অনেক পুষ্টিসম্পন্ন এক খাদ্য হলো চিয়া বীজ (chia seeds)। চিয়া বীজ মরুভূমিতে জন্মানো সালভিয়া হিসপানিকা উদ্ভিদের বীজ। এই অতি উপকারী বীজটির আদি জন্মস্থান সেন্ট্রাল আমেরিকায়। এই চিয়া বীজ দেখতে তিলের মতো, এটি কালো ও সাদা উভয় রঙের হয়। এই বীজটির বড় একটি গুণ হলো এটি সব ধরনের আবহাওয়ায় হয় এবং এতে পোকামাকড়ের আক্রমণ তেমন হয় না। 

যারা ‘প্রিডায়াবেটিস’ বা ‘টাইপ টু ডায়াবেটিস’য়ে ভুগছেন তাদের জন্য ‘চিয়া বীজ’ হতে পারে আদর্শ খাবার। দ্য ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশন’য়ের মতে, প্রতিদিন চিয়া বীজ খেলে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ কমে। আর এটাই ডায়াবেটিসের প্রধান সমস্যা।
২০২১ সালে কুয়েত ইউনিভার্সিটির করা গবেষণার জন্য, প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীদের একটি দলকে ১২ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ৪০ গ্রাম করে ‘চিয়া বীজ’ খাওয়ানো হয়। আরেক দলকে তা খাওয়ানো হয় না।

দুই দলই এই সময়কালে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেছেন, শরীরচর্চা করেছেন একইভাবে, একই মাত্রায়। দেখা যায়- যারা ‘চিয়া বীজ’ খেয়েছেন তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা অপরদলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কম। এই গবেষণার বরাত দিয়ে ইটদিস ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘চিয়া বীজ’য়ের এই উপকারিতার পেছনে মুখ্য ভূমিকা রাখে এর ভোজ্য আঁশ। যা কি-না ‘সল্যুবল ফাইবার। 

ডায়াবেটিস সামলানো  ছাড়াও চিয়া বীজের রয়েছে আরও নানান রকমের উপকারিতা। যেমন: 
চিয়া বীজ শক্তি এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে
ওজন কমাতে সহায়তা করে
হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ উপকারী
মলাশয় পরিষ্কার রাখে ফলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়  
শরীর থেকে টক্সিন (বিষাক্ত পদার্থ) বের করে দেয়
প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করে   
ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে 
ক্যান্সার রোধ করে
হজমে সহায়তা করে 
হাঁটু ও জয়েন্টের ব্যথা দূর করে
মনোযোগ বাড়ায় এবং কর্ম তৎপরতা বৃদ্ধি করে। 
ত্বক, চুল ও নখ সুন্দর রাখে 
গৃহপালিত পশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়

চিয়া বীজের ক্ষতিকর দিক
উপকারিতার পাশাপাশি কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে এই চিয়া বীজের।
গলায় আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এলার্জিজনিত সমস্যা হতে পারে।
অতিরিক্ত পরিমাণ চিয়া বীজ খেলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে
 
চিয়া বীজ খাওয়ার খাওয়ার নিয়ম

সুপার ফুড চিয়া বীজ বিভিন্ন উপায়ে খাওয়া যায়। স্থান ভেদে চিয়া বীজ খাওয়ার নিয়ম বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। বিভিন্ন ফলের রসের সঙ্গে বা পানিতে মিশিয়ে সাধারণত চিয়া বীজ খাওয়া হয়ে থাকে। স্বাদ ও ঘ্রাণহীন হয়ে থাকে বলে অনেক দেশে রুটি বা বিস্কুট এর সঙ্গে এটি সেবন করা হয়ে থাকে। তবে ১ গ্লাস পানি-তে ১ চা চামচ পরিমাণ নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে খালি পেটে খেলে ভালো উপকার মেলে। 

পরিশেষে বলা যায়, চিয়া বীজ একটি সুপার ফুড হিসেবে খ্যাত। প্রচুর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই বীজ মানুষের দেহের জন্য খুবই উপকারী। তবে এত এত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই খারারও অন্য যে কোনো খাবারের মতোই বেশি খাওয়া ক্ষতিকর। তাই চিয়া বীজের অনেক উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। এতেই দেহের জন্য পরিপূর্ণ উপকার পাওয়া সম্ভব।  

ডাকুয়া/জনি