বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আগের দামে কেনা তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে।

যে কারণে ঈদের একদিন আগে বাজারে তেল উধাও। এই ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার কথা বলেন ভোক্তার অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল।
তিনি বলেন, ক্রয় বিক্রয়ে পাকা রশিদ সংরক্ষণ না করা, পুরনো রেটের তেল মজুদ করে নির্ধারিত বাজারমূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি করছিল।
 
আগের দামে তেল কিনে সে অনুযায়ী প্রতি লিটার নির্ধারিত ১৪০ টাকার পরিবর্তে তারা ১৮৩ থেকে ১৮৪ টাকায় বিক্রি করছিল বলে জানান ভোক্তা অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা। র‍্যাব-৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস বলেন, এই তিনটি মুদি দোকানে সয়াবিন তেলের মূল্য বেশি রাখা ছাড়াও মজুদ বেশি রাখা হয়েছে।

উদ্ধার করা তেল আগের দামে বিক্রি করার নির্দেশ দিয়ে সেটি তদারকি করতে দোকানগুলোতে ভোক্তার টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

এইচএ/