সিলেটের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল ইনজেকশনে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে নগরীর উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। রোগীর মৃত্যুতে স্বজনেরা এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে বিক্ষোভ করেন।

জানা গেছে, উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আব্দুল আহাদ (৪০) এক ব্যক্তিকে ইনজেকশন পুশ করার সঙ্গে সঙ্গে তার নাকে-মুখে রক্তক্ষরণ ঘটে। পরে ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীর মৃত্যু হলে স্বজনেরা ভুল ইনজেকশন পুশ করার অভিযোগ তোলেন।


আব্দুল আহাদ সিলেট শহরতলির আখালিয়া নতুন বাজারের মোহাম্মদিয়া আবাসিক এলাকার পংকি মিয়ার ছেলে। তিনি একসময় সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।


আব্দুল আহাদের শ্যালক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ভোর রাত ৪টার দিকে আব্দুল আহাদের বুকে ব্যথায় ধরে। পরে তাকে নিয়ে উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। তখন তিনি বেডে ভালোই ছিলেন। ডাক্তার প্রেসক্রিপশন লিখে দেন, আমরা ওষুধ নিয়ে আসি। পরবর্তীকালে একটা ইনজেকশন দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাকে-মুখে রক্তক্ষরণ হয়ে তিনি মারা যান।’


আব্দুল আহাদের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার স্বজনেরা হাসপাতালে ভিড় করেন। তারা মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।


এ ব্যাপারে উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিকিউরিটি ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আজ ভোর ৬টার দিকে রোগী আনা হয়। তিনি কার্ডিয়াটিক রোগী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডাক্তাররা চেষ্টা করেন। ডাক্তাররা বারবার বলেছেন, রোগীর অবস্থা খুব খারাপ। এরপর প্রেসক্রিপশন দেখে রোগীর স্বজনেরা ওষুধ, ইনজেকশন নিয়ে আসেন। ওনারা তো দেখেছেনই যে ইনজেকশন দেয়া হচ্ছে। ডাক্তাররাও বলেছেন।’


তিনি বলেন, ‘রোগী মারা গেলে তারা ডাক্তার ও সিকিউরিটিদের গায়ে হাত তুলেছে। যদি ডাক্তারদের দোষে হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষ আছে, সেটা তদন্তসাপেক্ষে বের হয়ে আসবে।’

 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপকমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিটি সার্ভিস) বি এম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, ‘সকাল বেলায় রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জেডখান/এম. জামান