প্রকাশিত: মার্চ ২০, ২০২৬, ০৫:০৬ এএম
টানা ২০ দিন ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার ফলে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির আর কোনো সক্ষমতা নেই বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা বিজয়ী হচ্ছি, আর ইরান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ব্যাপক মাত্রায় দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে এবং তা পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা এখন সেই কারখানাগুলো ধ্বংস করছি, যেখানে এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম বানানো হয়। পাশাপাশি, তারা যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, তার সরঞ্জাম তৈরির কারখানাগুলোও আমরা গুঁড়িয়ে দিচ্ছি।’
তবে ইরান যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা হারিয়েছে, এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি নেতানিয়াহু।
এর আগে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত না রাখার (শূন্যে নামিয়ে আনা) বিষয়ে সম্মত হয়েছিল জানিয়েছিলেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল–বুসাইদি। তবে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালিয়ে বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অন্যান্য দেশে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলেও তারা বাধা দিচ্ছে।
এদিকে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ চললেও, সরকার পতনের দাবিতে ইরানিরা রাস্তায় নামবে কি না—তা এখনই বলার সময় আসেনি বলে বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেছেন নেতানিয়াহু।
তিনি বলেন, ‘এটি প্রমাণ করার দায়িত্ব ইরানের জনগণের ওপরই নির্ভর করছে। সঠিক সময় বেছে নিয়ে তাদেরই রুখে দাঁড়াতে হবে।’
এখন পর্যন্ত যুদ্ধ মূলত আকাশপথেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে নেতানিয়াহু বলেন, এখানে স্থল অভিযানেরও প্রয়োজন রয়েছে এবং ‘এই স্থল অভিযানের জন্য অনেক ধরনের বিকল্প আমাদের হাতে আছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে টেনে আনার যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে, সেটিও অস্বীকার করেন নেতানিয়াহু।
তিনি বলেন, ‘কেউ কি আসলেই মনে করে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কী করতে হবে, তা অন্য কেউ বলে দিতে পারে?’
সূত্র: রয়টার্স