শনিবার   ০১:১০ পূর্বাহ্ন
২৩শে অক্টোবর, ২০২১  |  ৮ই কার্তিক, ১৪২৮  |  ১৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
লগইন
সর্বশেষ

Loading...

পুরুষের তুলনায় মহিলারা গিঁটে বাতে বেশি ভোগেন

পুরুষের তুলনায় মহিলারা গিটে বাতে বেশি ভুগে

পুরুষের তুলনায় মহিলারা গিটে বাতে বেশি ভুগে

অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা গিঁটে বাত শরীরের যেকোনো জোড়ায় হতে পারে। তবে ওজন বহনকারী বড় জোড়ায় বেশি হয়। হাত পায়ের আঙুলের জোড়া, মেরুদণ্ডের জোড়া এবং হাঁটু কটির জোড়ায় বেশি হয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস এমন একটি রোগ যেখানে জোড়ার তরুণাস্থি হাড়ের ক্ষয় হয় বেশি কিন্তু প্রদাহ হয় কিঞ্চিত। একে স্বাভাবিক বাংলায় গিঁটে বাত বলে। অস্টিওআর্থ্রাইটিস শুধু তরুণাস্থি হাড়ের ক্ষয় করে না এটি জোড়ার লাইনিং (সাইনোভিয়াম), জোড়ার কভার (ক্যাপসুল) জোড়ার পেশিকে আক্রান্ত করে।

গিঁটে বাত হলে জোড়া মসৃণ লুব্রিকেন্ট থাকে না এবং তরুণাস্থি তরুণাস্থির নিচের হাড় ক্ষয় হতে থাকে। জোড়ার পেশির খিঁচুনি হয় পেশি শুকিয়ে যায় এবং লিগামেন্ট লাক্সিটি হয়। ফলে জোড়া আনস্ট্যাবল হয়। মধ্যবয়সী বয়স্কদের অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা গিঁটে বাত হয়। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে এক-তৃতীয়াংশ লোক এবং ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে ৭০ শতাংশ লোক অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা গিটে বাতে ভোগে। ৫০ বছরের আগে মহিলাদের তুলনায় পুরুষেরা এবং ৫০ বছরের পর পুরুষদের তুলনায় মহিলারা গিঁটে বাত বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসে বেশি ভোগেন।

কারণসমূহ :

জেনেটিক (বংশগত)

ওবেসিটি (অতিরিক্ত ওজন)

গ্রন্থি সমস্যা-ডায়াবেটিস, এক্রোমেগালি এবং হাইপো হাইপারথাইরয়েডিজম।

 আর্থ্রাইটিস-সেপটিক, রিউমাটয়েড গাউটি আর্থ্রাইটিস।

মেটাবোলিক (বিপাকীয়)-পেজেটস উইলসন ডিজিজ।

 জন্মগত বা অস্বাভাবিক হাড়ের বৃদ্ধি।

স্নায়ু রোগ।

আঘাতের কারণে জোড়া ডিসপ্লেসমেন্ট, হাড় ফ্র্যাক্সার, লিগামেন্ট তরুণাস্থি ইনজুরি হলে অল্প বয়সে গিটে বাত শুরু হয়।

লক্ষণসমূহ-

কটির জোড়া : কটির জোড়ায় অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা গিঁটে বাত হলে কুঁচকি, নিতম্ব, ঊরুর ভেতর পাশে এবং এমনকি হাঁটুতে ব্যথা হয়।

জোড়া জমে যাওয়ার জন্য পায়ে মোজা পরতে অসুবিধা হয়।

বিভিন্ন মুভমেন্ট সীমিত হয়।

খুঁড়িয়ে হাঁটতে হয়।

রাতে এবং বিশ্রামে ব্যথা হলে বুঝতে হবে রোগ গুরুতর।

ঘাড় কোমর : মেরুদণ্ডের মধ্যে ঘাড়ের নিচের দিকের এবং কোমরের হাড়ে (কশেরুকা) অস্টিওআর্থ্রাইটিস হয়।

 ঘাড়, বাহু, হাত, কোমর, লেগ পায়ে ব্যথা হয় এবং দুর্বলতা অবস ভাব হতে পারে।

হাঁটু : ফোলা ব্যথার জন্য হাঁটুর মুভমেন্ট করা যায় না।

 মুভমেন্টের সময় ক্র্যাকিং (ক্রিপিটাস) শব্দ শুনতে বা বুঝতে পারা যাবে।

 রোগী বেশিক্ষণ বসলে হাঁটু সোজা করতে কষ্ট হয়।

 অনেক সময় হাঁটু আটকে যায়, রোগী হাঁটুকে বিভিন্ন মুভমেন্ট করিয়ে সোজা করে।

 হাঁটুর পেশি শুকিয়ে যায় এবং হাঁটুতে শক্তি কমে যায়।

উঁচু-নিচু জায়গায় হাঁটা যায় না, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে এবং বসলে উঠতে কষ্ট হয়।

 হাঁটু ইনসিকিউর বা আনস্ট্যাবল মনে হবে- দাঁড়াতে বা হাঁটতে চেষ্টা করলে মনে হবে হাঁটু ছুটে যাচ্ছে বা বেঁকে যাচ্ছে।

আঙুল : হাতের আঙুলের শেষের (ডিসটাল) জোড়ায় ব্যথা হয়।

জোড়া জমে যায়।

নতুন হাড় (হেবেরডেন নোডস) হয়ে জোড়া ফুলে যায়।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-

রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা।

এক্স-রে : জয়েন্ট স্পেস কম, তরুণাস্থির নিচে হাড়ের মধ্যে সিস্ট অস্টিওফাইট (নতুন হাড়)

 এমআরআই।

চিকিৎসা বা প্রতিকার-

চিকিৎসার শুরুতেই অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা গিঁটে বাতের কারণ এবং রোগের তীব্রতা নির্ণয় করা একান্ত প্রয়োজন। রোগ একবার শুরু হলে প্রকৃতির নিয়মে বাড়তে থাকে। তবে দৈনন্দিন জীবনব্যবস্থা পরিবর্তন সুষ্ঠু কিছু নিয়মের মাধ্যমে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ এবং উপসর্গ লাঘব করা যায়।

কনজারভেটিভ বা মেডিকেল ব্যবস্থা-

ওবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে। ফল, শাকসবজি, কম ক্যালোরি, কম সুগার কম চর্বিযুক্ত খাবার, শিম, মটরশুঁটি, চর্বিবিহীন গোশত, বাদাম অক্ষত খাদ্যশস্য ইত্যাদি খেতে হবে।

স্ট্রেসিং পেশি শক্তিশালী হওয়ার ব্যায়াম জোড়ার মুভমেন্ট বজায় রাখে এবং জোড়া জমে যাওয়া লাঘব করে। ভুল ব্যায়াম জোড়ার ক্ষতি করে এবং রোগকে অতিরঞ্জিত করে। জোড়ার চারপাশের পেশি টিসু সঙ্কুচিত হলে স্বাভাবিক মুভমেন্ট পুনরুদ্ধার করা বড়ই কঠিন।

 ওয়াকিং স্টিক, উঁচু চেয়ার, ব্রেচ বা হাঁটু সাপোর্ট কুশন যুক্ত জুতা ব্যবহার করলে কোমর, কটি হাঁটুর ব্যথা কম হবে।

গরম ঠাণ্ডা সেক ব্যবহারে পেশির সঙ্কোচন কমবে, রক্ত চলাচল বাড়বে এবং ব্যথা কমবে।

বেদনানাশক ওষুধ সেবন।

কনড্রিওটিন সালফট/ক্লোরাইড সেবনে তরুণাস্থি ক্ষয় নিবারণ হবে।

ভিটামিন-সি, ডি এবং ক্যালসিয়াম নিয়মিত সেবনে রোগের তীব্রতা কমে আসবে।

ফিজিক্যাল থেরাপি-এসডব্লিউডি, ইউএসটি টিইএনএস ব্যবহারে পেশির সঙ্কোচন, জমে যাওয়া ব্যথা উপশম হবে।

ইনজেকশন-স্টেরয়েড হায়ালুরোনিক এসিড জয়েন্টে পুশ করলে রোগের উপসর্গ সাময়িক উপশম হবে। ইনজেকশন এক বছরে তিন বা চারের অধিকবার দেয়া নিষেধ।

সার্জিক্যাল পদ্ধতি : কনজারভেটিভ চিকিৎসায় ভালো না হলে সার্জিক্যাল চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।

আর্থ্রোস্কোপিক জয়েন্ট ল্যাভেজ।

আর্থ্রোস্কোপিক ডেব্রাইডমেন্ট।

রোটেশনাল অস্টিওটোমি।

 জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট।

আর্থ্রোস্কোপিক বা জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট চিকিৎসায় রোগের উপসর্গ দ্রুত উপশম হবে।

নূর/এম. জামান