পাকিস্তানের ইতিহাসে অনাস্থা ভোটে হেরে যাওয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম লেখালেন ইমরান খান। শনিবার (৯ এপ্রিল) মধ্যরাতে অনাস্থা ভোটে হেরে যান তিনি। দেশটির ইতিহাসে অনাস্থা ভোটে হেরে কোনও প্রধানমন্ত্রী পদ হারাননি। তবে পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও প্রধানমন্ত্রী অনাস্থা ভোটে হেরে যান।

অনাস্থা ভোটের অধিবেশনটি পরিচালনা করেন সাবেক স্পিকার আয়াজ সাদিক।

বিরোধী দলের অনাস্থা প্রস্তাবে ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট পড়েছে ১৭৪টি। প্রস্তাব পাসের জন্য দরকার ছিল ১৭২ ভোট। ভোটাভুটি শেষে প্যানেল স্পিকার পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) নেতা আয়াজ সাদিক এ ফলাফল ঘোষণা করেন। খবর ডনের।

পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান। তার পতনের মধ্য দিয়ে দেশটির নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রীও তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারলেন না।

এরই মধ্যে ইমরান খান ইসলামাবাদ ছেড়েছেন বলে খবর প্রকাশ পেয়েছে।

জিও নিউজের খবরে বলা হয়, ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক মিনিট আগে পাকিস্তানের স্পিকার আসাদ কায়সার ও ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি নিজেদের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের আগে আসাদ কায়সার বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করার ‘বিদেশি ষড়যন্ত্রে’ অংশ নিতে পারবেন না।

আসাদ কায়সার বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করবো। যেহেতু এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব এবং এটি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত। তাই আমি প্যানেল স্পিকার পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) নেতা আয়াজ সাদিককে অধিবেশন পরিচালনা করতে বলবো।

এর আগে, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টাতেই বসে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের অধিবেশন। কিছুক্ষণ না যেতেই দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তা মুলতবি করা হয়। পুনরায় অধিবেশন বসতে না বসতে আবারও মুলতবি। এভাবে তিন দফা মুলতবি শেষে ইফতারের পর অধিবেশন শুরু হয়। তবে এবারও ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির ঘোষণা এলো না। আবার বিরতি। ভোটাভুটি শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে নিজেদের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন পাকিস্তানের স্পিকার আসাদ কায়সার ও ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি। এরপর প্যানেল স্পিকার আয়াজ সাদিকের সভাপতিত্বে অনাস্থা ভোট শুরু হয়।

ফলাফল ঘোষণার পর স্পিকার আয়াজ সাদিক শাহবাজ শরীফকে বক্তৃতা দেওয়ার অনুরোধ জানান।

শাহবাজ তার বক্তৃতায় বলেন, আমরা এই নতুন দিনটি দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠন হলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর কোনও প্রতিশোধ নেওয়া হবে না। 

ইমরানের অনাস্থা ভোটের অধিবেশনটি শনিবার (৯ এপ্রিল) চার বার মূলতবি করা হয়েছিলো।


এর আগে, জিও নিউজ রিপোর্ট করেছিল, স্পিকার কায়সার ভোট দেওয়ার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন। কারণ তার সঙ্গে  প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ৩০ বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। তাই তিনি বিশ্বাস ঘাতকতা করতে পারবেন না।

২০১৮ সালে সামরিক বাহিনীর সহায়তা নিয়ে ক্ষমতায় আসেন ৬৯ বছর বয়সী ইমরান খান। করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে সতেজ করা ও দুর্নীতিমুক্ত পাকিস্তান গড়তে তার ব্যর্থতার অভিযোগ করা হয়েছে।

আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের বিরোধীতা করেন ইমরান খান। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর রাশিয়ার সঙ্গে তিনি সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্র ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।


সাজেদ/এএল