প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
তেলের অবৈধ মজুত গড়ে তোলা বন্ধ করা, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি প্রতিরোধ করা এবং খোলাবাজারে তেল বিক্রি ও পাচার ঠেকিয়ে কঠোর নজরদারি জোরদার করতে দেশের সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশটি দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
কিন্তু জ্বালানি তেল পাম্পগুলোর সামনে দেখা যায় ভিন্নচিত্র। সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল কিনতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এসব পাম্পে এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত জ্বালানি তেলের আশায় অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা। চালকদের অনেকে ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করছেন বলে জানা যায়।
রাজধানীর কল্যাণপুর, কালশী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর বিজয়সরণি এলাকার ৮ থেকে ৯টি ফিলিং স্টেশনের ৩টিতে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তবে একটিতে শুধু ডিজেল ও একটিতে শুধু অকটেন বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাকি কয়েকটিতে অকটেন ও ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে।
সবচেয়ে দীর্ঘ সারি দেখা যায় বিজয়সরণিতে। জ্বালানি তেল নিতে দেড় কিলোমিটারের চেয়ে বেশি লম্বা প্রাইভেট কারের লাইন দেখা গেছে বিজয়সরণিসংলগ্ন ট্রাস্ট পাম্পে। ব্যক্তিগত গাড়ির সারির লাইন ছিল মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূল ফটক পর্যন্ত ছিল মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন।
কালশীর সুমাত্রা ফিলিং স্টেশন, মিরপুর-২ নম্বরের স্যাম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড পাম্প, কল্যাণপুরের খালেক ফিলিং স্টেশনেও দেখা যায় একই চিত্র। এর মধ্যে স্যাম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড পাম্পে রোববার বিকাল ৪টার দিকে এক গাড়িতে সাড়ে চার হাজার লিটার অকটেন পাওয়া যায়। তবে তা রাত সাড়ে ১০টার মধ্যেই বিক্রি শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকেই পাম্পটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
কল্যাণপুরের খালেক ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রির অংশটি বন্ধ। পাম্পটিতে শুধু সিএনজি গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নেওয়া যাবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে নেওয়া যাবে ১০ লিটার তেল। এসইউভি/জিপ/মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ/লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার, দূরপাল্লার বাস/ট্রাক/কার্ভাডভ্যান/কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার জ্বালানি তেল নেওয়া যাবে।