শুক্রবার   ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন
১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১  |  ২রা আশ্বিন, ১৪২৮  |  ১০ই সফর, ১৪৪৩ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
লগইন
সর্বশেষ

Loading...

মানবদেহে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কার্যকারিতা

মানবদেহে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কার্যকারিতা

মানবদেহে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কার্যকারিতা

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আমাদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বিভিন্ন কারণে শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের প্রয়োজন হয়। এটি ত্বকের সৌন্দর্য বজায় রাখার পাশাপাশি সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে। এছাড়া এটি ভিটামিনসি-এর অভাবজনিত ক্ষতি থেকে আমাদের বাঁচায়। ফলে আমরা প্রাণোচ্ছলতা ফিরে পাই। স্মৃতিশক্তি ঠিক থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বিশেষ উপকারী।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সক্ষম। চোখের বিভিন্ন রোগ, হৃদরোগ স্মৃতিশক্তিজনিত যে-কোনো সমস্যা প্রতিরোধে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জুড়ি নেই। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলপড়া রোধ করে। এটি আয়রন লেভেল কার্যকরভাবে বজায় রাখে ফলে হিমোগ্লোবিনের সমতা রক্ষা পায়। কারণে যারা ওজন কমাতে চান তারা অবশ্যই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করবেন। এতে শরীর দুর্বল বা ভেঙে পড়ার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। 

একজন ব্যক্তি যত বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খাবেন তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তত বাড়বে। হৃদরোগ, ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। গর্ভবতী মায়েদের জন্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খুবই দরকার। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ভিটামিন সি, বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন-, সিলেনিয়াম, জিঙ্কসহ আরও নানা উপাদানের কাজগুলো ত্বরান্বিত করে। আমাদের চারপাশে এই খাবারগুলোর কোনো অভাব নেই। শুধু একটু ভেবেচিন্তে খাদ্য তালিকায় এগুলো রাখলেই হয়। যা দামে সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য। 

ব্রকলি : শীতকালীন এই সবজিটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের একটি ভালো উৎস। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি, কে এ। এছাড়া রয়েছে আঁশ, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, ফলেট, প্রোটিনসহ নানা পুষ্টি উপাদান। এটি শীতকালীন সবজি হলেও বছরের প্রায় অধিকাংশ সময়ই এই সবজিটি বাজারে পাওয়া যায়। 

কাঁচা মরিচ : সাম্প্রতিক ইয়াওমিং ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, মরিচ ঝাল হয় এর মধ্যে থাকা ক্যাপসিসিন নামক উপাদানের কারণে। আর এই উপাদান শরীরের মেটাবলিজমের গতি বাড়িয়ে সহজে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ক্যাপসিসিনের প্রভাবে শরীরের শক্তি ক্ষয় হয় এবং তাপ উৎপন্ন হয়। গরমকালে কাঁচা মরিচ খেলে ঘামের মাধ্যমে শরীর ঠাণ্ডা হয়।  প্রতিদিন একটি করে কাঁচা মরিচ খেলে রক্ত জমাট বাধার ঝুঁকি অনেক হ্রাস পায়। হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন সমস্যাও কমে যায়। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিটা ক্যারোটিন থাকায় কার্ডোভাস্ক্যুলার সিস্টেমকে কর্মক্ষম রাখে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় রক্তের কোলেস্টেরল কমায়। কাঁচা মরিচে ভিটামিন থাকায় যা হাড়, দাঁত মিউকাস মেমব্রেনকে ভালো রাখতে সহায়তা করে। এতে ভিটামিন সি আছে তাই মাড়ি চুলের সুরক্ষায় সহায়ক। নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে নার্ভের বিভিন্ন সমস্যা কমে। 

পেঁয়াজ : পেঁয়াজে রয়েছে ফ্লাভোনোইড, অ্যাসকোর্বিক অ্যাসিড, ফেনোলসহ নানা ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। বিশেষ করে লাল পেঁয়াজ স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। তবে পেঁয়াজ ফ্রিজ আপ করে রাখলে স্বাদ পুষ্টি উভয়ই নষ্ট হতে পারে। 

আখরোট : অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের আরেকটি চমৎকার উৎস আখরোট। গর্ভবতী মায়েদের জন্য এটি বেশ উপকারী। এটি শিশুর মস্তিষ্ক গঠনে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

আপেল : প্রতিদিন একটি করে আপেল খাওয়া ভালো। এতে নানা রোগ থেকে রক্ষা পাবেন। তবে সেটি যেন হয় কেমিক্যালমুক্ত। কারণ এই ফলটি বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের এর উৎস।

স্ট্রবেরি : অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে স্ট্রবেরি অনেক এগিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যানথোসায়ানিন, যে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রতিরোধে কাজ করে।

চর্বিহীন মাংস : এটি কেবল অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের উৎস নয়, বরং এতে রয়েছে ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিডসহ আরও নানা ধরনের মিনারেল। যা শরীরের জন্য বেশ উপকারী।

মধু : শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের আরেকটি উৎস মধু। এতে রয়েছে ফেনোলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি, ভিটামিন -সহ আরও নানা পুষ্টি উপাদান। মধুতে রয়েছে ১৫০ ধরনের ফেনোলিক উপাদান। যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে কোনো অবস্থায়ই মধু ফ্রিজে রাখা যাবে না। তাতে এর পুষ্টিমান বজায় থাকে না।

কালো চকোলেট : কালো চকোলেট তৈরি হয় কোকোয়া গাছের বীজ থেকে। যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের চমৎকার একটি উৎস। আর এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রদাহ কমায় হৃদরোগ প্রতিরোধ করে।

পালং শাক : ক্যারোটিন অ্যাসকোর্বিক অ্যাসিডের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর এই পালং শাক। এছাড়া এই সবুজ শাকে রয়েছে নানা উপকারী ভিটামিন মিনারেলর। যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

গ্রিন টি : ক্যাটেচিনের মতো প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায় গ্রিন টি থেকে। পলিফেনোলের উপস্থিতিও রয়েছে এই গ্রিন টিতে। বাড়তি ওজন কমাতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী।

লাল ক্যাপসিকাম : লাল ক্যাপসিকামে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। বিটা-ক্যারোটিন, লিউটেলিন ক্যাপসানথিনের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর এই লাল ক্যাপসিকাম।

গাজর : এটি শরীরের পাশাপাশি ত্বক ভালো রাখে। এতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন, মিনারেলসহ আরও নানা উপাদান। 

শাকসবজি ফলমূলে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে রয়েছে। এছাড়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে ভিটামিন, ভিটামিনসি, বিটা ক্যারোটিন, কাঠবাদাম, গ্রিন টি, আনারাস, আঙুর, ভুট্টা, লাল আটা, বাদাম তেল, জলপাই, খেজুর, উদ্ভিজ তেল প্রভৃতি। এর বাইরে ক্যালসিয়াম আঁশযুক্ত খাবারেও প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। পানিও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ভালো একটি উৎস। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যখন মানব শরীরে এর ঘাটতি দেখা দেয়, কারণে লিভারে সমস্যা হতে পারে, ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। অনেক সময় রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা একেবারেই শেষ হয়ে যায়। 

লেখক : শিক্ষক গবেষক

তারিক/ডাকুয়া