শুক্রবার   ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন
১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১  |  ২রা আশ্বিন, ১৪২৮  |  ১০ই সফর, ১৪৪৩ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
লগইন
সর্বশেষ

Loading...

মায়ের শালদুধে শিশুর যত উপকারিতা

মায়ের শাল দুধে শিশুর যত উপকারিতা

মায়ের শাল দুধে শিশুর যত উপকারিতা

ডেলিভারি বা সিজারের পর শিশুকে নিয়ে মায়েরা একটা স্বাভাবিক সমস্যায় থাকেন যে, সন্তান দুধ পাচ্ছে না।  বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রীরোগ প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ডা. দীনা লায়লা হোসেন।

সন্তান জন্মের পর সাধারণত যে মেইন মিল্ক লেট ডাউন হয়, সেটা হচ্ছে সন্তানের জন্মের তিন দিন পর। তাহলে প্রথম দিন এবং দ্বিতীয় দিন যে শালদুধ পাওয়া যায় মায়ের, সেটাই শিশুর জন্য উপকারী। শিশুর যেটুকু পুষ্টির দরকার, এই শালদুধ থেকে সে পরিমাণ পুষ্টি পাওয়া যায়। সুতরাং শিশুর জন্মের প্রথম দুই দিন সেই শালদুধটাই শিশুকে দিতে হবে।

শালদুধ পরিমাণে কম থাকে, তবে এটা ধবধবে সাদা থাকে না। সেজন্য মায়েরা একটু বিভ্রান্ত হন। এই দুধ সন্তানের জন্য কতটা উপকারী হবে, সন্তানের পেট ভরবে কি না, এসব ব্যাপারে।

শিশু মায়ের গর্ভে যে সুন্দর পরিবেশে ছিল, সেই সুন্দর পরিবেশ থেকে যখন দুনিয়ায় আসে, তখন দুনিয়ার এসব ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া সব কিছুর বিরুদ্ধে শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে মায়ের বুকের এই শালদুধ।

তারপর শিশুর ইলেকট্রোলাইট দরকার হয়, পানির দরকার হয়, এসব কিছুই শালদুধ থেকে পাওয়া যায়। ছাড়া শিশুর যে পরিমাণ গ্লুকোজ দরকার, প্রোটিন দরকার সেটাও শালদুধে থাকে।

সুতরাং দুধ আসছে না বলে যেসব মা অস্থির হয়ে যান, যেসব মা নতুন মা হন তারা তো আসলে বোঝেন না। ক্ষেত্রে পরিবারের আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে যারা বয়স্ক আছেন কিংবা যারা এই সময়টা পার করে এসেছেন, তারা নতুন মায়েদের কাউন্সেলিং করবেন। তারা নতুন মায়েদের বোঝাবেন যে, প্রথমে যে দুধ আসে সেটাই শিশুর জন্য দরকার, এখান থেকেই শিশু সব ধরনের পুষ্টি পাবে।

কারণ শিশু এখন মাত্র দুনিয়ায় এসেছে, সে যে এখনই খুব বেশি খাবে তা তো নয়। এই শিশুর জন্য যতটুকু খাবার দরকার ততটুকু খাবারই আল্লাহ মায়ের কাছে দিয়েছেন। আল্লাহ যদি এর থেকে বেশি দিতেন এবং সেটা যদি শিশু না খেত, তখন দেখা যেত যে মায়ের বুকে ব্যথা হতো, মায়ের কষ্ট হতো। সুতরাং শিশুর জন্মের প্রথম দুই দিন যতটুকু দুধ প্রয়োজন, ততটুকু দুধই শিশুর জন্য আসে। এটাই শিশুকে খাওয়াতে হবে। এটা খাওয়ার পরে শিশুর যে পুষ্টির প্রয়োজন, তার সবটুকু পূরণ হয়।

তবে কিছু আছে এর থেকে আলাদা। ক্ষেত্রে যেসব মায়ের আন-কন্ট্রোলড ডায়াবেটিস থাকে, শিশু অনেক বড় থাকে, সেক্ষেত্রে হয়তো বা আরেকটু বেশি পুষ্টির প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে শিশুর ওজনের ওপর ভিত্তি করে, শিশুর বাড়তি খাবারের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সেটা শতকরা খুব কমই হয়ে থাকে। যদি দরকার হয় সেক্ষেত্রে ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

সাধারণত ডেলিভারির পর প্রথম দুই দিন যে শালদুধ মায়ের থেকে পাওয়া যায় সেটাই শিশুর খাবার হিসেবে যথেষ্ট।

মায়ের দুধ পানের সময় শিশু মায়ের নিপল বা বোঁটা চুষলে মায়ের শরীরে এক ধরনের সুখানুভূতি সৃষ্টি হয়। শিশুর স্টিমুলেশন বা সুখানুভূতি মায়ের মস্তিষ্কে যায়। ফলে মায়ের শরীর থেকে এক ধরনের হরমোন তৈরি হয়। যার নাম প্রোল্যাকটিন। প্রোল্যাকটিনের কাজ হলো মায়ের বুকে দুধ তৈরি করা। শিশু যত বুকের দুধ টানবে তত মায়ের সুখানুভূতি তৈরি হবে, তত প্রোল্যাকটিন উৎপাদন হবে। ফলে মায়ের বুকের দুধের পরিমাণ বাড়বে।

সন্তান কান্নাকাটি করলে অনেকে মনে করেন সে দুধ ঠিকমতো পাচ্ছে না। তখন শিশুকে মায়ের দুধ না দিয়ে কৌটার দুধ দেন। মায়ের বুকের দুধ টেনে খেতে শিশুর কিন্তু কিছুটা পরিশ্রম করতে হয়। এতে শিশুর উপকার হয়। তার মাড়ি, চোয়াল গঠিত হয়। কৌটার দুধ দিলে শিশুর কষ্ট করতে হয় না। তাই সে এক সময় মায়ের দুধ টেনে খাওয়া বন্ধ করে দেয়। শিশু না দুধ টানলে মায়ের সুখানুভূতি হয় না এবং হরমোন তৈরি হয় না। ফলে মায়ের বুকের দুধ উৎপাদন কমে যায়।

আরেকটা জিনিস যেটা মনে হয়, মাকে খুব অস্থির করে রাখা হয়, শিশুকে দুধ খাওয়াচ্ছে না, না খেতে পারলে শিশুর কী হবে, তখন নতুন মায়েরা খুব প্যানিক হয়ে যান। এটা কিন্তু সম্পূর্ণ একটা সার্কেল বা রিদমের ব্যাপার।

শিশু যখন মায়ের বুকে সাক করবে, সেখান থেকে রিফ্লেক্স যাবে ব্রেনে, ব্রেন থেকে হরমোন আসবে, দুধ তৈরি হবে এবং নিপলের মাধ্যমে শিশুর কাছে যাবে। যখনই সেখানে হরমোন, নার্ভাল সিস্টেম সব কিছু ইনভলভ থাকে, তখন কিন্তু একটা মাকে পরিবারের সদস্যরা সাপোর্ট দিয়ে স্ট্রেস-ফ্রি রাখতে হবে। মাকে কোনো স্ট্রেসের মধ্য দিয়ে যেতে দেয়া যাবে না।

এমনিতেই তিনি নতুন মা হয়েছেন, জীবনের একটা নতুন পর্বে প্রবেশ করেছেন। সব কিছুতে তার মানিয়ে নিতে অসুবিধা হবে। তার মধ্যে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন যদি তাকে স্ট্রেস দিতে থাকে, তখন এই স্ট্রেসফুল কন্ডিশন নতুন মাকে অনেকখানি বাধা দেয়। এটা লাক্টেশন ফেইলিউরের অনেকখানি কারণ।

মায়েদের সাহস দিতে হবে সময়। মাকে বোঝাতে হবে যে, বিষয়গুলো স্বাভাবিক। যদি অস্বাভাবিক কিছু হয় তাহলে আমরা ডাক্তার, নার্সদের হেল্প নিয়ে ইনশাআল্লাহ বিষয়গুলো মোকাবেলা করা সম্ভব। সূত্র : ডক্টর টিভি।

তারিক/এম. জামান