• ঢাকা বৃহস্পতিবার
    ০৩ এপ্রিল, ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

বকুল ফুলের গন্ধ

প্রকাশিত: মে ৯, ২০২২, ০৪:৪৯ পিএম

বকুল ফুলের গন্ধ

মালবিকা পাণ্ডা

কংসাবতীর তীরে একটা ছোট্ট গ্রাম। চারদিকে ঘন
সবুজের কার্পেট বিছানো। আলের ধারে ধারে হলুদ রঙের সর্ষে ফুলের মনোরম দৃশ্য যে কোনো মানুষের চোখ আকর্ষণ করবেই। তারই মধ্যে সরু নালা দিয়ে 
নদী থেকে তোলা জল বয়ে চলেছে। সেই জল 
সবুজ ক্ষেতে গিয়ে পড়ছে। ছোট ছোট ছেলে 
মেয়েরা কাগজের নৌকা ভাসিয়ে খেলা করছে। 

কেউ কেউ আবার নালার ধারে বসে কাদা মাটি 
দিয়ে "ঘর" বানাচ্ছে। গ্রামের মধ্যে আছে সান বাঁধানো একটি বকুল গাছ এবং সংলগ্ন একটি 
পুকুর। পুকুরটিও সুন্দর করে বাঁধানো। গ্রামের অনেক বৌ - ঝিয়েরা বিকালে বসে গল্প গুজব করে।
বাড়ির কাজের জন্য জল বয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু এই পুকুরের জল দূষিত করার কোনো নিয়ম নেই। 
কাপড় কাচা বন্ধ, স্নান করাও বন্ধ। গ্রামের মানুষের কাছে খুব পবিত্র এই পুকুর। 
এই গ্রামেরই এক মহিলা, বয়স নব্বইয়ের কোঠা 
কবেই পেরিয়ে গেছে, বয়সের ভারে ন্যুব্জ, চুল শন
নুড়ির মত সাদা, দাঁত সব পড়ে গেছে। আছে বলতে 
অকৃত্রিম প্রেম আর ভালোবাসা! যেটা এখনকার দিনে পাওয়া দুষ্কর। এই ভদ্রমহিলার নাম সৌদামিনী ।
নামের সঙ্গে চরিত্রের মিল আছে। তিনি নিজেও বজ্রের মতো কঠিন । 
     প্রতিদিনকার মতো সে দিনও সৌদামিনী পুকুর থেকে এক বালতি জল নিয়ে সান বাঁধানো বকুল গাছে
ঢেলে, সান বাঁধানো বেদীটাকে হাত দিয়ে আলতো করে ধুয়ে ফেললেন। বেদীর উপর পড়ে থাকা পাতা, আবর্জনা হাতে করে তুলে নিয়ে বাইরে ফেলে দিলেন।
সৌদামিনী দেবীর কখনও এই কাজের অন্যথা 
হয়নি। সেই যৌবন বয়স থেকে এই কাজ তিনি করে আসছেন। এই বেদীর উপর অনেকেই এসে বসে, গল্প করে, গ্রীষ্মকালে তো দুপুরে কত লোক এসে 
বেদীর উপর ঘুমিয়ে পড়ে। চারদিকে গাছ, শীতল বাতাস এই সব গ্রাম ছাড়া আর কোথায় পাওয়া 
যাবে! 
          কলেজে পড়া কিছু ছেলে - মেয়ে রাস্তার ধারে 
বকুল গাছের তলায় বেদীটার উপর বসে পড়ে। গাছ
থেকে টুপটাপ করে খসে পড়ছে বকুল ফুল। গন্ধে চারদিক ম ম করছে। সৌদামিনীর সঙ্গে দেখা হতেই 
বেশ ভাব জমিয়ে ফেলে। তাদের মধ্যে একজন বলে 
" আমরা মাঝে মধ্যে এই গ্রামে আসি। আপনাকে 
দেখি আপনি এই বেদীটাকে জল দিয়ে ধুয়ে ধূপ ধুনো দিয়ে প্রণাম করেন ।" 
       তোমরা বুঝবে না গো! তোমরা এখনকার ছেলেমেয়ে। ভালোবাসার অর্থ তোমরা কি বুঝবে!
প্রেম কাকে বলে তোমরা কি জান? 
     আমরাই তো জানব, আমরা এখনকার 
ছেলেমেয়ে। এখন তো সবাই প্রেম করে বিয়ে 
করে । 
       বিয়েটাই করে। কিন্তু প্রেমটা থাকে না। না হলে কি, এত সংসার ভাঙ্গে। বলতে বলতে সৌদামিনী 
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। 
          বেদীটাতে হাত বুলিয়ে বললেন, " এখানে 
ঘুমিয়ে আছেন আমার স্বামী।"
          আপনার স্বামী! এখানে? কিভাবে ....
      সে অনেক বছর আগের ঘটনা। আমার বয়স 
চৌদ্দ, পনেরো বা একটু বেশিও হতে পারে। এই বয়সে সব মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। আমার হয়নি। 
তখন আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এই রকমই ছিল।
আমার চৌদ্দ বছর বয়সে, পঞ্চাশ বছরের এক বৃদ্ধ আমাকে বিয়ে করতে এসেছিলেন। আমি মরে যাব, 
তবু বিয়ে করব না। তারপরেই মাসির বাড়ি চলে এলাম। 
 এখানে আমার মাসির বাড়ি। আমার বাড়ি এখান থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে। আমি মাসি বাড়িতে 
 থাকতাম। মাসির ছেলে মেয়ে ছিল না। 
মেসোমশাই ছিলেন ভারতমাতার সুসন্তান। তখন দেশের অবস্থা খুব খারাপ। চারদিকে আন্দোলন,
আর দেশকে স্বাধীন করার মন্ত্র নিয়েছে তোমাদের মত ছেলেমেয়েরা। রাত হলেই শুনতে পাবে পুলিশের বুটের শব্দ। আজ এ লোক ধরা পড়ছে, কাল সেই লোক। আন্দোলনের জোয়ারের ঢেউ বেশি আছড়ে পড়েছিল গ্রামগঞ্জে। আমার মেসোমশাইয়ের কাছে কিছু ছেলে আসত, তারা কি সব কথা বলত, আবার অনেক সময় অনেক কিছু দেয়া নেয়া হতো । সবটাই চলত 
রাতের অন্ধকারে। লোকচক্ষুর আড়ালে। 
ওই ছেলেগুলোর মধ্যে একজন ছিল দেখতে খুব সুন্দর।
      হঠাৎ একটি মেয়ে বলে ফেলল, " ঠাকুমা, আপনার বুঝি খুব ভালো লেগেছিল তাকে।"
      সৌদামিনী ফোকলা মুখে একটা মিষ্টি হাসি হেসে বললেন, " হ্যাঁ গো। খুব ভালোবেসেছিলাম তাকে।"
কিন্তু দেখা হত না। যখন আসতো, তখন দূর থেকে লুকিয়ে দেখতাম। সৌম্যকান্তি চেহারা। যে দেখবে তারই ভালো লাগবে। 
    একটি মেয়ে খুব আগ্রহ সহকারে জিজ্ঞেস করল 
" আপনি তাকে জানিয়েছিলেন আপনার মনের 
কথা?" 
        সৌদামিনী বকুল গাছটার দিকে মুখ খানি 
তুলে শুধু মাথা নাড়লেন। না, সেইভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সে জানতে পেরেছিল।
তখন তো সে অন্য প্রেমে আচ্ছন্ন! দেশপ্রেম! 
কোনো মেয়ের সঙ্গে প্রেমের কথা তার মনে 
আসেই না। তখন তার স্বপ্ন একটাই,  পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে ভারতমাতাকে মুক্ত করতে হবে।
একদিন সন্ধ্যায় পুলিশ বাড়িতে এল। ছোটনকে
ধরার জন্য। ছোটনের নাম পুলিশের খাতায়। 
পুলিশ সবসময় নজর রাখে, ছোটন কোথায় যাচ্ছে,
কি করছে। হয় তো কোনো গুপ্তচর খবর দিচ্ছিল।
 হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়ানো মানুষটার গতিবিধি তাদের নখদর্পণে। ছোটন মাসির বাড়িতে খেতে বসেছে, হঠাৎ বাইরে কড়া নাড়ানোর শব্দ। 
কেউ ভাবতে পারেনি, এই সময় কেউ আসতে 
পারে। ছোটন মুখের ভাত মুখে রেখেই কান খাঁড়া করে শুনছে। ছোটন পুলিশের বুটের আওয়াজ 
চেনে। এমন সময় মাসি বলল, "মনে হয় পুলিশ!"
ছোটন তুই আর দেরি করিস না, বাইরে পুলিশ পুরো 
বাড়ি ঘিরে ফেলেছে। যাবার রাস্তা নেই। বেরোলেই ধরে ফেলবে। আমি যা বলছি তাই কর।
তুই আর সৌদামিনী ঘরের মধ্যে শুয়ে পড়। তারপর যা করার আমি করব। 
     মাসি তো বলেই খালাস! এইভাবে কখনও কোনো 
ছেলে-মেয়ে থাকতে পারে কী! ছোটন কিছুতেই রাজি নয়। শেষ পর্যন্ত থাকতে হলো। 
     ---- ঠাকুমা! আপনারা দুজনে একটা ঘরে ..
---- হ্যাঁ গো মেয়ে। দেশের স্বার্থে এইটুকু কাজ তো 
করতেই হবে। আমাদের উদ্দেশ্য অসৎ ছিল না। সবটাই
পুলিশকে ধোঁকা দেওয়া। সবটাই দেশের জন্য। 

পুলিশ সার্চ করেনি আপনাদের ঘরটা? 
--------- হুঁ । করেছিল। আমাকে নতুন বৌ ভেবে আর 
কিছু করেনি। যদি বিছানায় গিয়ে ঢাকা খুলে 
দেখত, তাহলে ওই দিনই ছোটনের শেষদিন
হয়ে যেত। 
       ---- তারপর কি হলো! বেশ আগ্রহ সহকারে জিজ্ঞেস করে মেয়েরা। ছোটনকে ধরতে পেরেছিল পুলিশ? 
      বৃদ্ধা সৌদামিনী কাপড়ের খুঁট দিয়ে ভিতরে ঢুকে যাওয়া চোখ দুটো মুছে নিলেন। " না, তখন 
পারেনি, তবে .....
   তবে কি ঠাকুমা? বলুন না, কি হয়েছিল? 
  পুলিশ ফিরে যাওয়ার পর ছোটন চলে যায়।
যাবার সময় আমার দিকে একবার হাসি মুখে 
তাকিয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিল। ওর মনে তখন 
স্বাধীনতার স্বপ্ন, আর আমি তখন ওর প্রেমে 
পাগল। দুজন দুই মেরুতে। মাঝে মাঝে অবশ্য আসত।
দেখা হতো, কথা হতো না। মেসোমশাইয়ের সঙ্গে 
সাংকেতিক ভাষায় কথাবার্তা হতো। বুঝতে পারতাম 
না। একদিন ছোটন হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে মাসিকে
বলল, "বকুল"। তারপরেই বেরিয়ে চলে গেল।
আমার ডাকনাম বকুল। আমার মন তখন 
উথালপাথাল করতে শুরু করল। তাহলে ছোটন 
আমাকে ভালবাসে! তাই আমাকে খুঁজছিল! 
আমি বোকার মত ভেবে বসলাম। আমি বুঝতে পারিনি, বকুল তাদের সাংকেতিক ভাষা ছিল। 
পরে বুঝেছিলাম। 
আমি একদিন ছোটনকে একা পেয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "তুমি কি কিছুই বুঝতে পার না।" 
ছোটন আমার কথা শুনে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। "সব বুঝতে পারি সৌদামিনী। কিন্তু আমার কিছু করার নেই। আমাদের মতো মানুষের প্রেম, ভালোবাসা, ঘর, সংসার থাকে না। যে ব্রত আমি নিয়েছি সেটা আমাকে পালন করতেই হবে। আমাকে তুমি দুর্বল করে দিও না। আমার ভালোবাসা শুধু তোমাকে ঘিরে নয় সৌদামিনী। আমার প্রেম, আমার ভালোবাসা সমগ্র দেশের মানুষের জন্য।"
      তাহলে তুমি বলে দাও আমি কি করব? আমার কি করা উচিৎ? 
     একজন দেশপ্রেমিকের স্ত্রীর যা করা উচিত, তুমি তাই করবে। 
    এই কথা শুনে আমি থাকতে পারিনি। চোখে জল এসে গেলো, আর মনে মনে খুব গর্ব হচ্ছিল। আমি ছোটনকে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরেছিলাম। ওই "স্ত্রী" শব্দটা শুনে। যে দিন সিন্দুর পরে ওর বৌয়ের অভিনয় করেছিলাম, সে দিনই মনে মনে ওকে স্বামী বলে মেনে নিয়েছিলাম। ছোটন আমার হাত দুটো ছাড়িয়ে বলেছিল"  আমাকে 
শক্তি জোগাও, কিন্তু দুর্বল করে দিও না।" 
তুমি আমার শক্তি, পথ চলার পাথেয়। তোমার চোখে জল মানায় না। তোমার চোখে জল ঝরলে আমার পথ পিচ্ছিল হয়ে যাবে। যে দিন ভোরের পূব আকাশ 
স্বাধীনতার সূর্যের আলোয় লাল হয়ে উঠবে, সে দিন তোমার সঙ্গে আবার আমার দেখা হবে। আজকের মত আমাকে বিদায় দাও। 
 আমি বললাম, "আর যদি দেখা না হয়" । তখন 
কি হবে? আমি কি করবো? 
   ওই বকুল গাছের তলায় আমি শুয়ে থাকব, আর 
বকুল ফুল আমার গায়ের উপর একটা একটা করে ঝরে পড়বে। প্রাণ ভরে বকুল ফুলের গন্ধ আর স্পর্শ অনুভব করবো। ওইখানেই প্রতিদিন তোমার সঙ্গে আমার কথা হবে। 
আমি যে বকুল ফুল খুব ভালোবাসি "বকুল"। 
বলতে বলতে সৌদামিনীর কোটরাগত চোখ থেকে ঝরে পড়ল জল । 
     যে ছেলেমেয়েরা গল্প শুনতে বসেছিল, তারাও 
চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি। ঠাকুমা তারপর কি হলো! 

      তারপর! বলতে বলতে সৌদামিনীর ঝুলে যাওয়া
ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠল। ভারতের ভাগ্যাকাশে স্বাধীনতার সূর্য লাল হয়ে দেখা দিল। কিন্তু ছোটন
দেখতে পেলো না। তার কয়েক মাস আগেই ছোটন চলে গেল। 
     --- ঠাকুমা ছোটন কি ধরা পড়েছিল? কৌতুহল ভরা চোখ নিয়ে জিজ্ঞেস করল ছেলেরা। 
---- পুলিশ পাগলা কুকুরের মত খুঁজে বেড়াচ্ছিল ছোটনকে। আমি জানতাম ছোটনকে ধরা অত সহজ 
নয়। ছোটন যে ব্রত নিয়েছে, সেটা পালন সে 
করবেই। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকের অভাব ছিল না।
কেউ খবর দিয়ে দিয়েছিল। ছোটন বুঝতে পেরেছিল
কিছু ঘটতে চলেছে। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার 
আগেই নিজেকে শেষ করে দিল। সৌদামিনীর গলা কেঁপে  উঠল। কারও মুখে কোনো কথা নেই। সবাই 
চুপচাপ। কোনো ভাষাই মুখ দিয়ে বেরোচ্ছে না। 
সবাই তাকিয়ে আছে সৌদামিনীর দিকে।
সবাই সৌদামিনীর দিকে এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে 
ধরলো। 
        তারপর থেকেই আপনি এই গাছটাকে আগলে রেখেছেন! এত বছর ধরে! 
    হ্যাঁ গো মেয়ে, তখন থেকেই আমি আগলে রেখেছি। তখন অবশ্য এই রকম ছিল না। এই বকুল গাছের তলায় বসে ওরা সব কাজ কর্ম করত। এইখানে একটা পোড়োবাড়ি ছিল, কোনো মানুষজন এখানে আসত না। এই যে রাস্তা ঘাট দেখছ, এই সব কিছু ছিল না।
সন্ধ্যার সময় শেয়াল ডাকত। এইগুলো সব পরে 
হয়েছে। আর এই পুকুরটা দেখছ, এটা একটা ঝোপঝাড়, খানাখন্দে ভরা একটা জঙ্গলের মত 
ছিল। পরে কেটে পরিষ্কার করে পুকুর করা হয়েছে।
এই গাছটা অনেক কিছুর সাক্ষী। দেশ স্বাধীন হবার পর এই গাছটা বাঁধানো হয়েছিল। এই বেদীর নীচে শুয়ে আছে 
ভারত মাতার এক বীর সন্তান। এটাই আমার স্বামীর স্মৃতি। আমি রোজ পুকুর থেকে জল এনে বেদীটাকে
ধুয়ে ধূপ ধুনো দিই । এখানে এলে আমি শান্তি পাই।
মাঝে মাঝে এই বেদীর উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে 
পড়ি। মনে হয় আমার স্বামীর কোলে মাথা রেখে 
ঘুমোচ্ছি। এই ভালোবাসা নিয়ে আমি বেঁচে আছি।

    আচ্ছা, আপনি তো বিয়ে করতে পারতেন? করলেন না কেন? খুব আগ্রহ সহকারে জিজ্ঞেস করে ছেলেমেয়েরা। তা ছাড়া ওটা তো বিয়েই ছিল না? 
     ফোকলা মুখে হেসে ফেললেন সৌদামিনী। 
তোমাদের কাছে বিয়ে কি? আমি জানি না। প্রেম 
কি? তাও জানি না। ভালোবাসা কি? জানার 
চেষ্টা করিনি। কিন্তু আমার কাছে ওটাই প্রেম, ওটাই 
ভালোবাসা, ওটাই বিয়ে। তার বৌ হয়ে আমি আজও
বেঁচে আছি। আমার কাছে এই জায়গাটা একটা তীর্থস্থান। এবার আমি যাই গো! অনেক বকবক 
করলাম তোমাদের সঙ্গে। ওই যে দেখছ বাড়িটা, ওটা আমার মাসির বাড়ি। ওইখানেই তো ছোটনের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। আমি এখন ওই বাড়িতেই থাকি।
তোমরা যাবে আমার সঙ্গে? 
  --- না ঠাকুমা। আজ নয়। আর একদিন যাবো 
আপনার বাড়িতে। এখন আমরা বাড়ি ফিরব।
সৌদামিনী লাঠি নিয়ে হেঁটে চললেন নিজের বাড়ির দিকে। ছেলেমেয়েরা তাকিয়ে আছে সৌদামিনীর দিকে। কি অপূর্ব! গভীর প্রেম না থাকলে এইভাবে কোনো মহিলা জীবন কাটিয়ে দিতে পারে! ঠাকুমা 
আপনিই ছোটনের মত মানুষের স্ত্রী হবার যোগ্য! 
সত্যি, একেই বলে প্রেম! আর ছোটনের ছিল দেশপ্রেম!

আর্কাইভ