শুক্রবার   ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন
১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১  |  ২রা আশ্বিন, ১৪২৮  |  ১০ই সফর, ১৪৪৩ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
লগইন
সর্বশেষ

Loading...

ট্রেন থামানো সেই মহানায়ককে ব্যবসার পুঁজি দিলেন সৈয়দ আতিক

ট্রেন থামানো সেই মহানায়ককে ব্যবসার পুঁজি দিলেন সৈয়দ আতিক

ট্রেন থামানো সেই মহানায়ককে ব্যবসার পুঁজি দিলেন সৈয়দ আতিক

শুধু ক্ষমতা কিংবা অর্থ নয়। সততা আর সদিচ্ছা থাকলেও সমাজের জন্য কল্যাণকর কাজ করা সম্ভব। এমনটাই প্রমাণ করলেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকার হতদরিদ্র নাজির হোসেন। তার একটি সদিচ্ছার কারণে বেঁচে গেছে তিন শতাধিক প্রাণ।

শুক্রবার (২০ আগস্ট) সকালে পাঁচবিবি-হিলি স্টেশনের মাঝামাঝি কোকতারা নামক স্থানে রেললাইন দিয়ে হাঁটছিলেন নাজির হোসেন। হঠাৎ তার চোখে পড়ে রেললাইনের একটি অংশ ভাঙা। নাজিরের মাথায় আসে কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেন আসবে এবং এখানে একটা ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটবে। তিনি ভাবতে থাকেন কিভাবে এই দুর্ঘটনা ঠেকানো যায়।


এর মাঝেই এসে পড়েপঞ্চগড় এক্সপ্রেসট্রেন। ভাতিজাকে বাড়িতে পাঠিয়ে লাল গামছা নিয়ে আসেন নাজির। রেললাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে উড়াতে থাকেন গামছা। তার নিশান উড়ানো চোখে পড়ে ট্রেন চালকের। ট্রেন থামান তিনি। নেমে এসে নাজিরের কাছে কারণ জানতে চান। তিনি ভাঙা রেললাইন দেখালে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন চালক। নাজিরের বিচক্ষণতায় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান ট্রেনের তিন শতাধিক যাত্রী।


তার এই বুদ্ধিমত্তার কথা প্রকাশিত হয় সিটি নিউজ ঢাকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে। এই সংবাদ চোখে পড়ে সিটি নিউজ ঢাকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মানবিক মানুষ সৈয়দ আতিকের। এই মহানায়ককে সম্মান জানানোর জন্য ঢাকা অফিস থেকে একটি টিম পাঠানোর নির্দেশনা দেন তিনি।

শুক্রবার রাতেই সিনিয়র রিপোর্টার মোশাহিদ রনির নেতৃত্বে একটি টিম রওনা হয় জয়পুরহাটের উদ্দেশ্যে। সিটি নিউজ টিম জয়পুরহাট প্রতিনিধি আকতার হোসেন বকুলকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার (২১ আগস্ট) সকালে পৌঁছে নাজির হোসেনের বাড়িতে। দেখতে পায় তিন সন্তান স্ত্রীকে নিয়ে ছোট্ট একটি কুঁড়েঘরে বাস করেন তিনি।

নিজের বলতে ভিটেটুকু ছাড়া আর কিছুই নেই নাজিরের। ইটভাঙার কাজ আর অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে কোনো মতে দিন কাটে তার। করোনাকালীন সময়ে ঠিকমতো কাজ না থাকায় অনাহারে-অর্ধাহারে সময় পার হয় তার। অর্থের অভাবে ঠিকমতো খেতে দিতে না পারায় দুই সন্তানকে রেখেছেন এতিমখানায়।


সিটি নিউজ টিম নাজিরের কষ্টের কথা জানায় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে। বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে সৈয়দ আতিকের। অসহায় মানুষের কষ্ট সহ্য করতে না পারা মানুষটি মুহূর্তেই ঘোষণা দেন নাজিরকে এককালীন ক্ষুদ্র ব্যবসা করার পুঁজি দেবেন তিনি।

যেই কথা সেই কাজ। টিম ওখানে থাকতেই টাকা পাঠান তিনি। সিটি নিউজ ঢাকার পক্ষ থেকে সিনিয়র রিপোর্টার মোশাহিদ রনি নগদ ৩০ হাজার টাকা তুলে দেন নাজির হোসেন তার স্ত্রী শম্পার হাতে। ক্ষুদ্র কোনো ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য তাকে এককালীন এই অর্থ দেয় সিটি নিউজ ঢাকা। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নাজির।

তিনি অশ্রুসজল চোখে বলেন, ‘আমি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই সৈয়দ আতিক স্যারকে। আমার ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরুর অর্থায়ন করায় এবার আমি আশার আলো দেখছি। আমি এই টাকা দিয়ে ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হব। আমার সন্তানদের পড়ালেখা করাতে পারব, দুবেলা দুমুঠো খাবার দিতে পারব। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি সৈয়দ আতিক স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ। সিটি নিউজ ঢাকার জন্য অনেক অনেক দোয়া করি।


বালিঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান চৌধুরী বিপ্লব বলেন, ‘নাজির একজন সচেতন দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয় দিয়েছেন। তাৎক্ষণিক তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সিটি নিউজ ঢাকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আতিক সাহেবের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি জীবনে প্রথমবার দেখলাম কোনো গণমাধ্যম সংবাদ সংগ্রহ করতে এসে সহযোগিতার হাত বাড়ায়। সিটি নিউজের এই অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু হোসেন বলেন, ‘এত দ্রুত নাজিরের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সিটি নিউজ ঢাকার এমডি সৈয়দ আতিক সাহেবকে অশেষ ধন্যবাদ। এবার নাজির তার ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। আমি আতিক সাহেবসহ সিটি নিউজ ঢাকার সাফল্য কামনা করি।


উপস্থিত প্রতিবেশীরা জানান, গ্রামের মানুষ ১০-১৫ হাজার টাকা ঋণ নিতে বিভিন্ন এনজিওর পেছনে ঘোরে। চরা সুদে ঋণ নেয়। সেখানে সিটি নিউজ ঢাকার এমডি নাজিরকে ৩০ হাজার টাকা এককালীন সহায়তা করলেন- এটা নজিরবিহীন ঘটনা।

প্রতিবেশীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নাজির হোসেন এই পুঁজি দিয়ে ভালো কিছু করতে পারবেন। তার দুঃখের সংসারে আশার আলো ফুটবে এই অর্থের মাধ্যমে।

সবুজ/এম. জামান