নবনীতা সই
আজকের দিনটা আলাদা। আর পাঁচটা দিনের থেকে আলাদা। আজ কয়েক মাস হয়ে গেল আভা অবসর নিয়েছে। পেনশন চালু হয়ে গেছে। সুবীরের পেনশন আগেই চালু ছিল। ছেলের বিয়ে হয়ে গেছে, গত পরশু বৌ নিয়ে দিল্লি পৌঁছে গেছে। সেখানে ওর নতুন সংসার।
সুবীর চেয়েছিল অবসর কালে এই বেণুপুরের বাগান বাড়িতে থাকতে। এখান থেকে কোলকাতা ঘণ্টা খানেকের পথ। আবার ধারে-কাছে গজিয়ে ওঠা নার্সিংহোম তো আছেই। সবুজে সবুজ এই বাড়িটার জন্য জমি সেই কুড়ি বছর আগে সুবীরের বাবা কিনে গিয়েছিলেন, কিন্তু বাড়ি তৈরি করে নিজের বার্ধক্যকাল এখানে কাটাবার আগেই তিনি চলে যান। সুবীরের মা আভাদের সঙ্গে ওই তিন কামরার ফ্ল্যাটে জীবন কাটিয়েছেন।
আজ সুবীর যখন চাইলো এখানে থাকবে তখন আর আভা বলতে পারেনি, গড়িয়ার ওই অঞ্চলে আভার শিকড় গজিয়ে গেছে। মাঝে মাঝে ভাবে আভা, সে নিজে যদি সিধান্ত নিতো, এমন নিরালায় বাস করার। তাকে সুবীরের সিধান্তের ওপর ভরসা করতে হতো।
মেয়েদের কবে শিকড় উপড়ে ফেলতে হয় না। বাবার বাড়ি থেকে সমূলে উঠে নতুন ঘর- বিছানায় বাস। নতুন ঘরের অপরিচিত গন্ধ, এমন কি নতুন মানুষটার নতুন গন্ধ।
আর হয় না মায়ের আঁচলের সেই গন্ধ পাওয়া। বাবার বুকের সেই ধুকপুক শব্দ। মায়ের অকারণ বকবক আর বাবার অহেতুক আস্কারা।
তখন থাকে পদে পদে নিষেধের গণ্ডি, মন জুগিয়ে চলার রেস। সবাইকে ভালো রাখতে গিয়ে নিজেকে ভুলে যাওয়া।
তা আভার কোনো অসুবিধা হয়নি। একটু মশা, দু’দিন কাজের লোকের সমস্যা, তারপর সব যেন আবার আপন হয়ে গেছে। ছেলের বিয়ে, জাঁকজমক, আত্মীয়, তারপর পেনশনের জন্য দৌড়াদৌড়ি। ফ্ল্যাট বিক্রি করে সে সব দিয়ে দিল্লিতে বাবুর জন্য ফ্ল্যাটের টাকা দেওয়া। দীর্ঘ দশ বছর ছেলেটাকে ই এম আই চালাতে হবে। তবুও এই বয়সে ওর নিজের ঘর হয়ে গেলো। ছেলের বৌ শ্রাবণী নিজেও চাকরি করে। দু’জনে ঠিক গুছিয়ে নেবে আভা জানে। সেও তো নিয়েছিল। নিজে চাকরি করে আঠার বছর গোড়িয়ার ফ্ল্যাটের টাকা দিয়ে গেছে।
এই বাড়িটা পেতে ও সুবীরকে অনেক টাকা ঢালতে হয়েছে। দুই বোনকে প্রাপ্য দিয়ে, বাড়িটা মনের মতন তৈরি করা। গাছপালা থেকে আসবাব সবকিছু তো সুবীর নিজের হাতে করেছে। আভা সংসার চাকরি সামলে আসতেই পারতো না। সুবীর চলে আসতো প্রায়দিন। পাশেই বারাসাতে সুবীরের ছোট বোন থাকে। সেখানেই থেকে গেছে কতদিন। সুবীরের স্বপ্নের বাড়ি।
তোমার কি হলো মাসি?
আয় বাব্বা কাল যে বইল্লে আশা শিগ্গির আসিস। আমি তো দৌড়গে দৌড়গে আসলাম।
যা আগে ঘর-বাড়ি পরিষ্কার কর। আর একটু পরেই রাধুর মা এসে পড়বে। তখন তুই কূল পাবি না।
এই এক্ষুণি কইরে দিচ্ছি।
শোনো তোর মেসো হাঁটতে গেছে, বাজার নিয়ে এলো বলে তাড়াতাড়ি হাত চালা। আজ বাড়িতে লোক আসবে।
এই দ্যাকোনা কেমন ফটাফট্ করতেসি।
যা।
বাজার থেকে গোটা দুয়েক ইলিশ আর চুনো মৌরলা মাছ কিনে সুবীর কাটতে দিয়ে চিকেন আনতে যায়। যদিও চিকেন ভালোবাসে না কিন্তু রেডমিট খাওয়া একদম বারণ।
আজ একটু ইলিশ খেলেই আভার চিন্তায় ভ্রু কুঁচকে যাবে।
কাল দুপুরে জমিয়ে পাঠা হবে, আভা যাই বলুক। পাঠার দোকানে অগ্রিম বলে রাখলো সুবীর। সক্কালবেলা যেন বাড়িতে পৌঁছে দেয়। কাল আর হাঁটতে আসা হবে না।
কচুর শাক, উচ্ছে, বেগুন আর কি নিতে বলেছিল আভা সুবীরের মনে আসে না। অসুবিধা নেই। রাধুর মাকে বললে এনে দেবে। আবার সোমবার বাজারে আসবে সুবীর। কিছু ফল, নিজের কিছু টুকটাক জিনিস নিয়ে, মাছ বাজারে যেতেই মাছ কাটা তখন শেষ। রাধুর মাকে দিলে মাছ নিয়েই বসে থাকবে, তাই কেটে কুটে নিয়ে যাওয়া ভালো। কিন্তু ইলিশ নয়। ইলিশ মাছটা আভা নিজের হাতে কাটবে। সুবীর জানে।
সকালে ঐ সবজি সিদ্ধ বাদ দিয়ে একটু মাছের তেল দিয়ে দুটো গরম ভাত কী দেবে আভা? ভাবতে ভাবতে টোটোতে উঠে বসে সুবীর।
আরে তোর দাদা তো এসে পড়বে , হাত চালা।
আরে তুমি ঠান্ডা হও বৌদি। দাদা কোনোদিন তাড়াতাড়ি আসেন?
আজ আসবে। বললাম না আজ লোক আসবে বাড়িতে। শোন রাধুর মা আমি শুধু ছোট মাছের ঝাল আর ইলিশটা রান্না করবো। বাকি রাঁধুনী ফোড়নের ডাল, মাছের মাথা দিয়ে কচুশাক, বেগুন ভাজা ওগুলো তুমি কোরো।
তুমি কিছু ভেবো না। সব হয়ে যাবে।
আর হ্যাঁ ভালো চাল বসিও। আর আনারসের চাটনী করতে ভুলো না। মিষ্টি কিছু হবে না। বুঝলে?
একেবারে বুঝে গেছি। আমি মশলা করেনি।
নিজের ঘরে গিয়ে সুন্দর একটা শাড়ি বের করে আভা। হালকা নীল রঙের গোলাপী ফুল। ছোট্ট মুক্তদানার কানের দুল দুটো। কত বছর পড়া হয় না। সুবীরের জন্য জামা-কাপড় বের করে রাখে। বারোটার আগে সব তৈরি করতে হবে। সবাই এসে গেলে আর সময় হবে না। শিহরণ লাগে মনে কত কত বছর পরে।
কৈ গেলে শুনছো!!
বলেন দাদা।
নে, বাজারগুলো নিয়ে রাখ। বৌদি কই?
ঘরে।
আভা!
আসছি, জল খাও।
মাছ দেখে নাও কিছু লাগলে রাধুর মাকে আনতে বলো। আমি স্নান করবো। কী পচা গরম। আজ বৃষ্টি হবে ঠিক।
স্নান সেরে আসো। আমি খাবার দি।
আজ কি খাবো?
রোজ কি খাও??
অ!
রান্নাঘরে গিয়ে সব রান্নার তদারকি করে মাছটা নুন হলুদ মেখে, আভা ইলিশ মাছটা কাটতে বসে। আজকাল বসতে কষ্ট হয়। তবুও যত্ন করে মাছটা কাটে। আগে সুবীর আভার হাতে মাছের গন্ধ নিতো, এত প্রিয় ইলিশ মাছ।
স্নান সেরে তৈরি হয়ে হলেঘরের খাবার টেবিলে বসতেই দিনটা সুন্দর হয়ে গেলো।
ছোট্ট গোল করা সাদা দুধের মতন ভাতের গোলের মাঝে গোল করে দু’পিস মাছ আর মাছের ডিম, তেল। কাঁচালঙ্কাটা উঁকি মারছে।
কি হলো খেয়ে নাও।
ভাত খাবো?
থাক থাক। খাও। সামনের পুরো সপ্তাহে তুমি ইলিশ, মাংস কোনোটাই পাবে না। আজ আর কাল তোমার হাফ ছুটি।
হাফ কেন?
কারণ পুরো ছুটি দিলে খেয়ে দেয়ে শরীর খারাপ বাঁধাবে। সুগার মনে আছে?
হুম। কিন্তু দুদিন তো ছাড়?
হ্যাঁ ছাড়। খাও।
খেয়ে দেয়ে সুবীর খবর দেখতে বসবে আর আভা রান্না শেষ করবে।
স্নান সেরে যখন সবেমাত্র শাড়িটা পড়ে সিঁদুর দিচ্ছিলো, তখনই গাড়ির আওয়াজ।
তাহলে এসে গেছে। আজ কতদিন, কত বছর পর....
এই শুনছো ওরা এসে গেছে। কই গেলে?
আসছি।
আর অমল আয় আয়। কি করেছিস রে, অত সুন্দর চুলগুলো।
দাঁড়া আগে দম নিই। আজকাল আর এত জার্নি করি না রে।
সুদেষ্ণা এসো এসো। রঞ্জন আসেনি? শ্রীময়ী?
রঞ্জন তো এসেছে। শ্রীময়ী আসলো না। লোক পায়নি রে আসার। জয়িতাকে তো চেনাই যাচ্ছে না।
আভা আসো।
আভা দরজায় হেলান দিয়ে থমকে যায়। আজ অনেক বছর বাদে নিজের কলেজ লাইফের বন্ধুদের সামনে।
এবার আভা অবসর নেবার পর বেশ কিছু টাকা তো ছেলের বিয়ের জন্য খরচ হয়, কিন্তু নিজের জন্য একটা স্মার্টফোন কিনেছিল। সেই ফোনে ছেলে সবকিছু ভরে দিয়েছে।
ফোন আগেও ছিল, কিন্তু সংসার আর চাকরি সামলে কোনোদিন তেমন ফোনের খবর নেওয়া হয়নি।
এখন হুট করে অখণ্ড অবসরে ফোন বন্ধু হয়ে গেছে।
সেই ফোন থেকে আভা পেয়েছে, কলেজ লাইফের বন্ধু সুদেষ্ণাকে। সেই সূত্রে অমল, জয়িতা, কেতকী, রঞ্জণ আর শ্রীময়ী।
বেশ ক’মাস ধরে চলছিল প্ল্যানিং কিন্তু কারোর শরীর খারাপ তো কারোর ছেলে মেয়ের পরীক্ষা। কেউ গৃহকোণ ছেড়ে বের হতে চায় না তো কেউ রাজি হয় না। সব বাঁধা কাটিয়ে আজ এই চারজন আসতে পেরেছে। না, পরিবার নিয়ে নয়, সুদেষ্ণার বর আলাদা হয়ে গেছে, জয়িতার বর মারা গেছেন,
রঞ্জনের মেয়ের পরীক্ষা। অমল তো একাই থাকে।
কি গো থম মেরে গেছো কেন?
তোকে কত বছর পর দেখলাম আভা।
আয় আয় ঘরে আয়। তোরা সবাই বাবুর বিয়েতে আসলে কত ভালো হতো।
গুষ্টির মাথা হতো, বলে ওঠে রঞ্জন। ছেলে মেয়ে নিয়ে কেউ কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে আসে? আমার তো ভালোই হয়েছে ছোট মেয়েটার পরীক্ষা, নইলে গিন্নির হাত থেকে রক্ষা আছে?
এই জন্য আমার মতন ব্যাচেলার থাকতে হয়। বুঝলি রঞ্জন।
হ্যাঁ রে অমল, তুই ভালো আছিস। কোনো ঝুট ঝামেলা নেই।
নারে তোরাই ভালো আছিস।
নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস ....
আহ! আয় তো সব।
অমল আভার খুব কাছে এসে বললো, ভালো আছিস আভা?
হুম।
সকালে সব হালকা টিফিন করেছে, দুপুরে খেতে বসে সব হা হা করে ওঠে।
কি করেছিস আভা এত খাওয়া যায়? কচুশাক আর ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে করলেই তো খাওয়া হয়ে যায়।
আরে সুদেষ্ণা মৌরলা মাছের ঝালটা খেয়ে দ্যাখ।
আমার তো ভাই আনারসের চাটনী দেখেই পেট ভরে গেলো। হই হই করে সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া। বড় ডাইনিং টেবিলটা সুবীর কিনেছিল বোনেরা আসলে সবাই একসঙ্গে বসে খাবে বলে। আজ সবাই সেই টেবিলে যেন কলেজের জীবনকে ফিরিয়ে আনলো।
দুপুরে দোতলার বড় হলঘরে সবাই মিলে বসা হলো, শুধু রঞ্জন আর সুবীর নাক ডাকতে চলে গেলো শোবার ঘরে। দোতলায় তিনটে শোবার ঘর তবুও সুবীর সেই নীচেই যাবে ঘুমাতে।
হলঘরের এককোণে গদির বিছানায় বসে আড্ডা দিচ্ছিলো সুদেষ্ণা, জয়িতা আর আভা। আর অমল সেই আগের মতন কাগজে ছবি আঁকছে।
রাতে সবাই হালকা খাবার খাবে বললেও পনিরের কাবাব আর চিকেন পকোড়া বানালো জয়িতা। সালাদ আর খাবার নিয়ে সব ছাদে। এটাই ডিনার। আলাদা করে কেউ ভাত রুটি খাবে না। সবার নাকি পেট ভর্তি।
জয়িতা, সুদেষ্ণা, আভা আর ছেলেরা বসে গেলো সঙ্গে। আভা আগেই বলে দিলো, মাত্র দু পেগ। সুবীরের সুগার আছে।
সবাই দোতালায় বসেছে, সামনে খোলা ছাদ আছে অনেকটা। সেই ছাদে শতরঞ্জি পেতে আসর। ছাদের আলোটা অমল বন্ধ করে দিতে বললো আভাকে। কারণ চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে ছাদ। গাছের পাতাগুলো চকচক করছে আলোয়। শহরে থাকা মানুষগুলো যেন হুট করে অজানা কোনো জায়গায় এসে পড়েছে। সবকিছু অজানা সবকিছু রহস্যময়। সুদেষ্ণা আর জয়িতা পালা করে করে গান গাইছে।
রঞ্জন আর সুবীর নিজেদের কোটা শেষ করে গল্প করছে। জয়িতা ঘুমাতে চলে গেছে। সুদেষ্ণা গান করছিলো গুনগুন করে। অমল আভার পাশে বসে বললো, ভালো আছিস?
হুম।
খুব ভালো আছিস?
হ্যাঁ।
যাক তাহলে তোর নির্বাচনটা ভালোই ছিলো।
আমার না তোমার।
হ্যাঁ আমার। দেখলি জীবনে আমি কিছু করতে পারিনি। চাকরি করে ভাই-বোন মানুষ করলাম। তবুও কারোর চাহিদা পূরণ আর হয় না।
এই বয়সে পুরো একা থাকি, আঁকা আর পেনশন চলে যায়।
হয়ত পাল্টে যেতো।
হয়ত। কিন্তু হয়ত দিয়ে জীবন চলে না। আজ আমি একা আছি। খারাপ নেই রে। ভাই-বোন দু’টো ভালো আছে। তখন যদি আমি নিজের সংসার করতাম তো কেউ ভালো থাকতাম না।
বাদ দাও।
হ্যাঁ বাদ দে। তুই ভালো আছিস দেখে ভালো লাগলো। সুবীর খুব ভালো ছেলে।
তুমি মদ খেলে না?
না রে আমার আজও শুধু আঁকার নেশা।
ভালো।
সকালে হালকা টিফিন করে গল্প করতে করতে দুপুর। দুপুরে পাঠার মাংস আর ভাত খেয়েই সব গোছগাছ। তিনটে নাগাদ সব আবার আসবে, বলে রওনা দিলো। যাবার আগে জয়িতা তো আভাকে ধরে কেঁদেই দিলো। সুদেষ্ণা বারবার ওর ওখানে যেতে বললো।
সবাইকে নামিয়ে গাড়ি নিয়ে সুদেষ্ণা চলে যাবে সেই হলদিয়া।
সবাই চলে যেতেই আভা নিজের ঘরে চলে যায়।
সুবীর বাগানে চেয়ার নিয়ে বসে।
ঘন ছায়ায় মায়ের আঁচলের মতন শীতলতা। পাখিদের কিচিরমিচির তো আছেই।
আভা চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। আভা জানে, সুবীরের সময় দরকার। নিজের মধ্যে অনেক কিছু ভাবছে। শ্রীময়ী আসলো না। সুবীরের মনে কি আজও শ্রীময়ীর কোনো স্মৃতি আছে? থাকতে পারে। আভা জানে না।
একটা সময় সুবীর আর শ্রীময়ী চুটিয়ে প্রেম করেছে। তখন আভার দিনরাত ধ্যান ছিল, অমল। কি সুন্দর আঁকতো অমল। কলেজের সবার প্রিয় কিন্তু লাজুক।
সুবীর, অমল আর রঞ্জন সিনিয়ার হলেও নাটকের দলে ছিল সবাই বন্ধু। সেখানে সুবীরের কি ধমক। সেই ছিল প্রধান উদ্যোক্তা। আবার পরিচালক। শ্রীময়ীর হুট করে বড়লোক বাড়ি বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। কলেজ, নাটক আর সুবীরকে ছেড়ে শ্রীময়ী চলে যায়।
সুবীর, অমল সব কলেজ পাস করে গেলেও নাটকের প্রতি ভালোবাসা ছিল সমান। কিন্তু দল বেশিদিন থাকলো না। আস্তে আস্তে সব ছন্নছাড়া হয়ে গেলো। রঞ্জন ব্যবসা শুরু করলো। সুবীর, আভা, সুদেষ্ণা তিনজন চাকরি পেয়ে গেলো।
সবাই নিজের কর্ম জগতে হারিয়ে গেলো। চাকরির দুনিয়ায় নাটক, বন্ধু-বান্ধব সব আস্তে আস্তে সরে গেলো।
সুবীর যখন আভাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় তখন অমল খুব উৎসাহ দিয়েছিল আভাকে। দুজনেই চাকরি করিস, সুখী হবি।
আভা কিছু বলতে পারেনি। অমল তো কোনো দিন বলেনি, আভাকে ভালোবাসে। আভাকে বিয়ে করবে। আভা বিয়ে করে সুবীরকে। নাহ্ আভা ভালোই ছিলো, ভালোই আছে।
আভা আর সুবীর নিজেদের জীবন কাটিয়েছে ভালোই। সেখানে বিগত কলেজ লাইফের অমল হোক বা শ্রীময়ী সব ক্ষণিকের স্মৃতি। জীবনে এমন স্মৃতিরও প্রয়োজন আছে। স্পেসের দরকার আছে। নইলে হয়ত বাঁচাটা বড়ই একঘেয়ে হয়ে যাবে।
শ্রীময়ী, অমল তোমরা আজীবন স্মৃতিতে থেকো।
ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন