
প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২২, ০৫:৫৯ পিএম
বর্ষা স্কুলের শিক্ষিকা, হাইস্কুলের। ভালো শিক্ষিকা হিসেবে তার নাম ডাক খুব। বাড়িতে বাবা মা আর ছোট ভাই। সেও সুপ্রতিষ্ঠিত। বিয়ে থা করে ঘোর সংসারী। শুধু সংসার ধর্ম পালন করা বর্ষার কপালে ছিল না। একদিন বর্ষা স্কুল থেকে ফিরছে। কিছুক্ষণ আগেই বৃষ্টি হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট জলে থৈ থৈ করছে। পৌরসভার কোনো হুশ নেই। রাস্তার খানাখন্দগুলো মেরামত করতে পারেনি। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট কুমীর প্রকল্প হয়ে যায়। নিকাশি ব্যবস্থা এতটাই খারাপ। এইভাবে গজগজ করতে করতে বর্ষা অন্য মনস্ক হয়ে পড়ে। পা যখন স্লিপ করে পড়ে যাচ্ছিল, হঠাৎ এক ভদ্রলোক দেখতে পেয়ে তার হাতটা এসে ধরেন। বর্ষা ধন্যবাদ জানাবার জন্য যেই ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে চোখ দুটো আটকে গেছে। ভদ্রলোকও "দেখে চলবেন তো ম্যাডাম".. বলে যেই দেখেছেন দুজনের চোখ দুজনের দিকে আটকে গেছে। কয়েক মুহূর্ত কারো মুখে আর কোনো কথা ছিল না। হঠাৎ ঝমঝম করে বৃষ্টি নামতে খেয়াল হলো তারা রাস্তায়। হাতটা ছাড়িয়ে তাড়াতাড়ি করে প্রতীক্ষালয়ে গিয়ে দাঁড়ালো।
প্রতীক্ষালয়ে তখনও তেমন ভিড় জমেনি। সম্ভবত এই সময় কোনো বাস নেই। তাই ভিড়ভাট্টা কম। দু-একজন এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করছে। বর্ষা একটা ফাঁকা সিট দেখে বসতে যাবে, হঠাৎ ঐ ভদ্রলোক একটা রুমাল নিয়ে এসে সিটটা মুছে দিলেন। "জল ছিল তোমার শাড়িটা নষ্ট হয়ে যেত"...
বলেই রুমালটা নিজের ব্যাগের একটা সাইড পকেটে ঢুকিয়ে রাখল। ভদ্রলোকের নামটাই তো বলা হলো না। ভদ্রলোকের নাম বাদল পাহাড়ী। খাঁটি ব্রাহ্মণের ছেলে। বর্ষার সঙ্গে তার সম্পর্ক বহু বছরের। দুজন দুজনকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতো। দুই বাড়ির মতেই তাদের বিয়ে হয়। খুব সুখী ছিল তারা। হঠাৎ একটা ঘটনা তাদের দুজনের পথ আলাদা করে দেয়।
তারপর
থেকেই তারা আলাদা। কোনো
দিন তাদের দেখা সাক্ষাৎ বা
ফোনালাপও হয়নি। তখন অবশ্য মোবাইল ফোন ছিল না। কারও কারও
বাড়িতে ল্যাণ্ড ফোন ছিল।
"আমি
কি বসতে পারি?"..... বলতেই
মুখ তুলে তাকালো বর্ষা।
এই সেই চাউনি! ভোলার
নয়!
প্রায়
পনেরো বছর পর দেখা।
এখনও একই রকম আছে।
"বসুন"... বলেই বর্ষা মুখটা
নামিয়ে নিলো।
একটু তফাতে বর্ষার পাশটিতে বসলো। বর্ষা একটা ম্যাগাজিন নিয়ে ওল্টাতে লাগলো। পড়তে পারছে না। শুধু সময় কাটানোর জন্য। আর বাদলের সঙ্গে উপযাচক হয়ে কথাও বলতে পারছে না। হয়তো মন চাইছে কথা বলতে, কিন্তু ঐ "ইগো" কথা বলতে দিচ্ছে না। এ দিকে বাদল ইতস্তত করছে কথা বলার জন্য কিন্তু এগোতে পারছেন না। সম্পর্কটাতে ধুলো জমে গেছে। কেউ যদি একটু ধুলোটা সরিয়ে দেয়, তাহলে হয়তো আগের মতোই ঝকঝকে হয়ে যাবে।
বাদল
হঠাৎই জিজ্ঞেস করে,"কেমন আছো বর্ষা?"
বর্ষা বাদলের কথায় চমকে ওঠে। তাকায়
বাদলের দিকে, বাদল তখন মাথা
নীচু করে হাত দুটোর
তালুতে রেখা দেখছে।
"ভালো
আছি। খারাপ থাকার তো কোনো কারণ
নেই।" বলেই আবার ম্যাগাজিনে
মনোনিবেশ
করলো।
"আপনি কেমন আছেন?"
"হু,
কিছু বললে আমাকে?"
হ্যাঁ।
"কেমন আছেন জানতে চাইলাম।"
ও!
ভালোই আছি। একেবারেই "আপনি"
হয়ে গেলাম, বলেই একটা ব্যথাভরা
হাসি মুখে ফুটে উঠল।
বর্ষা খেয়াল করেছে।
হ্যাঁ।
"সব তো শেষ হয়ে
গেছে। আপনি তো এখন
আমার কাছে একজন অপরিচিত
পরপুরুষ ছাড়া আর কিছুই নন।"
"তাই
কি বর্ষা!"
"আপনি
এই দিকে কোথায় যাচ্ছিলেন।
এই দিকে তো আপনার আসার
কথা নয়। তাহলে কি
এখানে আপনার স্ত্রী থাকেন?"
কথাটা শুনেই চমকে ওঠে বাদল। মুখে হাসি টেনে এনে বলে "হ্যাঁ, ঠিক বলেছো, এখানে আমার স্ত্রী থাকেন।"
"ও।
কি করেন তিনি ?"
গল্প করতে করতে হঠাৎ প্রবল বর্ষণ শুরু হয়ে গেল। দেখতে দেখতে ভিড় জমে গেল। এতো লোকের মাঝখানে বাদল কথা বলতে পারছিল না।
বর্ষাকে
বলল ,"যদি আপত্তি না
থাকে তাহলে একটা কথা বলবো?"
"বলুন"...
কি কথা।
বৃষ্টি
মনে হয় থামবে না।
সামনেই আমার ফ্ল্যাট। চল
না একটু ঘুরে আসবে।
তা ছাড়া বাস আসতেও দেরি
আছে। এখন অপরিচিত হলেও
আগে তো পরিচিত ছিলাম।
বেশিক্ষণ আটকাবো না। যাবে আমার
.....
"চলুন। বলছেন যখন"। আপনার সংসারটা
দেখে আসি।
"ট্যাক্সি" বলেই
হাত দেখালো বাদল। এসে থামলো তাদের
কাছে। উঠে পড়ল দুজনে।
সোজা চলল বাদলের ফ্ল্যাটের
দিকে। ট্যাক্সি থামতেই নেমে পড়ল দুজনে।
বর্ষা ভাড়া মেটাতে যেতেই, বাদল
বলল,
"আমি নিয়ে এসেছি তোমাকে"। তাই ভাড়াটা
আমিই দেবো। যে দিন তোমার সংসার দেখতে আমি যাবো
সে
দিন তুমি দেবে। এই বলেই বাদল
ভাড়া মিটিয়ে
ঘরে
ঢুকল। বর্ষা বাড়ির নেমপ্লেটটা খেয়াল করেনি। সুন্দর একটা ফ্ল্যাট। বসার
ঘরে গিয়ে বসল
বর্ষা।
বাদল বলল" তুমি কাপড়টা চেঞ্জ
করে নাও।
ঠাণ্ডা
লেগে যাবে। তোমার তো অল্পেই ঠাণ্ডা
লেগে যায়। আমি তোমার জন্য
শাড়ি নিয়ে আসছি।"
বর্ষা
অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
এখনও ওর মনে আছে,
"আমার অল্পেই ঠাণ্ডা লেগে যায়।"
থাকতেই
পারে। তাই বলে ওর
বৌয়ের শাড়ি আমাকে পরতে হবে! না,
আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
ভাবতে ভাবতে দেখে শাড়ি নিয়ে হাজির বাদল। বাদলের হাতে শাড়িটা দেখেই চিনতে পারল বর্ষা। এটা তো সেই শাড়ি!
এই নাও শাড়ি। ঐ দিকে একটা ঘর আছে সেখানে গিয়ে চেঞ্জ করে নাও। শাড়িটা হাতে নিয়ে বর্ষা একবার তাকালো। কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল শাড়ি নিয়ে। তার আগেই বাদল বলে ফেলল, "শাড়িটা আমার বৌয়ের। তোমার পরতে অসুবিধা নেই তো?" কিন্তু এই শাড়িটাতো আমার, মনে হচ্ছে। আমি আর তুমি একসঙ্গে কিনেছিলাম। তোমার এই কালার খুব পছন্দ। কিনে ঐ দিন আমরা খুব বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম। কথাগুলো বলার পর মনে হলো বর্ষার অনেক কিছু বলে ফেলছে। সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সামলে নেয়। বাদল তার কথাগুলো মুগ্ধ হয়ে শুনছিল।
বর্ষা বলা বন্ধ করার পর বাদল শুরু করলো, "ইচ্ছে করে ভিজতে ভিজতে আমরা বাড়িতে ফিরেছিলাম। বাড়িতে মায়ের কি বকুনি। মা তো জানতো না, তুমি আমি দুজনেই ভিজতে খুব ভালোবাসি। তোমার জোর ঠাণ্ডা লেগেছিল। জ্বর ও হয়েছিল। আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তোমার মনে আছে বর্ষা! সেই সব কথা।"
বর্ষা
উত্তর দিলো না। সোজা
চলে গেল বাদলের দেখানোর
ঘরটাতে। ঢুকেই মাথা ঘুরে যাওয়ার
মতো অবস্থা বর্ষার। কি দেখছে এই
সব বর্ষা! সারা ঘরের দেওয়ালে
শুধু বর্ষার ছবি! কোনোটা বিয়ের,
কোনোটা হানিমুন করতে গিয়ে তোলা,
কোনোটা তার রান্নাঘরে। দেওয়ালে
কোথাও ফাঁকা জায়গা নেই।
কিন্তু
বাদলের বর্তমান বৌয়ের ছবি কোথায়?
একটা ছবি দেখে আটকে যায় বর্ষা। একটা চুড়িদার পরা মেয়ে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে নাচ করছে। কিন্তু এই ছবিটাতো "আমার বিয়ের অনেক আগের"। কে তুলেছে এই ছবি। আমার বাপের বাড়ির ছাদে তোলা।
"এই ছবিটা আমি তুলেছিলাম বর্ষা।" তোমার বাপের বাড়ির পাশের বাড়িটা আমার বন্ধুর বাড়ি। একদিন বৃষ্টি পড়ছিল। আমি বৃষ্টিতে ভিজতে যেমন ভালোবাসি, দেখতেও ভালোবাসি। তাই ছাদে গেলাম বৃষ্টি দেখতে। বৃষ্টির সঙ্গে দেখতে পেলাম একটি উচ্ছ্বল মেয়ের দূরন্ত নাচ। লোভ সামলাতে পারিনি। সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরা নিয়ে আমি ঐ ছবিটা তুলেছিলাম। তোমাকে কোনো দিন বলিনি।
তা এখানে আপনার বৌয়ের ছবি দেখতে পাচ্ছি না তো? তার ছবি দেখান? আপনার বেডরুমে আপনার বৌয়ের ছবি থাকার কথা।
এইগুলো
সবই তো আমার বৌয়ের
ছবি। ভালো করে দেখো।
"বর্ষা তুমি বিয়ে করলে
না কেন?" কথাটা শুনেই সহসা চমকে ওঠে
বর্ষা।
একটু
সময় নিয়ে উত্তর দেয়, " তেমন পাত্র কোথাও
পেলাম না।"
অমি
তোমার সঙ্গে মজা করছি না
বর্ষা। তুমি তো বিচ্ছেদ
চেয়েছিলে। আমি তোমাকে মুক্তি
দিয়েছিলাম। তাও জীবনটা শুরু
করতে পারলে না বর্ষা?
বাইরে
তো প্রবল বর্ষণ। কি করে আমি
যাবো ভাবছি। বাড়িতে চিন্তা করবে। বর্ষার এই কথাগুলো শুনে
বাদল বলে, "আমার প্রশ্ন এড়িয়ে
যেতে চাইছো?"
আচ্ছা, আপনি কেন বিয়ে
করলেন না? আপনি তো
সেই মেয়েটিকে ভালোবাসতেন। কথাটা ছুঁড়ে দিলো বাদলের দিকে।
বাদল হো হো করে হেসে উঠলো। সামান্য ভুল বুঝে একটা বড় সিদ্ধান্ত তোমার মতো মেয়ে নিলো কি করে? আমাকে বিশ্বাস করলে না। তুমি আমার সঙ্গে যে মেয়েটিকে দেখতে, সেটি আমার খুব কাছের বন্ধু শঙ্করের হবু বৌ।
এই
কথাটা শুনেই ঘুরে দাঁড়ালো বর্ষা।
তোমার বন্ধুর হবু বউ! তাহলে
তার সঙ্গে তোমাকে আমার বন্ধুরা বিভিন্ন
জায়গায় দেখেছে, এমন কি তোমাদের
দু'জনকে একসঙ্গে জড়ানো
........
প্লিজ বর্ষা! এবার চুপ কর। কে, কখন, কাকে কেন জড়িয়ে ধরছিল, একবারও জানতে চেয়েছিলে? তবে শোন, মেয়েটির নাম সুধা। খুব গরীব। শঙ্কর পয়সাওয়ালা বাপের ছেলে। শঙ্কর সুধাকে ভীষণ ভালোবাসতো। এই কথাটা একমাত্র আমি জানতাম। একদিন আমি শঙ্করের সঙ্গে সুধাদের বাড়িতে যাই। গিয়ে দেখি তার বাবা মরনাপন্ন।
শঙ্কর ডাক্তার ডাকতে যায় আমি ছিলাম ওর বাবার কাছে। ওদের অবস্থা দেখে খুব কষ্ট হয়েছিল। ওর বাবা আমার হাত দুটো ধরে বলেছিলেন, "আমার মেয়ে শঙ্করকে ভালোবাসে, ওদের বিয়েটা যেন হয়। মরে অন্তত শান্তি পাবো।
আমি সুধার বাবার হাত ধরে কথা দিয়েছিলাম, আমি সুধাকে ছোট বোনের মতো দেখবো। আপনি কিছু ভাববেন না।" তিনি আমার চোখের সামনেই মারা গেলেন। শঙ্কর যখন ডাক্তার নিয়ে পৌঁছল, তখন সব শেষ। তারপর থেকেই আমি ওদের সংসারের কিছুটা দায়িত্ব নিয়েছিলাম।
তখন তো তুমি আমাকে এই সব কথা বলনি। তাহলে আমিও তোমার সঙ্গে ওর দায়িত্ব নিতে পারতাম।
কি জানো বর্ষা! গরীবের কিছু থাক বা না থাক, আত্মসম্মান বোধটা ভীষণ রকমের থাকে। সুধাকে অমি কথা দিয়েছিলাম, তাদের দারিদ্র্যের কথা আর সাহায্যের কথা কারো কাছে বলব না। তারপর সময় পেলেই ওর বিয়ের বাজার করতাম। একদিন আমাকে বলল, "দাদা তুমি পরের জন্মে আমার মায়ের পেটের দাদা হইও। তারপরেই আমাকে প্রণাম করতে এলো, আমি দুহাত দিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম, পাগলী বোনের জায়গা দাদার পায়ে নয়, দাদার বুকে।" তখন হয়তো তোমার বন্ধুরা দেখেছে। তাদের অবশ্য দোষ নেই। দোষ তাদের দৃষ্টিভঙ্গির। এবার বুঝতে পেরেছো। বাদল কথাগুলো বলে যখন তাকালো বর্ষার দিকে, তখন বর্ষা এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে। বাদল আস্তে আস্তে ওর কাছে গেল, কিন্তু ওর কাঁধে হাত রাখতে ইতস্তত করতে লাগলো। যখন কাঁধে হাত রাখলো বর্ষা ঝাঁপিয়ে পড়ল বাদলের বুকে। তারপরেই ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে বলল, "আমি বুঝতে পারিনি বাদল,
না
বুঝে অনেক বড় ভুল
করেছি।" বাদল বর্ষার এই
অবস্থা দেখে হতচকিত হয়ে
পড়ে। বাদলের হাত দুটো ধীরে
ধীরে জড়িয়ে ধরল বর্ষাকে। বর্ষা
আরও নিবিড়ভাবে বাদলকে জড়িয়ে ধরল।
"তুমি শুধু ভুল করোনি, আমিও ভুল করেছিলাম।" আমার উচিত ছিল তোমাকে বুঝিয়ে বলার।"
"আমাদের
মূল্যবান পনেরোটা বছর চলে গেছে
বাদল। সেগুলোকে তো আর ফিরে
পাওয়া যাবে না।" কাঁদতে
কাঁদতে বলে বর্ষা।
"সব ঠিক হয়ে যাবে। এবার চোখের জল মোছ।" দেখি মুখখানা। বলেই বাদল বর্ষার মুখটা তুলে ধরে, চোখের জল মুছিয়ে দেয়। এই দেখো বাইরে কেমন বৃষ্টি হচ্ছে। যাবে না কি একটু ভিজতে। সেই আগের মতো।
আগে
বলতো তুমি এই খানে
কেন ফ্ল্যাট কিনেছো? এখানে তো তোমার আত্মীয়-স্বজন কেউ থাকে না।
তা ছাড়া তোমার অফিসও এখানে নয়।
তবে
শোন, একদিন আমি শুনলাম, তুমি
বদলি নিয়ে এখানে এসেছো। তখন আমিও ঠিক
করলাম
এইখানেই একটা ফ্ল্যাট কিনি। আমার বিশ্বাস ছিল আমার ভালোবাসার উপরে। একদিন না একদিন তুমি ফিরে আসবেই।
"তুমি
ডিভোর্স পেপারে সই করেছিলে কেন?"
আমাকে
একটুও ভালোবাসোনি। বর্ষা রাগ করে বলে।
তখন
তোমার কথাবার্তা শুনে, আর তুমিই তো
চেয়েছিলে, তাই সই করে
দিয়েছিলাম।
আমি কিন্তু করিনি। সেই অবস্থায় রেখে দিয়েছি। বলেই বাদলের বুক থেকে মুখ তুলল বর্ষা। বাদলকে ছেড়ে হঠাৎ করেই বাইরে বেরিয়ে গেল। বাইরে ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে। বর্ষা মনের আনন্দে ভিজতে লাগল। বাদল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে বলল, "বৌটা আমার আগের মতোই পাগলী আছে"।
হঠাৎ
বর্ষা এসে টেনে নিয়ে
গেল বাইরে। দুজনে মনের আনন্দে ভিজতে
লাগল। বাদল বর্ষাকে বলল,
"বাড়ি যাবে না। তোমার
বাবা-মা চিন্তা করছেন
নিশ্চয়ই।" বর্ষা বৃষ্টির মধ্যেই বাদলের বুকে মাথা রেখে
বলল, "নিজের বাড়িতেই তো আছি।"
ঝমঝম
করে আবার জোরে বৃষ্টি
শুরু হলো।