করোনামহামারিতে বিশ্বের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ নয়-সারা বিশ্বে নিত্যপণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে চলতি মাসে সংবাদপত্রেদ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি’ নিয়ে প্রায় প্রতিদিন সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। 'ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)র ট্রাকে লম্বা লাইন' শিরোনামে সংবাদও নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে কৃষিমন্ত্রী প্রেস ব্রিফিং করে জানিয়েছেন, নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে বৈশ্বিক পরিস্থিতি। ফসল উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত সার, সেচ, বীজ, বালাইনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণের জন্য ভর্তুকি প্রদান করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়তে থাকায় কম দামে পণ্য পেতে নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ টিসিবির ন্যায্যমূল্যের চার ধরনের ভোগ্যপণ্যের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছে৷

টিসিবির ট্রাকে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১১০ টাকা, মসুরের ডাল প্রতি কেজি ৬৫ টাকা, চিনি ৫৫ টাকা, পেঁয়াজ ৩০ টাকা দরে। টিসিবি বলছে, এসব পণ্যের বর্তমান বাজারমূল্য অনেক বেশি যা যথাক্রমে ১৬৮ টাকা, ১০০ টাকা, ৮০ টাকা এবং ৩৮ টাকা।

ঢাকাসহ ঢাকার বাইরে মোট ৪৫০টি জায়গায় ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। শুক্রবার বাদে সপ্তাহে প্রতিদিন প্রতিটি ট্রাকে এগুলো বিক্রি করছে সরকার।সাধারণ মানুষ বলছে, এই সমস্যাটা ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে যারা দরিদ্র শ্রেণির মানুষ তারাই সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে।

দ্রব্যমূল্য বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে উপজেলা পর্যায়ে ন্যায্যমূল্যে পর্যাপ্ত দ্রব্যসামগ্রী বিক্রির দাবিতে সারা দেশে ১১ দিনের কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলাম অনেক আগে।’

২০২১ সালের অক্টোবরের শুরুর দিকে দেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে। কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিকে দায়ী করেছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা প্রতিনিয়ত মিটিং করে যাচ্ছি। যেসব পণ্যের দাম বেড়েছে বলে বলা হচ্ছে, যেমন- তেল, চিনি, চাল ইত্যাদি পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেড়েছে। তাই আমাদের দেশে এর প্রভাব পড়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গরিব কিংবা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য টিসিবির মাধ্যমে কম দামে পণ্য বিক্রির চেষ্টা করছি।’

ব্যাপারে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর সিটি নিউজ ঢাকাকে বলেন,আমরা প্রতিনিয়ত প্রতিবাদ করে যাচ্ছি। মার্চেও আমরা প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশি হামলার শিকার হয়েছি। প্রকৃতপক্ষে কেবল টিসিবি' মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় নয়- পণ্য পর্যাপ্ত আছে যার দাম চাইলেই এই সরকার কমিয়ে আনতে পারে।’

 ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমদাদুল হক বলেন, ‘২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কৃষি কৃষকবান্ধব নীতি গ্রহণ করেন এবং বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করেন। সার, সেচ, বীজ, বালাইনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ উৎপাদন, আমদানি, বিতরণসহ সার্বিক ব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে। যে কারণে সরকার কৃষি উপকরণের দাম সবার আগে কমিয়েছে। সহজলভ্য করে তুলেছে এবং কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। গ ১৩ বছরের মধ্যে সারসহ অন্য কৃষি উপকরণের কোনো সংকট হয়নি। ফলে কৃষি উৎপাদনে বাংলাদেশ এক অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে। এসব সাফল্যের পেছনে সারের দাম কমানো নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে।

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রতিবাদে বাম জোটের সঙ্গে একই দিনে আগামী ২৮ মার্চ আধা-বেলা হরতালের ডাক দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানান, ‘জনগণের কথা সরকারের কানে প্রবেশের জন্য আগামী ২৮ মার্চ সকল রাজনৈতিক দলের, সকল মানুষের উচিত শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করা।’

এখন সকলের দৃষ্টি শুধু সরকারের দিকে। অনেকে মনে করেন সরকার চাইলে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যর মূল্য কমাতে পারেন। আবার অনেকে মনে করছেন বৈশ্বিক বাস্তবতায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

 আরএমসা/ডা