• ঢাকা শুক্রবার
    ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

সন্ধ্যা যখন জবা

প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২২, ০৩:৫২ পিএম

সন্ধ্যা যখন জবা

কেকা দাস

সন্ধ্যা চোখ মেলে দেখল রোদ ঢুকে গেছে ঘরে। তার মানে, বেলা ৯টা তো হবেই... ধড়মড় করে উঠতে গিয়ে দেখল পল্টু পাশে শুয়ে.... ও তার মানে কাল মালটা বেশি টানা হয়ে গেছে.... তাই দরজায় সিটকিনি লাগাতে ওর ভুল হয়ে গেছে.... ক্যাত করে এক লাথি মেরে বিছানা থেকে পল্টুকে ফেলে বললে, যা ভাগ শালা... সুযোগ পেয়ে ঘরে ঢুকে পড়েছিস....।
হুড়মুড় করে বিছানার চাদর, সার্ফ আর বালতি নিয়ে  টাইমকলে গিয়ে লাইন লাগিয়ে ঘষে ঘষে সারারাতের ময়লা ধুতে লাগল। গামছা গায়ে দিয়ে শাড়ি, চাদর সাবান কাচা সামনের তারে শুকিয়ে দিয়ে ঘরে এসে ওর ছোট্ট মন্দিরে ধুপধুনো দেখিয়ে ওর প্লাস্টিকের প্যাকেটে রাখা লাল-সাদা ছাপা শাড়ি পরে ঘর বন্ধ করে একটু এগিয়ে টোটোতে উঠে বসল....

 এখন ও সন্ধ্যা থেকে জবা....।

টোটো থেকে নেমে স্টেশনে এসে ট্রেন ধরে কল্যাণপুর স্টেশনে  নেমে বাজার থেকে আজ একটু চিকেন, আলু, পেঁয়াজ, আদা ও রসুন কিনে বাড়ির দিকের রিকশা ধরে বাকি পথ হাঁটা লাগাল।
কাল এক বাবু মালের বোতল হাফ খেয়ে, ফোন আসতে হুড়মুড় করে বেরিয়ে গেছিল.... অনেক দিন হলো রতন মদ খায় না। আজ ওকে এই বোতল দিলে সঙ্গে ঝাল ঝাল মাংস পেলে বেচারা খুশি হয়ে যাবে।
ঘরে ঢুকতেই রতন বললে, শালি এতক্ষণ কী করছিলি! রাতে ফুর্তি করে হয় না!
বেলা কত হয়েছে দেখেছিস!
জবা কিছু না বলে বালতি নিয়ে টাইমকল দিয়ে জল এনে দিলে রতন পাছা ঘষতে ঘষতে সেই জলে দাঁত মুখ ধুয়ে স্নান করে নিলো.... এটাই রতনের রোজকার রুটিন।
জবা এতক্ষণে আবার স্নান করে, পরে আসা শাড়ি ছেড়ে ধুয়ে ঘরে পরার শাড়ি পরে ঠাকুরকে জল, বাতাসা দিয়ে ফেলে উনুন ধরিয়ে ফেলেছে....রতন ঘরে এসে দেখল জবার চা চাপানো হয়ে গেছে....
রতন থলি উল্টে চিকেন দেখে লোভে তার চোখ চকচক করতে লাগল.... সে কোনো কথা না বাড়িয়ে চা খেতে খেতে রসুন ছুলতে লাগল।
আলু পেঁয়াজ কেটে দিয়ে বললে, জম্পেস ঝাল দিয়ে কষা করে রান্ধ দেখি.....
জবা চুপচাপ কাজ করে। সে ভাত নামিয়ে মাংস মেখে কড়াইতে বসিয়ে চাপা দিয়ে রাখল....  সিদ্ধ হতে কিছুটা মাংস সরিয়ে রেখে জল ঢেলে ঝোল টগবগ করে ফুটতে দিলো।
ঝোলের গন্ধে রতনের মন আনচান করে উঠলে জবার প্রতি ওর ভালোবাসা ফুটে উঠতে গিয়েও থেমে গেলো....
হারামজাদি যতই বলুক আয়ার কাজ করে.... কিছুতেই না.... ও শালির গায়ে পরপুরুষের গন্ধ!
যতই সাবান মেখে সাফ সুতরো হয়ে আসুক.... ওর গায়ে ও গন্ধ পায়।
রতন এমন ছিল না। ওদের হাসিখুশি পরিবার ছিল। যেদিন রতন এক্সিডেন্ট করার পর ওর দু’পা কাটা পড়ল, সেদিন থেকে ওদের সংসারে দুর্ভোগ শুরু হলো।
ওদের একমাত্র ছেলে এক আশ্রমের হোস্টেলে থাকে.... ছুটি পড়লেও রতন ওকে বাড়ি আনতে চায় না।
ওর ভয় করে ছেলে যদি মায়ের রূপ দেখে ফেলে!
জবা আয়ার কাজ করতেই গেছিল। করছিলও তাই.... এক বাড়ি থেকে চোরের অপবাদ দিলে ওই বাড়ির ঠিকে ঝি এই কাজের সন্ধান এনেছিল.... জবার আর কোনো উপায় ছিল না.... এই পাড়াতে ওর নাম সন্ধ্যা।
জবার মাঝে মাঝে রতনের আদর পেতে ইচ্ছে করে .... স্বামী-সুখ পেতে সব নারীই চায়... ওরও ইচ্ছে হয়, রতনের বুকে মাথা রেখে উষ্ণতা নিতে..... কিন্তু ও মনে প্রাণে জানে, রতন ওকে ঘৃণা করে।
জবার জানতে ইচ্ছে করে... ওর গায়ে পরপুরুষের গন্ধ, রতন পায় কিন্তু ওর আনা খাবারে। বাজারে....রান্নায় সে গন্ধ পায় না কেন!

জবাও কিন্তু ঘরে মেয়েদের গন্ধ পায়, বিছানাতে, বালিশে এক অন্যরকম গন্ধ। বালিশে মেয়েদের তেলমাখা চুলও পেয়েছে....    দুপুরে রতনের পাশে শুয়ে এক অজানা গন্ধে ওর গা গুলিয়ে উঠেছে, কিন্তু সাহস করে জিজ্ঞাসা করতে পারেনি এই অজানা গন্ধের উৎস কোথা থেকে!
মাঝে মাঝে ওর ব্যাগ থেকে টাকা উধাও হয়ে যায়.... সেটা কেন! সেটাও রতনকে জিজ্ঞাসা করেনি...কখনও....।

জবা আসলে জানেই না যে রতনের সাথে এই পাড়ার মেয়ে সুবলার ছোটবেলা থেকেই একটা সম্বন্ধ ছিল। সুবলার বাপ কারখানায় কাজ করা রতনের সাথে বিয়ে দেবে না বলেই মেয়েকে একটু দূরে বিহারে বিয়ে দিয়েছিল...
সুবলা ভালোই ছিল....সচ্ছল পরিবারে.... এখানে বাপের বাড়ি এলে অহংকারে মটমট করত, ফলে তখন রতনের দিকে ভুলেও তাকাত না।

পাড়ার লোকেরাও ওদের প্রেমকাহিনি সুবলার চলনবলন দেখে ভুলে গেছিল।
সুবলা শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরে এলো। সেই সময়েই রতন পা হারিয়ে হাসপাতাল থেকে সদ্য ফিরেছে।
সুবলা ফিরল স্বামী হারিয়ে,সর্বস্বান্ত হয়ে...স্বামীর হঠাৎ মৃত্যুর পরে.....সুবলার সন্তান ছিল না। তাই পরিবারের লোকজন সম্পত্তির ভাগ না করেই সুবলাকে মিথ্যে দুর্নাম দিয়ে প্রায় এক কাপড়ে ঘর থেকে বিদায় দিয়ে ট্রেনে বসিয়ে দিলো।
সুবলা বাপের বাড়িতে আসত ঝলমলে হয়ে, সেবার ফিরল সাদা সিঁথি আর সাদা থান পরে....

সুবলা যখন ফিরল, তখন জবা হন্যে হয়ে দুবেলা ভাতের জন্য কাজ খুঁজছে।

সুবলা প্রথমে এলো অসুস্থ রতনকে দেখতে.... জবার অগোচরে.... পড়ে আসাটা বাড়তে বাড়তে নিয়মিত হয়ে পড়ল।
জবা সুবলার বাড়ির পাশের রাস্তা থেকেই  টোটো ধরে স্টেশনে ট্রেন ধরার জন্য যেত, তাই সুবলা অনায়াসে জবার বেরোনোটা বুঝতে পারত।

রতনের পা কাটা গেছিল, আর সব ঠিক ছিল। তার শরীর জাগতো, কিন্তু রাতজাগা ক্লান্ত জবার ওপর চড়াও হতে গেলে জবার ধাক্কাতে মনে মনে ফুসত..… সুবলা আসাতে কখন যেন আনমনে দুটো শরীর এক হতে লাগল.... নিজেরা প্রথমে চমকে গেলেও পরে সেটা নিয়মে দাঁড়াল।
জবা মাঝে মাঝে গন্ধ পেত... মনে মনে ভাবত তা কী করে হয়! কে আসবে!কী দেখে আসবে! কী পেতে আসবে!

সন্ধ্যার কাজের জায়গায় এনজিও থেকে কিছু দিদি আসত তাদের সাহায্যে ছেলেকে এক হোস্টেলে দিয়েছিল.... রতনের মুখ খারাপের জন্য ও মাঝে মাঝে গিয়ে কেয়াদির সাহায্যে গিয়ে দেখে আসে।
কেয়াদি এই সংলাপ এনজিওর সর্বেসর্বা.... জবার সব মনের কথা ওনাকে বলে.... জবার ছেলে জয়ন্ত, পড়াশোনায় খুব ভালো.... কেয়াদির সহায়তায় ক্লাস সেভেনে পড়ে..... জবা যখন ছেলের সাথে দেখা করতে যায়, তখন ছেলের সাথে কথা বলে সে এতদিনের জমানো গ্লানি, ক্লেদ সব ভুলে যায়....তখন মনে মনে ভাবে- বলুক লোকে আমায় খারাপ..... ওর বাবা আমায় নিয়ে খারাপ কথা বলুক.... এই ছেলের জন্য আমি সব ত্যাগ করতে পারি।
কেয়াদির সাহায্যে রতন বেতের ঝুড়ি, মোড়া বানানোর কাজ পেলো....মালপত্র সব বাড়িতে দিয়ে নিয়ে যাবে .... ও শুধু বানাবে।
বেতের কাজ জানা লোক এসে ট্রেনিং দিয়ে গেল.... সব কেয়াদির এনজিওর সাহায্যে.... কেয়াদির বক্তব্য অলস মাথা.... শয়তানের কারখানা তাই রতন যদি কাজ করে তখন ও তোর মর্ম বুঝবে।

জবা যখন সংসারের সব কাজ সেরে দুপুরে ভাত খেয়ে অকাতরে ঘুমায়, তখন জবার না ফর্সা না কালো গায়ের রঙ, ঢলঢলে মুখ, বেশ বাঁধুনি শরীর আর মুখ হা করা ঘুম দেখে আদর করতে ইচ্ছে করে.... একটু মাথায় হাত রেখে হাত বুলাতে ইচ্ছে করে.... জড়িয়ে ধরে ওর শরীরের ওম নিতে ইচ্ছে করে.... পরক্ষণে মনে মনে ভাবে- সাত ভাতারের এঁটো করা শরীর! ঘৃণায় সরে যায়..... কখনও ভাবে না জবার আনা খাবার খেয়ে ও তো দিব্য বেঁচে আছে.... কই ওর আনা খাবারে তো ঘৃণা করে না.... শুধু ওকে ছুঁয়ে দেখতেই ঘৃণা....
জবার মাঝে মাঝে খুব মন খারাপ হয়, সব কাস্টমার তো ভালো ব্যবহার বা মনের মতো হয় না... যখন অত্যাচারটা তীব্র হয়, তখন ওর
বেঁচে থাকার ইচ্ছেও চলে যায়.... শুধু ভাবে- মরে গেলে জয়ন্তের কী হবে! 
রতনের কথাও ভাবে.....শরীরের ক্ষিদে মিটানোর লোক পাবে, কিন্তু পেটের ক্ষিদে! সে যে বড় মারাত্মক....বেতের কাজ কি জবা না থাকলে এনজিও থেকে আর দেবে!
মাঝে মাঝে মারাত্মক অভিমান হয় এই পৃথিবীর ওপরে.....
এনজিওর দিদিরা বলে, তুই অন্য কাজ খোঁজ..... নিজে কিছু করার চেষ্টা কর...... কোনো ট্রেনিং নে..... 
জবা কিছুদিন ধরে তাই সেলাই শিখছে.... সেলাইতে মাপজোখ আছে ....অঙ্কের মতন....অঙ্ককে ছোটবেলায় ভয় পেত, এখন সেলাই করতে গিয়ে আর ভয় লাগে না.....বেশ লাগছে। এনজিও থেকে কেয়াদি বলেছে, সেলাই শেখা শেষ হলে ওনারা ওকে সেলাই মেশিন কিনে দেবে.... ওরা কিছু কাজ দিতে চেষ্টা করবে আর বাকিটা জবাকেই খুঁজে নিতে হবে।
সন্ধ্যে থেকে রোজগার, বাড়ি এসে সংসারের কাজ... তারপর সেলাইয়ের স্কুল... এর মাঝে যেটুকুন সময় পায়... ও অঘোরে ঘুমায়।
সেদিন খুব বৃষ্টি পড়ছিল, রতন একবারই কাজে যেতে মানা করল.... বলল, এই বৃষ্টিতে বেরোবি? অবশ্য এই বৃষ্টিতেই তোর কাস্টমার বেশি হবে.... যা সাত ঘাটের জল খেয়ে আয়....।
রতনের একবার না বলাতে জবা ... যাবে না ভেবেছিল, মনটা কেমন কু ডাক ডাকছে.... শেষের কথাগুলো শুনে দাঁতে দাঁত চেপে বেরিয়ে পড়ল।
রাস্তা সুনসান, টোটোর দেখা নেই... অনেকক্ষণ পর একটা টোটো দেখে উঠে পড়ল...
কিছুটা গিয়ে কী একটা অসুবিধে হওয়ার টোটো ড্রাইভার বললে, দিদি আর যেতে পারব না গো, আমায় বাড়ি যেতে হবে।
বৃষ্টি পড়ছে সাংঘাতিক, এদিকটা খুব নির্জন.... জবা শরীর বিক্রি করে খায়.... তবুও সে তো মেয়েই...  
রাস্তার পাশে নতুন ফ্ল্যাট উঠছে... কতগুলো বাইক বৃষ্টিতে ভিজছে.... অন্ধকার ফ্ল্যাট থেকে একটি মেয়ের গলা ভেসে এলো, বাঁচাও বাঁচাও...কে আছো আমায় বাঁচাও....
জবা একবার ভাবল, মরুকগে যাক..
পরমুহূর্তেই ভাবল, মেয়েটি কী দোষ করেছে... ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে দেখল, চারজন ছেলে, ঘরে একটা ক্যারম বোর্ড আর মিটমিটে আলো.... জবা ওদের মুখ চেনে, কিন্তু নাম জানে না...
বিদ্যুতের আলো মেয়েটার মুখে পড়লে মেয়েটার  মুখ স্পষ্ট হলে জবা চমকে উঠল.... এই এলাকার বিরোধী দলের নেতার একমাত্র মেয়ে....জবা শুনেছে, মেয়েটি খুব ভালো রেজাল্ট করেছে... হয়তো পড়তে গিয়েছিল.... কেন যে বাবা-মা এই দুর্যোগে পড়তে পাঠায়! কে জানে!
সাহস করে এগিয়ে গিয়ে বললে, ওকে ছেড়ে দে, তোরা ধরা পড়লে কোনো নেতা বাঁচাতে পারবে নারে.... ছেলেগুলো মেয়েটিকে যখন উঠিয়েছিল, তখন বুঝতে পারেনি.. কার মেয়ে! পরে বুঝতে পারলেও ছাড়েনি... তখন দু পাত্তর পেটে পড়ে গেছে.... আর লোভ সামলানো দায়...
ওরা বলল, মুখের গ্রাস ফেলে দেবো! তবে তুই আয়... তাহলে ওকে ছাড়তে পারি...
জবা এগিয়ে গিয়ে মেয়েটিকে এক ধাক্কা মেরে দরজার দিকে দিয়ে বলল, যা পালা.... সোজা বাড়ি যাবি।
ভেবেছিল মেয়েটি বাড়ির পথে লোক পেলে ডাকতে পারে বা ফোন থাকলে ফোনও করতে পারে.... তারা তবে জবাকে রক্ষা করতে পারে....।
মেয়েটি আকস্মিক আঘাতে এতটাই ট্রমাতে ছিল, বাড়ির দরজায় গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

জবা অনবরত চারজনের কাছে ধর্ষণ হতে হতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ধর্ষকরা চলে যাওয়ার সময় একজনের মনে হয়েছিল জবা চিনতে পেরেছে....সেই ভেবে ফেলে রাখা বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে যায়।
জবা জ্ঞান হারায়.....
জবার জ্ঞান ফিরলে সে পেট ঘষে ঘষে বড় রাস্তার দিকে এগিয়ে চলতে গেলে...
ওই ছেলেগুলো ফিরে দেখতে আসে মহিলা মরেছে কিনা! জবাকে ওরকম অবস্থায় দেখে ওরা বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে যায়, যতক্ষণ না পর্যন্ত জবার নড়া না থেমে যায়....

জবার নাকের কাছে হাত নিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে ওরা বাইকের পেছনে উঠিয়ে রেললাইনের ধারে এক জলাভূমিতে ফেলে যায়।

পাঁচ দিন পর বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে পুড়তে গিয়েও এনজিওর কেয়াদির করা ডায়েরিতে লাশ শনাক্ত হয়ে পাড়ার আর এনজিওর সহযোগিতায় পোড়ানো হয়।
জবার মৃত্যুতে একজনেরই ক্ষতি হয়.... জয়ন্ত অনাথ হয়ে যায়।
জবার কাজের দিন সেই মেয়েটি আসে ফুলের মালা নিয়ে.... মালা পরিয়ে দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে.... জবার পরিণতি দেখে ওর বাবা-মা শিউরে ওঠে.... অনেক থানা পুলিশ হয়... কিন্তু অল্প আলোয় মেয়েটি কাউকে চিনতে পারেনি...  এ ছাড়া বিপরীত দলের চাপেও খানিকটা.....  তাই কেস ওখানেই খারিজ হয়ে যায়।
রতনের দুদিনের শোক.... সে আরও উদাম হয়ে সুবলার সাথে মেশে।
সুবলার কারসাজিতেই একরাতে পাড়ার লোকেরা ওদের একসাথে থাকার সময় দরজায় শিকল তুলে পরদিন রতনকে দিয়ে সুবলার মাথায় সিঁদুর তুলতে বাধ্য করে.... কারসাজি করার দরকার ছিল না, রতন মুখিয়েই ছিল, এ সম্পর্কের জন্যই.....।
জয়ন্তর আর বাড়ি ফেরা হয় না। সে কেয়ামাসির তত্ত্বাবধানেই পড়াশোনা করছে.... দুচোখে তার, মায়ের বোনা স্বপ্ন..... তাকে বড় পুলিশ অফিসার হতেই হবে, মায়ের মৃত্যুর অপরাধীদের ধরতেই হবে।

ডিআইএ/এফএ
আর্কাইভ