শনিবার   ১২:১০ পূর্বাহ্ন
২৩শে অক্টোবর, ২০২১  |  ৮ই কার্তিক, ১৪২৮  |  ১৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
লগইন
সর্বশেষ

Loading...

নোবেল ক্ষমা চেয়ে ২ মাস সময় চেয়েছে : সালসাবিল

নোবেল ক্ষমা চেয়ে দু’মাস সময় চেয়েছে  সালসাবিল

নোবেল ক্ষমা চেয়ে দু’মাস সময় চেয়েছে সালসাবিল

বনিবনা না হওয়ায় সারেগামাপা খ্যাত মাঈনুল আহসান নোবেলকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠান স্ত্রী মেহরুবা সালসাবিল ওরফে সালসাবিল মাহমুদ। পরবর্তীতে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কাদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত হন দুজনেই। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার পথে রয়েছে। এর মাঝেই এক সাক্ষাৎকারে সালসাবিল জানান, নোবেল ক্ষমা চেয়ে দুই মাস সময় চেয়েছে

তিনি বলেন, ‘আমার ও নোবেলের দেখা হয়েছে। আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে। আমরা নিজেদের মধ্যে কথা না বলে অনলাইনে কাদা ছোড়াছুড়ি করছিলাম। এটা আসলে ঠিক হয়নি।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) একটি জাতীয় দৈনিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সালসাবিল বলেন, ‘নোবেলের সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। নোবেল ক্ষমা চেয়েছে। নিজেকে সংশোধনের জন্য দুই মাস সময় চেয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নোবেল সংশোধন হলে একসঙ্গে আবার সংসার হবে। কিন্তু এর মধ্যে নিজেকে শোধরাতে না পারলে ডিভোর্স কার্যকর হয়ে যাবে।

পাত্রী চাইশুক্রবার রাতে এমন একটি পোস্ট দিয়েছিলেন মাঈনুল আহসান নোবেল। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সালসাবিল বলেন, ‘এটা দেখা হওয়ার আগে। এখন ওইসব পোস্ট সরিয়ে নিয়েছে নোবেল।’

নোবেলের সঙ্গে বিয়ের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিয়ের আগে দুই থেকে তিন মাস আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ফোনে কথা হতো। তখন তো ভালোই দেখেছি।’

সম্পর্কের অবনতির প্রসঙ্গে সালসাবিল বলেন, ‘যখন দেখলাম ও (নোবেল) ড্রাগ (মাদক) নিচ্ছে। এর ওপর ওর নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ওর তামাশাগানটি যখন রিলিজ হয় তখন এটা আমার কাছে ধরা পড়ে।’

বিয়ের দেড় বছরের সময় বাবা হতে চলেছিবলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন নোবেল। কিন্তু ফেসবুক লাইভে এসে এর প্রতিবাদ জানিয়ে সালসাবিল বলেছিলেন, ‘আমি প্রেগনেন্ট নই। তখন নোবেল বলেছিলেন, সালসাবিল পড়াশোনা ও তার বাবার পরিবারের লোকদের সঙ্গে বেশি সময় কাটায়। এতে স্ত্রী হিসেবে সালসাবিলকে খুব একটা কাছে পাননি তিনি। তাদের সম্পর্কের অবনতির পেছনে এটি কারণ কি না; এমন প্রশ্নে সালসাবিল বলেন, ‘এর আগে থেকেই আমাদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।’

 তবে এসব কিছুর পরও নতুন করে একসঙ্গে সংসার করার স্বপ্ন দেখছেন সালসাবিল। স্বামী মাঈনুল আহসান নোবেল নিজেকে শুধরে নেবেন। ফিরবেন স্বাভাবিক জীবনে। আবারও দুজন এক ছাদের নিচে বসবাস করবেন সেই অপেক্ষায় আছেন সালসাবিল।

অবশ্য নোবেলও একই ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাত্রী চাই’, ‘ডিভোর্সড’, ‘আমার জন্য মন্ত্রী-এমপির মেয়েরা অপেক্ষা করছে’, এমন নারীর সঙ্গে তালাক একটি সুসংবাদ’- এমন সব পোস্ট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এরই মধ্যে মুছে দিয়েছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, ১১ অক্টোবর দেয়া একটি স্ট্যাটাসে নোবেল লিখেছেন, ‘আমার এবং আমার স্ত্রীর মধ্যকার সকল বিবাদ পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হচ্ছে। বিগত কিছু দিনের কাদা ছোড়াছুড়ির জন্য বিনীতভাবে দুঃখিত। বিয়ে একটা পবিত্র প্রথা, অনুগ্রহ করে বেফাঁস মন্তব্য করে এর পবিত্রতা নষ্ট করবেন না।

 এর আগে ৬ অক্টোবর নোবেলকে স্ত্রী সালসাবিলের পক্ষ থেকে তালাকের নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি গণমাধ্যমে আসে। ওই দিন স্ত্রী মেহরুবা সালসাবিলের কাছ থেকে পাওয়া তালাকের নোটিশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় সঙ্গীতশিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেল বলেন, “এ রকম নারীর সঙ্গে তালাকএকটি সুসংবাদ!

পরে আরেক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, শেষ পর্যন্ত আমারে মেরে ফেলার প্ল্যান ব্যার্থ হলো! তাই ডিভোর্স লেটার পাঠালেন এই ‘Con-Woman’!!

বিভিন্ন কারণে আলোচিত-সমালোচিত সঙ্গীতশিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেলের সঙ্গে ২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর বিয়ে হয় মেহরুবা সালসাবিলের। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তারা। কিন্তু দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি তাদের। দুছর পূর্ণ হওয়ার আগেই নোবেলকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়েছেন স্ত্রী মেহরুবা সালসাবিল। গত ১১ সেপ্টেম্বর ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়েছেন সালসাবিল। তবে এ পর্যন্ত বিষয়টি মিডিয়ায় আসেনি।

সালসাবিল অভিযোগ করে বলেন, ‘নোবেল মানসিকভাবে চরম অসুস্থ, চরম মাদকাসক্ত, নারী-নেশাসহ আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করত। সব কিছুর প্রমাণ আমার কাছে আছে। এসব কারণে তাকে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সালসাবিল আরও বলেন, ‘নোবেলের সঙ্গে সংসার করা সম্ভব নয়। তাই তাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছি। এখন যদি সে স্বাক্ষর করে দেয় তাহলে ডিভোর্স হয়ে যাবে। আর সিগনেচার না করলে তিন মাস পর অটোমেটিক ডিভোর্স কার্যকর হবে।

এ দিকে স্ত্রী সালসাবিল যখন গণমাধ্যমে এই তথ্য দিয়েছেন ঠিক তখনই নোবেল নিজের ফেসবুক পেজে বিচ্ছেদের ইঙ্গিত দেন। ফেসুবকে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, ‘ডিভোর্সড। তাতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নেটিজেনরা।

পরে তিনি গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি তালাকনামা পেয়েছি। কিন্তু স্বাক্ষর করিনি, করব না। এটা তিন মাস পর নিজ থেকেই কার্যকর হবে। বিষয়টি নিয়ে আমি মোটেও বিচলিত নই।

অবস্থা দৃষ্টে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, মানসিকভাবে দুজনেই বিচ্ছেদের পক্ষে অবস্থান দিয়েছেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচ্ছেদ কার্যকর হতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু এর এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই দুজনে ফের একসঙ্গে থাকার ইঙ্গিত দিলেন। অবশ্য সালসাবিল বলেছেন, এর আগেও নোবেল একাধিকবার নিজেকে শোধরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তা আর হয়নি। তবুও শেষবারের মতো স্বামীর সংশোধনের অপেক্ষায় আছেন স্ত্রী সালসাবিল।

জেডআই/এম. জামান