শনিবার   ১২:১২ পূর্বাহ্ন
৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১  |  ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮  |  ২৯শে রবিউস-সানি, ১৪৪৩ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
লগইন
সর্বশেষ

Loading...

জঙ্গিদের টার্গেটে পুলিশ ও বিজিবি!

জঙ্গিদের টার্গেটে পুলিশ ও বিজিবি!

জঙ্গিদের টার্গেটে পুলিশ ও বিজিবি!

রাজধানী সিলেটের একটি বিজিবি ক্যাম্প এবং টহল টিমের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল আনসার আল ইসলামের সদস্যরা। রাজধানীর মোহম্মদপুরের বসিলা এলাকা থেকে চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিস) সদস্যরা।

রোববার ( মে) দুপুরে মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান এসব কথা বলেন।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে টার্গেট করে হামলার পরিকল্পনাকারী চার জঙ্গি হলো- মো. জসিমুল ইসলাম ওরফে জ্যাক, মো. আব্দুল মুকিত, মো. আমিনুল হক সজীব ইখতিয়ার। তাদের কাছ থেকে একটি ব্যাগ, একটা চাপাতি, পাঁচটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। 

ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিরাসাইন্স প্রজেক্টনামে একটি পরিকল্পনা তৈরি করছিল। এর মাধ্যমে তাদের টার্গেট ছিল অক্সিজেন সিলিন্ডারকে শক্তিশালী বোমা হিসেবে ব্যবহার করে হামলা চালানো। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে দেশে আবারও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।  

সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের গ্রেফতার সদস্যরা ঢাকা সিলেটে পুলিশ বিজিবির টহল টিমে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। চক্রের বাকি দুই সদস্য হিজরতের উদ্দেশ্যে আফগানিস্তান গমন করেছেন। গ্রেফতার এই চারজনেরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা করে কথিত হিজরতের মাধ্যমে আফগানিস্তান পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। জন্য তারা পুলিশ বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে রেকি করছিল।

ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনলাইনে টেলিগ্রাম অ্যাপসেসাইন্স প্রজেক্টনামে তৈরি করে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করে বিস্ফোরক প্রস্তুতের চেষ্টা করেছিল। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা ডিভাইস পর্যালোচনা করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার জঙ্গিরা জানায়, তারা সংগঠনের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদনের উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোহাম্মদপুরে এসে একত্রিত হয়। আনসার আল ইসলামের দায়িত্বশীল বা মাসুল ফরিদ ওরফে তারিক আবদুল্লাহর সহযোগিতায় সামাজিক যোগাযোগ অ্যাপস গ্রুপ অনলাইনে গোপনীয় টেক্সট নামের সিক্রেট চ্যাটিং অ্যাপস ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত।

ডিআইজি বলেন, গ্রেফতার জঙ্গিরা সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে সিলেটে একটি আবাসিক হোটেলে হোটেল ম্যানেজারকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে পালিয়ে যায়। গ্রেফতার জসিমুল হক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অতীশ দীপংকর ইউনিভার্সিটির বিবিএ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। আবদুল মুকিত হবিগঞ্জের মারকাজুস সুন্নাহ আল ইসলামিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করত। আমিনুল হক সিলেটের আল হিদায়া ইসলামিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র এবং সজীব ইখতিয়ার সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিল।

জঙ্গিদের সাইন্স প্রজেক্টে কতজন যুক্ত হয়েছে এবং এদের হামলার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ছিল কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান বলেন, তাদের পরিকল্পনা ছিল গ্যাস সিলিন্ডারের মাধ্যমে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো। বিষয়টি তাদের পরিকল্পনা পর্যায়ে ছিল। এইসাইন্স প্রজেক্টবা গ্রুপের সদস্য এখন পর্যন্ত ১০ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, জঙ্গিরা এখন অনলাইনে সক্রিয়। তারা অনলাইনেই সদস্য রিক্রুটমেন্ট করছে, ট্রেনিং দিচ্ছে এবং নির্দেশনা দিচ্ছে। সাইবার স্পেস ব্যবহার করে তারা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আমাদেরও সাইবার তৎপরতা রয়েছে। তাই অনেককে গ্রেফতার করতে পারছি।

মোহাম্মদপুর এলাকায় আরো বেশ কয়েকবার জঙ্গি ধরা পড়েছে। পুলিশ ্যাব আলাদা অভিযান পরিচালনা করেছে একই এলাকায়। এসব এলাকায় জঙ্গিদের এত বেশি আনাগোনার কারণ কী? এমন প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসির প্রধান বলেন, যেখানে দরিদ্র মানুষ ঘনবসতি রয়েছে সেখানেই জঙ্গিরা আস্তানা গেড়ে নেয়। গ্রেফতার এড়াতেই তারা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা বেছে নেয়।

লাইজুল/সিআর/এম. জামান