ঘূর্ণিঝড় 'অশনি' দেশের সমুদ্রবন্দরগুলো থেকে এখনও হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে রয়েছে। এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। 

এর প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সতর্কতার পাশাপাশি পূর্বাভাস অনুযায়ী এটির এখন পর্যন্ত দেশের উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা না থাকলেও প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়। উপকূলগুলোতে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ।

বুধবার নাগাদ এটি ওড়িশা-পশ্চিম উপকূলে অতিক্রমের আভাস রয়েছে। এ সময় ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি ও দিকের উপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ উপকূলে কেমন প্রভাব পড়বে। সোমবার (৯ মে) খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায়, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ী দমকাসহ বৃষ্টি হতে পারে।

রবিবার আবহাওয়া অদিদফতরের সবশেষ বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, রবিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১২০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’।

এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।

ঘূর্ণিঝড়টি প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ১৩ কিলোমিটার বেগে এগোচ্ছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে তীব্র রূপ নিতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে এলেই ঘূর্ণিঝড়টির পরিস্থিতি আরও পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য গতিপথ আরও সুনির্দিষ্ট করা যাবে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে এবং তার সম্ভাব্য গতিপথ ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে। ১১ মে নাগাদ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর আগেই উত্তর পূর্ব দিকে মোড় নিতে পারে এবং শক্তি হারিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বলও হতে পারে। বৃষ্টিপাতের প্রবণতাও বাড়বে।’

ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি হারিয়ে দুর্বল হওয়ার পর এর প্রভাবে বাংলাদেশেও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে ধীরে ধীরে বলে জানান তিনি।

এইচএ/এএল